ঢাকা সিটি করপোরেশন নির্বাচনে অংশ নেওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন। একই সঙ্গে সাম্প্রতিক মাদকবিরোধী অভিযানে অস্ত্র হাতে নেওয়ার ঘটনা নিয়ে নিজের অবস্থান ব্যাখ্যা করেছেন তিনি। তাঁর দাবি, আত্মরক্ষার প্রয়োজনেই অস্ত্র বের করেছিলেন, কাউকে ভয় দেখানো বা বেআইনি কোনো উদ্দেশ্যে নয়।
রোববার (১৮ অক্টোবর) রাতে প্রবাসী সাংবাদিক নাজমুস সাকিবকে অডিও কলে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এসব কথা বলেন ইশরাক হোসেন।
অস্ত্র হাতে অভিযানে নামার বিষয়ে ইশরাক বলেন, তিনি কারও জমি দখল করতে কিংবা কারও কাছ থেকে চাঁদা আদায় করতে যাননি। তাহলে তাঁর কর্মকাণ্ড নিয়ে এত প্রশ্ন কেন উঠছে, সেটি নিয়েও বিস্ময় প্রকাশ করেন তিনি।
সেদিনের ঘটনার বর্ণনা দিয়ে ইশরাক জানান, তাঁরা ঘটনাস্থলে অবস্থান করার সময় একটি ভবনের ছাদ থেকে দুটি গুলি ছোড়া হয়। এ ছাড়া সেখানে প্রবেশের সময় একসঙ্গে ২৫ থেকে ৩০ জন বেরিয়ে আসেন। তখন তাঁর নিরাপত্তাকর্মীরা চিৎকার শুরু করলে তিনি ধারণা করেন, কেউ অস্ত্র বের করছে। এমন পরিস্থিতিতে আত্মরক্ষার জন্য কোমর থেকে পিস্তল বের করেন বলে দাবি করেন তিনি।
পদত্যাগের সিদ্ধান্ত প্রসঙ্গে ইশরাক হোসেন বলেন, প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনা করেই তিনি এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তাঁর কারণে জাতীয় পর্যায়ে কোনো ধরনের বিঘ্ন সৃষ্টি হোক, সেটি তিনি চান না। একই সঙ্গে ঢাকায় রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালনার সুযোগ দল তাঁকে দেবে বলেও আশা প্রকাশ করেন।
ঢাকা সিটি করপোরেশন নির্বাচন নিয়ে নিজের পরিকল্পনার কথা জানিয়ে ইশরাক বলেন, রাজধানীর বিভিন্ন সমস্যা সমাধানে তিনি দীর্ঘদিন ধরে কাজ করছেন। আগামী দিনে ওয়ার্ডভিত্তিক কার্যক্রম আরও জোরদার করতে চান তিনি।
রাজধানীর নগর ব্যবস্থাপনার জটিলতা তুলে ধরে তিনি বলেন, ঢাকা সিটি করপোরেশনের সঙ্গে আটটি মন্ত্রণালয়ের অধীনে ৪০টির বেশি প্রতিষ্ঠান যুক্ত রয়েছে। ফলে নগরীর সমস্যাগুলো সমাধানে এসব প্রতিষ্ঠানের মধ্যে কার্যকর সমন্বয় প্রয়োজন।
ঢাকার উন্নয়ন নিয়ে প্রধানমন্ত্রীরও কিছু পরিকল্পনা রয়েছে উল্লেখ করে ইশরাক বলেন, রাজধানীর মানুষের প্রত্যাশা পূরণে তিনি কাজ চালিয়ে যেতে চান। তাঁর দাবি, দেশের অধিকাংশ মানুষ তাঁর সাম্প্রতিক কর্মকাণ্ডকে ইতিবাচকভাবে দেখছেন।
প্রসঙ্গত, শনিবার (১৭ অক্টোবর) রাজধানীর গেণ্ডারিয়া থানার ৪৫ নম্বর ওয়ার্ডে রেললাইনসংলগ্ন এলাকায় মাদকবিরোধী অভিযানে অংশ নেন ইশরাক হোসেন ও তাঁর সহযোগীরা। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে তাঁকে আগ্নেয়াস্ত্র হাতে লোকজনকে ধাওয়া করতে দেখা যায়। এ ঘটনায় ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়।
পরে রোববার এক বিবৃতিতে ইশরাক দাবি করেন, ঘটনাস্থলে যাওয়ার আগে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও গোয়েন্দা সূত্র থেকে সম্ভাব্য হামলার বিষয়ে সতর্ক করা হয়েছিল। সেই নিরাপত্তাঝুঁকি বিবেচনায় স্বল্প সময়ের জন্য আত্মরক্ষার্থে অস্ত্র উঁচিয়ে ধরেছিলেন তিনি।
এদিকে অস্ত্র হাতে অভিযানের ঘটনায় বিতর্কের পর রোববার বিকেলে মন্ত্রিসভার বৈঠক শেষে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তাঁকে পদত্যাগের নির্দেশ দেন বলে সরকারসংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাতে সংবাদ প্রকাশিত হয়। পরদিন সোমবার ইশরাক নিজেই পদত্যাগের সিদ্ধান্তের কথা জানান।