বাংলাদেশ জাতীয় ইমাম সমিতির কেন্দ্রীয় কাউন্সিল–২০২৬ ও জাতীয় ইমাম সম্মেলন গতকাল শনিবার ২৪ অক্টোবর ২০২৬ সকাল ১০টায় রাজধানীর আগারগাঁওয়ে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের ৭ম তলার মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত হয়েছে। দিন ব্যাপী ৩ টি অধিবেশনে ইমামদের সম্মেলন বিকেল পোনে ৫ ঘটিকায় শেষ হয়।
সম্মেলনে সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ জাতীয় ইমাম সমিতির সভাপতি মাওলানা কাজী আবু হোরায়রা। সমিতির সাংগঠনিক কার্যক্রম ও অগ্রগতি তুলে ধরেন সমিতির মহাসচিব মাওলানা শাহ মুহাম্মদ নজরুল ইসলাম।
সম্মেলনে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী আলহাজ্ব কাজী শাহ মোফাজ্জাল হোসাইন (কায়কোবাদ) এমপি।
বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয়-সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি জনাব রফিকুল ইসলাম জামাল এমপি; বিএনপি চেয়ারম্যানের মধ্যপ্রাচ্যবিষয়ক উপদেষ্টা জনাব ড. এনামুল হক চৌধুরী; সিলেট-৫ আসনের সংসদ সদস্য জনাব মুফতি আবুল হাসান এমপি; রংপুর-৬
আসনের সংসদ সদস্য জনাব মাওলানা নুরুল আমিন এমপি; ইসলামিক ফাউন্ডেশনের মহাপরিচালক (গ্রেড-১) জনাব মুহাম্মদ মুহিব্বুল্লাহ বাকী; দৈনিক ইনকিলাবের সম্পাদক জনাব এ এম এম বাহাউদ্দিন এবং ইসলামিক ফাউন্ডেশনের সমন্বয় বিভাগের পরিচালক জনাব মো. মহিউদ্দিন। পরিচালনায় ছিলেন মাওলানা হাবিব আহমদ শিহাব, মাওলানা এহসান উদ্দীন ও মাওলানা মুহিউদ্দিন।
সম্মেলনে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আগত ইমাম-উলামা ও সমিতির নেতৃবৃন্দ অংশগ্রহণ করেন। এ সময় সমিতির সাংগঠনিক কার্যক্রম, ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা এবং ইমাম সমাজের বিভিন্ন সমস্যা ও সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা হয়।
ধর্মমন্ত্রী বলেন, ইমামসাহেব কল্যানের কথা চিন্তা করেই প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সম্মানি ভাতার প্রবর্তন করেছেন।
অনুষ্ঠানের শুরুতে হাম-রুবেলার প্রাদুর্ভাব নিয়ন্ত্রণে বাংলাদেশ জাতীয় ইমাম সমিতির ইমাম ও খতিবদের সমন্বয়ে একটি বিশেষ ওরিয়েন্টেশন ও মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে হাম-রুবেলা প্রতিরোধে জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং এ ক্ষেত্রে ইমাম-খতিবদের ভূমিকা নিয়ে আলোচনা করা হয়।
বেলা ৩ ঘটিকায় সারাদেশে প্রতিনিধিদের প্রত্যক্ষ ভোটে সভাপতি ও মহাসচিব নির্বাচিত করা হয়। কাজী মাওলানা আবু হোরায়রা সভাপতি এবং মাওলানা শাহ মুহাম্মদ নজরুল ইসলাম সর্বোচ্চ ভোটপেয়ে পুন: নির্বাচিত হন।
ধর্মীয় সম্প্রীতি রক্ষায় ইমামদের ভূমিকার ওপর গুরুত্ব ধর্মমন্ত্রীর
ইমাম সম্মেলনে দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে আসা ইমামদের উদ্দেশে বক্তব্য দেন ধর্মমন্ত্রী। তিনি বলেন, কেউ যাতে উসকানি দিয়ে দেশের ধর্মীয় সম্প্রীতি বিনষ্ট করতে না পারে, সে বিষয়ে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে।
সমাজে ইমামদের গ্রহণযোগ্যতা ও প্রভাবের কথা উল্লেখ করে তিনি জুমার খুতবায় বিভিন্ন সামাজিক অপরাধের বিরুদ্ধে জোরালো বক্তব্য দেওয়ার আহ্বান জানান।
ধর্মমন্ত্রী বলেন, মাদক, সন্ত্রাসসহ নানা ধরনের অপকর্মের বিরুদ্ধে ইমামদের মানুষকে সচেতন করতে হবে। ধর্মীয় মূল্যবোধ ও সামাজিক দায়িত্ববোধ জাগ্রত করার ক্ষেত্রেও ইমামরা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারেন।
বেতন-ভাতা বৃদ্ধির দাবি ইমামদের
কাউন্সিল অধিবেশনে ইমাম সমিতির নেতারা নিজেদের বিভিন্ন সমস্যা ও দাবি তুলে ধরেন। এ সময় তাঁরা বেতন-ভাতা বৃদ্ধিসহ পেশাগত নানা সমস্যার সমাধানের দাবি জানান।
সম্মেলনে ইমামদের সামাজিক ভূমিকা, ধর্মীয় সম্প্রীতি বজায় রাখা এবং সমাজ থেকে অপরাধ ও অনৈতিক কর্মকাণ্ড প্রতিরোধে তাঁদের করণীয় নিয়ে আলোচনা হয়।
সংশ্লিষ্টদের মতে, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সচেতনতার পাশাপাশি অভিযোগ গ্রহণ, যথাযথ তদন্ত এবং অপরাধের ক্ষেত্রে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ জরুরি। এ ধরনের অপরাধ প্রতিরোধে পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সমন্বিত উদ্যোগও গুরুত্বপূর্ণ।