মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই ২০২৬

পরীক্ষামূলক সংস্করণ

জাতীয়

আদালতে কনস্টেবল জয়ের হুংকার থেমে যায় রিমান্ডে

কনস্টেবল শোয়াইবুর রহমান জয়। চাকরি করছেন ১৬ বছর ধরে। এরমধ্যে ১২ বছর তিনি ইউনিফর্মে কোনো ডিউটি করেননি। পুলিশ নাট্যদলের অভিনেতা হিসাবে শেখ কামালের চরিত্রে অভিনয় করতেন। অভিনয় করতে করতে বাস্তবেও তিনি ছিলেন শেখ কামালের ভূমিকায়। শেখ কামালের মতোই গোঁফ। বিভিন্ন উৎসব-পার্বণে তিনি শুভেচ্ছা জানিয়ে যেসব পোস্টার ও ব্যনার তৈরি করেছেন সেগুলোর মূল স্লোগান ছিল-‘জয় বাংলা/জয় […]

নিউজ ডেস্ক

১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৪, ১৬:৩১

কনস্টেবল শোয়াইবুর রহমান জয়। চাকরি করছেন ১৬ বছর ধরে। এরমধ্যে ১২ বছর তিনি ইউনিফর্মে কোনো ডিউটি করেননি। পুলিশ নাট্যদলের অভিনেতা হিসাবে শেখ কামালের চরিত্রে অভিনয় করতেন। অভিনয় করতে করতে বাস্তবেও তিনি ছিলেন শেখ কামালের ভূমিকায়। শেখ কামালের মতোই গোঁফ। বিভিন্ন উৎসব-পার্বণে তিনি শুভেচ্ছা জানিয়ে যেসব পোস্টার ও ব্যনার তৈরি করেছেন সেগুলোর মূল স্লোগান ছিল-‘জয় বাংলা/জয় বঙ্গবন্ধু’। পোস্টার-ব্যানারের ওপরের দিকে শোভা পেত শেখ মুজিবুর রহমান ও শেখ হাসিনার ছবি।

 

প্রজাতন্ত্রের একজন কর্মচারী হিসাবে তার এ ধরনের পোস্টার ব্যানার নিয়ে বিভিন্ন সময়ে সমালোচনা হলেও এতদিন তার কিছুই হয়নি। ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর পুলিশে বিদ্রোহের চেষ্টা হয়েছিল জয়ের নেতৃত্বেই। তিনি সিনিয়র পুলিশ সদস্যদের কোনো তোয়ক্কা করতেন না। এমনকি আইজিপিকে তিনি ডাকতেন ‘আইজি সাব’ বলে। ‘পরাক্রমশালী’ এই কনস্টেবল অবশেষ ধরা পড়েছেন। রোববার তাকে গ্রেফতারের পর সোমবার তিন দিনের রিমান্ডে নেওয়া হয়েছে।

 

গ্রেফতারের পর আদালতেও তিনি দিয়েছেন হুংকার। তবে রিমান্ডে নেওয়ার পর থেমে গেছে সেই হুংকার। তিনি অনেক চাঞ্চল্যকর তথ্য দিচ্ছেন। সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র এসব তথ্য জানিয়েছে। রিমান্ডে জয়ের দেওয়া তথ্যের বরাত দিয়ে ঢাকা মহানগর পুলিশের সংশ্লিষ্ট এক কর্মকর্তা বলেন, ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের পর যে নতুন সরকার গঠন করা হয় সেই সরকারকে বিপদে ফেলার চেষ্টা করা হয়েছিল। জয় জানিয়েছে, ১৫ বছরে পুলিশে বেশকিছু লোক তৈরি হয়েছে, যারা পুলিশের পোশাক পরলেও কাজ করেছেন দলীয় নেতাদের মতো। তারা পুলিশ নামধারী মটিভেটেড দলীয় কর্মী। সরকার পতনের পর ওইসব পুলিশ সদস্যই পুলিশে বিদ্বেষ ছড়ানোর নির্দেশ দিয়েছে। তাদের নির্দেশেই তিনি পুলিশে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা চালিয়েছেন।

রিমান্ডে জয় জানিয়েছেন, ডিএমপির সাবেক কয়েকজন পুলিশ কর্মকর্তার নির্দেশনা পেয়েই তিনি বেপরোয়া হয়ে উঠেন। সরকার পতনের পর পরই রাজারবাগ পুলিশ লাইনে বিদ্রোহের চেষ্টা চালিয়েছেন। আইজিপি ময়নুল ইসলাম ও ডিএমপি কমিশনার মো. মাইনুল হাসানসহ সিনিয়র কর্মকর্তা ঘটনাস্থলে গিয়ে আশ্বস্ত করার পরও কেন রাজারবাগ অশান্ত ছিল-এমন প্রশ্নের জবাবে জয় ডিবিকে জানিয়েছে, ‘বিশেষ উদ্দেশেই পুলিশে অস্থিরতা সৃষ্টির প্রচেষ্টা চালানো হয়েছিল।’ রাজারবাগে আন্দোলন জোরদার করতে এসপি ও ইন্সপেক্টর পদমর্যাদার কর্মকর্তাদের মোবাইলে ফোন করেও আন্দোলনে যোগদান করার জন্য হুমকি দেওয়া হয় বলে জয় স্বীকার করেছেন।

পুলিশ জানিয়েছে, জয় ও তার সহযোগীরা বিভিন্ন শ্রেণি ও সম্প্রদায়ের মধ্যে শত্রুতা সৃষ্টি এবং সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্ট করতে উসকানিমূলক বার্তা পোস্ট দিয়েছে। হঠাৎ পুলিশের ‘নেতা’ বনে যাওয়া কনস্টেবল জয়ের অতীত কর্মকাণ্ড খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ডিবি জানায়, পুলিশের পলাতক শীর্ষ কর্মকর্তাদের বিচার এবং তাদের সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করার দাবি যখন জোরালো হচ্ছে তখন নেতা সেজে সারা দেশের পুলিশ সদস্যদের বিভ্রান্ত করার ব্যর্থ চেষ্টা চালিয়েছেন জয়।

ড. ইউনূসের নেতৃত্বে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠনের পর পুলিশের একাংশের কর্মবিরতি চলাকালে হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে জয়ের বার্তা ছিল, ‘কর্মবিরতি চলছে, চলবে; কেউ গায়ে ইউনিফর্ম লাগাবেন না, নিজেদের নিরাপত্তার স্বার্থে লাইনে সিভিল পোশাকে ডিউটি চলবে, লাইনের বাইরে কেউ ডিউটিতে যাবেন না, যে যেখানে আছেন সে সেখানে অবস্থান করবেন, ঢাকার মধ্যে যারা আছেন তারা রাজারবাগে উপস্থিত হবেন, ১১ দফা দাবি বাস্তবায়ন না হওয়া পর্যন্ত পুলিশের স্বাভাবিক কার্যক্রম বন্ধ থাকবে-ভয়, হুমকি, গরহাজির একযোগে প্রতিহত করবেন।’

ঢাকা মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার (প্রশাসন) ফারুক আহমেদ বলেন, পুলিশে চাকরি করতে হলে অবশ্যই শৃঙ্খলা মেনে চলতে হবে। এটা সিবিএ অফিস না। যখন তখন আন্দোলনে নামা যাবে না। অনেকের দাবি-দাওয়া থাকতে পারে। সেগুলো যথাযথ প্রক্রিয়ায় উপস্থাপন করতে হবে। পুলিশের কল্যাণে যা যা প্রয়োজন সবই করা হবে। কিন্তু বিশৃঙ্খলা সহ্য করা হবে না। তিনি বলেন, সামনের দিনগুলোতে পুলিশিং হবে জনগণের। যারা জনবান্ধব পুলিশিং করতে চায়, তারাই টিকে থাকবে। আর যারা কোনো বিশেষ দলের হয়ে কাজ করতে চায় তাদের জন্য পুলিশিং না। তারা চাইলে চাকরি ছেড়ে রাজনৈতিক দলে যোগ দিতে পারেন। গ্রেফতারকৃত জয়ের কাছ থেকে অনেক চাঞ্চল্যকর তথ্য পাওয়া যাচ্ছে। তদন্তের স্বার্থে এই মুহূর্তে কিছু বলা যাচ্ছে না।

জাতীয়

স্থানীয় সরকার নির্বাচনে আওয়ামী লীগসহ যেকেউ অংশ নিতে পারবে : প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা

স্থানীয় সরকার নির্বাচনে আওয়ামী লীগসহ যেকেউ নির্ধারিত মানদণ্ড পূরণ সাপেক্ষে অংশ নিতে পারবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান। মঙ্গলবার (০৯ জুন) সচিবালয়ে তথ্য অধিদপ্তরের সম্মেলন কক্ষে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।

নিউজ ডেস্ক

০৯ জুন ২০২৬, ১২:৩৬

স্থানীয় সরকার নির্বাচনে আওয়ামী লীগসহ যেকেউ নির্ধারিত মানদণ্ড পূরণ সাপেক্ষে অংশ নিতে পারবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান।

মঙ্গলবার (০৯ জুন) সচিবালয়ে তথ্য অধিদপ্তরের সম্মেলন কক্ষে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।

জাতীয়

নতুন দায়িত্ব পেলেন স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী, বিডা ও এনবিআর চেয়ারম্যান

জাতীয় ঔষধনীতি বাস্তবায়ন এবং দেশের ঔষধ খাতের নীতিগত কার্যক্রম আরও শক্তিশালী করতে ২৪ সদস্যের জাতীয় ঔষধ উপদেষ্টা পরিষদ পুনর্গঠন করেছে সরকার। নতুন পরিষদে সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী এবং সদস্য সচিব থাকবেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সচিব। একই সঙ্গে স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী, বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিডা)-এর নির্বাহী চেয়ারম্যান এবং জাতীয় […]

নতুন দায়িত্ব পেলেন স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী, বিডা ও এনবিআর চেয়ারম্যান

ছবি সংগৃহীত

নিউজ ডেস্ক

০২ জুলাই ২০২৬, ১১:৪২

জাতীয় ঔষধনীতি বাস্তবায়ন এবং দেশের ঔষধ খাতের নীতিগত কার্যক্রম আরও শক্তিশালী করতে ২৪ সদস্যের জাতীয় ঔষধ উপদেষ্টা পরিষদ পুনর্গঠন করেছে সরকার। নতুন পরিষদে সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী এবং সদস্য সচিব থাকবেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সচিব।

একই সঙ্গে স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী, বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিডা)-এর নির্বাহী চেয়ারম্যান এবং জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)-এর চেয়ারম্যানকে নতুন সদস্য হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

নতুন প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে ২১ জুন ২০২৬ তারিখে জারি করা আগের ২২ সদস্যের পরিষদ বাতিল করা হয়েছে। নতুন আদেশ অনুযায়ী, পরিষদ বছরে অন্তত দুইবার সভা করবে। প্রয়োজন হলে অতিরিক্ত সভা আয়োজন এবং বিশেষজ্ঞ সদস্য কো-অপ্ট করার সুযোগও থাকবে।

পরিষদে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের সচিব, ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তরের মহাপরিচালক, বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিনিধি, ফার্মেসি কাউন্সিল, এফবিসিসিআই, বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব ফার্মাসিউটিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ (বিএপিআই) এবং বাংলাদেশ ফার্মাসিউটিক্যাল সোসাইটির প্রতিনিধিরাও সদস্য হিসেবে রয়েছেন।

জাতীয় ঔষধ উপদেষ্টা পরিষদ সরকারের কাছে জাতীয় ঔষধনীতি বাস্তবায়ন, দেশীয় ঔষধ শিল্পের উন্নয়ন, অত্যাবশ্যকীয় ঔষধের তালিকা হালনাগাদ, ঔষধ উৎপাদন, আমদানি ও রপ্তানি-সংক্রান্ত নীতিগত বিষয়ে পরামর্শ দেবে।

পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে সমন্বয় জোরদার এবং জরুরি পরিস্থিতিতে প্রয়োজনীয় সুপারিশ প্রদানেও পরিষদ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।

জাতীয়

মায়ের গলিত লাশ উদ্ধার, মুখ খুললেন বুয়েট অধ্যাপক ছেলে: আমার মা সিজোফ্রেনিয়ার রোগে আক্রান্ত

গত ৩১ মে রাজধানীর মিরপুরে নিজ বাসা থেকে উদ্ধার হওয়া ৭৫ বছর বয়সী নূর জাহান বেগমের মরদেহ। তার মৃত্যুকে কেন্দ্র করে দেশজুড়ে আলোচনার মধ্যে মুখ খুললেন নিহতের ছোট ছেলে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) অধ্যাপক একেএম আশিকুর রহমান। তিনি পরিবারের বিরুদ্ধে ছড়ানো বিভিন্ন তথ্যকে মিথ্যা বলে দাবি করেছেন। বুধবার (৩ জুন) গণমাধ্যমে দেওয়া বক্তব্যে তিনি এই […]

নিউজ ডেস্ক

০৪ জুন ২০২৬, ১১:১৯

গত ৩১ মে রাজধানীর মিরপুরে নিজ বাসা থেকে উদ্ধার হওয়া ৭৫ বছর বয়সী নূর জাহান বেগমের মরদেহ। তার মৃত্যুকে কেন্দ্র করে দেশজুড়ে আলোচনার মধ্যে মুখ খুললেন নিহতের ছোট ছেলে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) অধ্যাপক একেএম আশিকুর রহমান। তিনি পরিবারের বিরুদ্ধে ছড়ানো বিভিন্ন তথ্যকে মিথ্যা বলে দাবি করেছেন।

বুধবার (৩ জুন) গণমাধ্যমে দেওয়া বক্তব্যে তিনি এই দাবি করেন।

৭৫ বছর বয়সী নূর জাহান বেগমের মরদেহ গত ৩১ মে রাতে উদ্ধার করে পুলিশ। তিনি মেয়ে ফাতিমা নাসরীন সুলতানার সঙ্গে বসবাস করতেন। মরদেহ উদ্ধারের পর বাসার অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ এবং বৃদ্ধার শারীরিক অবস্থার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে, যা ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়। বৃদ্ধার এক ছেলে মোংলা স্থলবন্দরের যুগ্ম সচিব। আরেক ছেলে বুয়েটের শিক্ষক। তারা মায়ের কাছে থাকতেন না।

নিহতের ছেলে বুয়েটের অধ্যাপক একেএম আশিকুর রহমান বলেন, মায়ের মৃত্যুতে পরিবার এমনিতেই মানসিক আঘাতের মধ্যে রয়েছে। এর মধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভিন্ন বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রচার তাদের আরও বিপর্যস্ত করে তুলেছে। মায়ের অবহেলার অভিযোগ অস্বীকার করে তিনি বলেন, ২০০৯ সাল থেকে দীর্ঘ সময় মা তার সঙ্গেই ছিলেন। করোনাকালেও তিনি মায়ের চিকিৎসার ব্যবস্থা করেন। ২০২৪ সাল থেকে মা তার মেয়ের সঙ্গে থাকছিলেন।

তিনি জানান, তাদের বাবা মো. আবুল কাশেম ২০০৮ সালে মারা যান। ২০১৭ সালে ফাতিমা নাসরীনের স্বামীর মৃত্যুর পর তিনি একাই মায়ের দেখাশোনা করছিলেন। ফাতিমা নাসরীনের কোনো সন্তান নেই। তার মায়ের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে সন্দেহপ্রবণতা ছিল, যা সিজোফ্রেনিয়ার উপসর্গের সঙ্গে কিছুটা মিল রয়েছে।

একইভাবে স্বামী হারানোর পর তার বোনও মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছিলেন বলে তিনি মনে করেন। তবে তাদের কাউকেই কখনো আনুষ্ঠানিকভাবে মানসিক স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞের কাছে নেওয়া হয়নি।

বাসার অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ সম্পর্কে আশিকুর রহমান বলেন, তার বোন বাইরের গৃহকর্মী রাখতে চাইতেন না। তিনি নিজে কয়েকবার সহায়তার চেষ্টা করলেও তা স্থায়ী হয়নি। এছাড়া মাও অন্যের হস্তক্ষেপ পছন্দ করতেন না। ঘটনার দিন, ৩১ মে বিকেলে ফাতিমা নাসরীন ফোন করে জানান, মায়ের কোনো সাড়া পাওয়া যাচ্ছে না। এরপর নার্স ডাকা, পুলিশকে অবহিত করা এবং পরবর্তী আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করা হয় বলে জানান তিনি।

অন্যদিকে নূর জাহান বেগমের মরদেহ উদ্ধার প্রক্রিয়ার সময় উপস্থিত থাকা পল্লবী থানার উপপরিদর্শক (এসআই) শামছুর রহমান জানান, জরুরি সেবা ৯৯৯-এর মাধ্যমে খবর পেয়ে গিয়ে তিনি বাসাটিকে বসবাসের অনুপযোগী অবস্থায় দেখতে পান। তার দাবি, মরদেহের ডান চোখ ও পিঠে পোকা ছিল। তবে আশিকুর রহমান এ দাবি অস্বীকার করেছেন।

এদিকে পচনধরা মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় মায়ের প্রতি অবহেলার দায়ে ছেলে যুগ্ম সচিব এ কে এম আনিসুর রহমানের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিয়েছে সরকার। মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষের সদস্য (প্রকৌশল ও উন্নয়ন) পদ থেকে তাকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। বুধবার (৩ জুন) জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে। প্রজ্ঞাপনে জানানো হয়েছে, আনিসুর রহমানকে পদ থেকে সরিয়ে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে সংযুক্ত করা হয়েছে।

এ বিষয়ে পল্লবী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হাসান বশির জানান, বৃদ্ধা তার মেয়ের বাড়িতে থাকতেন। একটি কক্ষে মা ও আরেকটি কক্ষে মেয়ে। রোববার বৃদ্ধার মেয়ে তাকে ডাকতে যান। সাড়া না পেয়ে তিনি একজন নার্সকে ডেকে আনেন।

তিনি ভেবেছিলেন, মা হয়তো অসুস্থ। পরে ওই নার্স রুমে ঢুকে দেখতে পান, বৃদ্ধা মারা গেছেন এবং শরীরে পচন ধরে মাংস খুলে বিছানায় পড়ে আছে। নার্স তাৎক্ষণিক বাইরে এসে লোকজনকে জানান। স্থানীয়রা ৯৯৯-এ কল দেয়। পরে পুলিশ গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠায়।

তিনি আরও জানান, বৃদ্ধার মেয়েকে দেখে কিছুটা অস্বাভাবিক মনে হয়েছে। মা ঘরে মরে পচে আছে, অথচ নাকে কোনো গন্ধ পাননি তিনি। বিষয়টি পুলিশকে ভাবিয়ে তুলছে। ময়নাতদন্তের পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন পাওয়ার পর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।