বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সাবেক আমির অধ্যাপক গোলাম আযমের দ্বাদশ মৃত্যুবার্ষিকী আগামীকাল শুক্রবার (২৩ অক্টোবর)। এ উপলক্ষে বৃহস্পতিবার তাঁকে স্মরণ করে বিবৃতি দিয়েছেন বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতের আমির ডা. শফিকুর রহমান।
গণমাধ্যমে পাঠানো বিবৃতিতে তিনি অধ্যাপক গোলাম আযমের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানান এবং তাঁর মাগফিরাত কামনা করেন।
বিবৃতিতে ডা. শফিকুর রহমান অধ্যাপক গোলাম আযমকে ইসলামী আন্দোলনের নিবেদিতপ্রাণ ব্যক্তিত্ব, লেখক ও চিন্তাবিদ হিসেবে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, নানা প্রতিকূলতা ও বাধার মধ্যেও গোলাম আযম তাঁর আদর্শিক অবস্থানে অবিচল ছিলেন। তাঁর ভালো কাজগুলো কবুল করা, ভুলত্রুটি ক্ষমা করা এবং তাঁকে জান্নাতের উচ্চ মর্যাদা দেওয়ার জন্য মহান আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করেন জামায়াত আমির।
গোলাম আযমের রাজনৈতিক ও শিক্ষাজীবনের কথা তুলে ধরে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, মানুষের অধিকার আদায় এবং অন্যায়ের বিরুদ্ধে অবস্থানের ক্ষেত্রে তাঁর ভূমিকা ছিল উল্লেখযোগ্য। ইসলামী মূল্যবোধ ও ইনসাফভিত্তিক সমাজ প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে তাঁর অবদান জাতি স্মরণ করবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
বিবৃতিতে তিনি আরও উল্লেখ করেন, ছাত্রজীবনে ভাষা আন্দোলনে অংশ নিয়েছিলেন গোলাম আযম। পরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) সাধারণ সম্পাদক (জিএস) নির্বাচিত হয়ে শিক্ষার্থীদের অধিকার আদায়ে দায়িত্ব পালন করেন। পরবর্তী সময়ে তমদ্দুন মজলিসের সঙ্গে যুক্ত হয়ে সামাজিক ও রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত হন বলেও বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়।
তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা প্রবর্তনের প্রস্তাবের প্রসঙ্গ তুলে জামায়াত আমির দাবি করেন, ১৯৮৩ সালে অধ্যাপক গোলাম আযম বাংলাদেশে সুষ্ঠু নির্বাচন নিশ্চিত করতে তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থার ধারণা তুলে ধরেন। পরে ১৯৯৬ সালে সংবিধানে এই ব্যবস্থা যুক্ত হয় বলে বিবৃতিতে উল্লেখ করেন তিনি।
জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে গোলাম আযমের দীর্ঘ সাংগঠনিক সম্পৃক্ততার বিবরণ দিয়ে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ১৯৫৪ সালের এপ্রিলে তিনি দলটির সহযোগী সদস্য হিসেবে যোগ দেন। পরের বছর রাজশাহী বিভাগীয় জামায়াতের সেক্রেটারি নিযুক্ত হন। ১৯৫৬ সালে পূর্ব পাকিস্তান জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি ও রাজশাহী বিভাগীয় আমিরের দায়িত্ব পান। ১৯৬৯-৭১ মেয়াদে তিনি পূর্ব পাকিস্তান জামায়াতের আমির নির্বাচিত হন। ২০০০ সালের ডিসেম্বরে তিনি দলীয় আমিরের দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি নেন বলেও বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়।
গোলাম আযমের কারাবাসের প্রসঙ্গ তুলে বিবৃতিতে বলা হয়, জীবদ্দশায় তিনি একাধিকবার কারাভোগ করেন। ২০১২ সালের ১১ জানুয়ারি গ্রেপ্তার হওয়ার পর তিনি কারাগারে ছিলেন। ২০১৪ সালের ২৩ অক্টোবর কারাগারের প্রিজন সেলে তাঁর মৃত্যু হয়। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৯২ বছর।
বিবৃতির শেষাংশে ডা. শফিকুর রহমান অধ্যাপক গোলাম আযমের জীবন ও রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডকে জামায়াতে ইসলামীর সাংগঠনিক ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে তুলে ধরেন।