শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর ২০২৬

পরীক্ষামূলক সংস্করণ

সারাদেশ

তিন সরকারের আমল পেরিয়ে নয় বছরেও অসমাপ্ত মোল্লাবাজার সেতু

মুন্সীগঞ্জ প্রতিনিধি রাজধানী ঢাকার সঙ্গে মুন্সীগঞ্জের চার উপজেলার যোগাযোগ সহজ করার লক্ষ্যে নেওয়া মোল্লাবাজার সেতু নির্মাণ প্রকল্প যেন দীর্ঘসূত্রতার বৃত্তেই আটকে আছে। ধলেশ্বরীর শাখা নদীর ওপর ২৫২ মিটার দীর্ঘ এই সেতুর নির্মাণকাজ শুরু হয়েছিল ২০১৮ সালে। নির্ধারিত সময় পেরিয়ে গেছে, পরিবর্তন হয়েছে সরকারের, বাতিল হয়েছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে চুক্তিও। অবশিষ্ট কাজ শেষ করতে নতুন করে […]

তিন সরকারের আমল পেরিয়ে নয় বছরেও অসমাপ্ত মোল্লাবাজার সেতু

ছবি সংগৃহীত

প্রতিনিধি ডেস্ক

১৫ অক্টোবর ২০২৬, ২২:৪৮

মুন্সীগঞ্জ প্রতিনিধি

রাজধানী ঢাকার সঙ্গে মুন্সীগঞ্জের চার উপজেলার যোগাযোগ সহজ করার লক্ষ্যে নেওয়া মোল্লাবাজার সেতু নির্মাণ প্রকল্প যেন দীর্ঘসূত্রতার বৃত্তেই আটকে আছে। ধলেশ্বরীর শাখা নদীর ওপর ২৫২ মিটার দীর্ঘ এই সেতুর নির্মাণকাজ শুরু হয়েছিল ২০১৮ সালে। নির্ধারিত সময় পেরিয়ে গেছে, পরিবর্তন হয়েছে সরকারের, বাতিল হয়েছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে চুক্তিও। অবশিষ্ট কাজ শেষ করতে নতুন করে অর্থ বরাদ্দ দেওয়া হলেও ২০২৬ সালের অক্টোবর পর্যন্ত সেতুটি চালু করা সম্ভব হয়নি।

প্রকল্পের কাজ শেষ করার প্রথম সময়সীমা ছিল ২০২০ সালের ৫ ডিসেম্বর। ওই সময়ের মধ্যে কাজ শেষ না হওয়ায় মেয়াদ বাড়িয়ে ২০২২ সাল পর্যন্ত করা হয়। কিন্তু বর্ধিত সময়েও নির্মাণকাজ সম্পন্ন হয়নি। এভাবে একের পর এক সময় পেরিয়ে গেলেও সেতুটি চালুর অপেক্ষা শেষ হচ্ছে না। সংশ্লিষ্ট সূত্রের হিসাবে, বর্তমানে নির্মাণকাজের অগ্রগতি ৮০ শতাংশের কিছু বেশি। বাকি কাজ কবে শেষ হবে, সে বিষয়ে এখনো নিশ্চিত কোনো সময়সীমা পাওয়া যায়নি।

সেতুটি ঘিরে স্থানীয় মানুষের প্রত্যাশা দীর্ঘদিনের। এটি চালু হলে সিরাজদীখান, টঙ্গিবাড়ী, লৌহজং ও মুন্সীগঞ্জ সদর উপজেলার বাসিন্দাদের রাজধানীতে যাতায়াত সহজ হবে। যানজট এড়িয়ে কম সময়ে ঢাকায় পৌঁছানোর সুযোগ তৈরি হবে বলে আশা তাঁদের। কিন্তু নির্মাণকাজ শেষ না হওয়ায় সেই প্রত্যাশার বাস্তবায়ন হচ্ছে না। সেতুর সঙ্গে সংযোগ স্থাপনের জন্য নির্মিত সড়কও পুরোপুরি কাজে লাগানো যাচ্ছে না।

নির্মাণস্থলের বর্তমান পরিস্থিতিতে দেখা যায়, সেতুর মূল কাঠামোর কিছু অংশের কাজ সম্পন্ন হয়েছে। তবে মাঝের স্প্যানের ওপর ঢালাইসহ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ কাজ বাকি রয়েছে। দুই পাশের সংযোগ সড়ক ও আনুষঙ্গিক নির্মাণকাজও শেষ হয়নি। স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রকল্পের কাজের গতি প্রত্যাশিত পর্যায়ে নেই। নির্মাণস্থলে প্রয়োজনীয় লোকবল ও কর্মতৎপরতার ঘাটতিও চোখে পড়ছে বলে দাবি তাঁদের।

প্রায় নয় বছর ধরে চলা নির্মাণকাজের ধীরগতিতে ক্ষুব্ধ স্থানীয় বাসিন্দা ও নিয়মিত যাতায়াতকারীরা। তাঁদের প্রশ্ন, একটি সেতুর নির্মাণকাজ শেষ করতে এত দীর্ঘ সময় লাগছে কেন? নির্ধারিত মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও প্রকল্পটি অসম্পূর্ণ থাকায় কবে নাগাদ সেতুটি চালু হবে, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা আরও বেড়েছে।

কেরানীগঞ্জ উপজেলা স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) সূত্রে জানা গেছে, প্রায় ৩৩ কোটি ২৭ লাখ ৪২ হাজার টাকা ব্যয়ে সেতুটির নির্মাণকাজ শুরু হয় ২০১৮ সালের ৬ জুলাই। সুরমা এন্টারপ্রাইজ নামের একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে কাজটি দেওয়া হয়েছিল। পরিকল্পনা অনুযায়ী, ১৩টি খুঁটির ওপর ১২টি স্প্যান বসিয়ে ২৫২ মিটার দৈর্ঘ্য ও প্রায় ৯ দশমিক ৮ মিটার প্রস্থের সেতুটি নির্মাণের কথা।

প্রথম দফায় নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কাজ শেষ করতে না পারায় প্রকল্পের মেয়াদ ২০২২ সাল পর্যন্ত বাড়ানো হয়। এরপরও নির্মাণকাজ অসম্পূর্ণ থেকে যায়। ২০২৪ সালেও সেতুর কাজ শেষ না হওয়ায় প্রকল্পের অগ্রগতি নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। পরে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে কাজে গাফিলতির অভিযোগ তুলে তাদের সঙ্গে চুক্তি বাতিল করা হয়।

অবশিষ্ট নির্মাণকাজ শেষ করতে পরবর্তী সময়ে নতুন করে প্রায় ১৬ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে। তবে অতিরিক্ত বরাদ্দের পরও কাজ শেষ না হওয়ায় প্রকল্পের বাস্তবায়ন নিয়ে অনিশ্চয়তা কাটেনি। নির্মাণকাজের অগ্রগতি ৮০ শতাংশের কিছু বেশি হলেও বাকি অংশ সম্পন্ন করে সেতুটি চালুর নির্দিষ্ট দিনক্ষণ এখনো জানানো যাচ্ছে না।

২০১৮ সালে আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে শুরু হওয়া এই প্রকল্পের সময় পেরিয়েছে পরবর্তী অন্তর্বর্তী সরকার এবং বিএনপি সরকারের আমলেও। তিন সরকারের সময়কাল অতিক্রম করেও সেতুটি চালু না হওয়ায় স্থানীয়দের মধ্যে হতাশা বাড়ছে। রাজধানীর সঙ্গে যোগাযোগ সহজ করার যে উদ্দেশ্যে সেতুটি নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল, তা বাস্তবায়নের অপেক্ষা দীর্ঘ হচ্ছে।

এ বিষয়ে সিরাজদীখান উপজেলা প্রকৌশলী মো. আসিফ উল্লাহ বলেন, “মোল্লাবাজার সেতু নিয়ে আমাদের একটি মিটিং হয়েছে। মাঝখানের স্প্যানের ওপর ঢালাইয়ের কাজের প্রস্তুতি চলছে।”

সেতুটির নির্মাণকাজ কবে নাগাদ শেষ হবে জানতে চাইলে তিনি বলেন, এখনো নির্দিষ্ট করে বলা যাচ্ছে না।

ফলে নির্মাণকাজের শেষ পর্যায়ে এসেও সেতুটি চালুর সময় নির্ধারিত না হওয়ায় স্থানীয়দের অপেক্ষা দীর্ঘ হচ্ছে। এখন তাঁদের প্রত্যাশা, বাকি কাজ দ্রুত শেষ করে সেতুটি যান চলাচলের জন্য খুলে দেওয়া হবে।

সারাদেশ

আবাসিক হোটেলের রেজিস্টারে তাজমিনের নাম ‘তানজু আক্তার’, পরিচয় দেন রাজুর স্ত্রী হিসেবে

কুমিল্লায় ধর্ষণ ও হত্যার শিকার স্কুলছাত্রী জান্নাতুল তাজমিনের (১৫) মৃত্যুর আগে কক্সবাজারে অবস্থানের নতুন তথ্য সামনে এসেছে। সেখানকার একটি আবাসিক হোটেলের রেজিস্টারে তার নাম লেখা হয়েছিল ‘তানজু আক্তার’। বয়স দেখানো হয় ১৮ বছর। আর সঙ্গে থাকা রিয়াজ উদ্দিন ওরফে রাজুকে পরিচয় দেওয়া হয় তার স্বামী হিসেবে। হোটেলের রেজিস্টার, সিসিটিভি ফুটেজ এবং রিয়াজের পরিচিত ব্যক্তিদের দেওয়া […]

আবাসিক হোটেলের রেজিস্টারে তাজমিনের নাম ‘তানজু আক্তার’, পরিচয় দেন রাজুর স্ত্রী হিসেবে

ছবি সংগৃহীত

নিউজ ডেস্ক

১১ অক্টোবর ২০২৬, ০৮:৪৮

কুমিল্লায় ধর্ষণ ও হত্যার শিকার স্কুলছাত্রী জান্নাতুল তাজমিনের (১৫) মৃত্যুর আগে কক্সবাজারে অবস্থানের নতুন তথ্য সামনে এসেছে। সেখানকার একটি আবাসিক হোটেলের রেজিস্টারে তার নাম লেখা হয়েছিল ‘তানজু আক্তার’। বয়স দেখানো হয় ১৮ বছর। আর সঙ্গে থাকা রিয়াজ উদ্দিন ওরফে রাজুকে পরিচয় দেওয়া হয় তার স্বামী হিসেবে।

হোটেলের রেজিস্টার, সিসিটিভি ফুটেজ এবং রিয়াজের পরিচিত ব্যক্তিদের দেওয়া তথ্য থেকে তাজমিনের কক্সবাজারে অবস্থান ও বাড়ি ফেরার আগের ঘটনাপ্রবাহ সম্পর্কে এসব তথ্য জানা গেছে।

হোটেলের রেজিস্টার অনুযায়ী, গত ৬ অক্টোবর সন্ধ্যা ৭টা ২৫ মিনিটে কক্সবাজারের কলাতলীতে কুটুমবাড়ি-সংলগ্ন সড়কের শেষ মাথায় অবস্থিত একটি তিনতলা আবাসিক হোটেলের ৩০২ নম্বর কক্ষে ওঠে তাজমিন ও রিয়াজ। সেখানে তাজমিনের নাম ‘তানজু আক্তার’ এবং বয়স ১৮ বছর উল্লেখ করা হয়। রিয়াজের ঠিকানা হিসেবে বান্দরবানের লামা এলাকার তথ্য দেওয়া হয়। তার বাবার নাম লেখা হয় মনির আহমদ।

হোটেলের এক কর্মচারী নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, এক রাত অবস্থানের পর ৭ অক্টোবর বেলা ১১টার দিকে তারা হোটেল ছেড়ে চলে যান। রেজিস্টারে রিয়াজের দুটি মুঠোফোন নম্বর ও একটি জাতীয় পরিচয়পত্র নম্বরও পাওয়া গেছে।

তথ্য অনুযায়ী, ৭ অক্টোবর হোটেল ছাড়ার পর রিয়াজ তাজমিনকে কুমিল্লাগামী একটি বাসে তুলে দেন। এরপর বাড়ি ফেরার পথে সিএনজিচালিত অটোরিকশায় ওঠে তাজমিন। অভিযোগ অনুযায়ী, অটোরিকশাচালক সুমন মিয়া তাকে ধর্ষণের পর হত্যা করেন।

পরদিন ৮ অক্টোবর সকালে কুমিল্লার লালমাই উপজেলার ভোরালজগপুর উত্তরপাড়া গ্রামের একটি ধানক্ষেতের আইল থেকে তাজমিনের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।

এ ঘটনায় করা হত্যা মামলায় সিএনজিচালক সুমন মিয়াকে (৩৫) চট্টগ্রাম থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে তাজমিনের ব্যবহৃত আইফোন উদ্ধার করা হয়।

রিয়াজের এক সহকর্মীর দাবি, ঘটনার প্রায় ১৭ দিন আগে ফেসবুকের মাধ্যমে তাজমিনের সঙ্গে রিয়াজের পরিচয় হয়। ধীরে ধীরে তাদের মধ্যে ঘনিষ্ঠতা তৈরি হয়। পরে তাজমিন কক্সবাজারে গেলে তারা একসঙ্গে সময় কাটান।

তবে রিয়াজের ঘনিষ্ঠ অন্য একটি সূত্রের দাবি, প্রায় পাঁচ মাস আগে তাদের পরিচয় হয়েছিল এবং এরপর থেকে নিয়মিত যোগাযোগ ছিল।

তাজমিনের বাড়ি ছাড়ার বিষয়ে জানা যায়, গত ৪ অক্টোবর এক বান্ধবীকে হাতঘড়ি দেওয়া নিয়ে মায়ের সঙ্গে তার কথা-কাটাকাটি হয়। এরপর সে বাড়ি থেকে বের হয়ে প্রথমে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় এক বান্ধবীর কাছে যায়।

সেখান থেকে মুঠোফোনে রিয়াজের সঙ্গে যোগাযোগ করলে তাকে কক্সবাজারে আসতে বলা হয় বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি। যাতায়াতের খরচ হিসেবে রিয়াজ বিকাশের মাধ্যমে ৫০০ টাকা পাঠিয়েছিলেন বলেও জানা গেছে।

সহকর্মী জানান, কক্সবাজার থেকে ফেরার জন্য ‘আইকনিক এক্সপ্রেস’ পরিবহনের একটি বাসের টিকিট কিনে তাজমিনকে তুলে দেন রিয়াজ। টিকিটের মূল্য ছিল ৯০০ টাকা।

ওই সহকর্মীর ভাষ্য অনুযায়ী, কুমিল্লায় পৌঁছে সিএনজিচালিত অটোরিকশায় ওঠার পরও তাজমিনের সঙ্গে রিয়াজের মুঠোফোনে যোগাযোগ হচ্ছিল। এমনকি অটোরিকশাচালক সম্পর্কে কিছু তথ্যও রিয়াজকে জানিয়েছিল তাজমিন।

তবে রাত আনুমানিক দেড়টার দিকে তাজমিনের মুঠোফোনের লাইভ লোকেশন বন্ধ হয়ে যায়। এরপর তার সঙ্গে আর যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি বলে দাবি করেন ওই সহকর্মী।

পরদিন টেলিভিশনের সংবাদে তাজমিনের হত্যার খবর জানতে পেরে রিয়াজ হতবাক হয়ে পড়েন বলেও জানান তিনি।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক রিয়াজের এক সহকর্মী আরও জানান, হত্যাকাণ্ডের খবর প্রকাশের পর রিয়াজ তার সঙ্গে যোগাযোগ করেছিলেন। এ সময় তিনি নিজেকে নির্দোষ দাবি করে সহযোগিতা চান। তাজমিনের হত্যার সঙ্গে নিজের কোনো সম্পৃক্ততা নেই বলেও দাবি করেন তিনি।

ওই সহকর্মীর তথ্য অনুযায়ী, রিয়াজ প্রায় তিন বছর ধরে কক্সবাজারের একটি আবাসিক হোটেলে কাজ করছেন। ঘটনার পর তিনি কর্মস্থল থেকে ছুটিতে রয়েছেন।

এদিকে রিয়াজের মুঠোফোন বন্ধ থাকায় তার বক্তব্য সরাসরি জানা সম্ভব হয়নি।

লালমাই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মিজানুর রহমান জানিয়েছেন, তাজমিন হত্যার ঘটনায় মুঠোফোনের কললিস্টসহ বিভিন্ন তথ্য যাচাই করা হচ্ছে।

তিনি বলেন, গ্রেপ্তার আসামি হত্যার কথা স্বীকার করেছেন। তদন্ত শেষ হলে ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অন্যান্য বিষয়ও পরিষ্কার হবে।

তবে তাজমিনের কক্সবাজারে অবস্থান, হোটেলের রেজিস্টারে ভিন্ন নাম ও বয়স ব্যবহার এবং রিয়াজের সঙ্গে তার যোগাযোগের বিষয়গুলো তদন্তে কীভাবে বিবেচিত হচ্ছে, তা এখনো বিস্তারিত জানা যায়নি।

সারাদেশ

আমি সরকারি চাকরি করি,তোমরা আমার চাকরিটা খাইয়ো না, আমি মারা যাব,তোমরা আমার কোনো ক্ষতি কইরো না

কুমিল্লা সরকারি মহিলা কলেজের ইংরেজি বিভাগের শিক্ষক মোহাম্মদ মহসিনের বদলিকে কেন্দ্র করে শিক্ষার্থীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। শনিবার (২৫ জুলাই) কলেজ ক্যাম্পাসে আয়োজিত মানববন্ধনে আবেগঘন এক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। এ সময় শিক্ষার্থীদের সামনে কান্নায় ভেঙে পড়েন শিক্ষক মহসিন। উপস্থিত শিক্ষার্থী ও প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, তিনি শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে বলেন, আমি সরকারি চাকরি করি, তোমরা আমার চাকরিডা […]

আমি সরকারি চাকরি করি,তোমরা আমার চাকরিটা খাইয়ো না, আমি মারা যাব,তোমরা আমার কোনো ক্ষতি কইরো না

ছবি সংগৃহীত

নিউজ ডেস্ক

২৫ জুলাই ২০২৬, ২১:২০

কুমিল্লা সরকারি মহিলা কলেজের ইংরেজি বিভাগের শিক্ষক মোহাম্মদ মহসিনের বদলিকে কেন্দ্র করে শিক্ষার্থীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ দেখা দিয়েছে।

শনিবার (২৫ জুলাই) কলেজ ক্যাম্পাসে আয়োজিত মানববন্ধনে আবেগঘন এক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। এ সময় শিক্ষার্থীদের সামনে কান্নায় ভেঙে পড়েন শিক্ষক মহসিন। উপস্থিত শিক্ষার্থী ও প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, তিনি শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে বলেন, আমি সরকারি চাকরি করি, তোমরা আমার চাকরিডা খাইয়ো না। তোমরা আমার কোনো ক্ষতি কইরো না। একপর্যায়ে তিনি শিক্ষার্থীদের পা ধরে শান্ত থাকার অনুরোধ জানান।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, মানববন্ধনের সময় শিক্ষার্থীরা বদলির আদেশ প্রত্যাহারের দাবিতে বিভিন্ন স্লোগান দেন। এ সময় মোহাম্মদ মহসিন আন্দোলন থেকে দূরে থাকার আহ্বান জানিয়ে বলেন, এটা আমার বদলির অংশ। আমি এ বিষয়ে কোনো বক্তব্য দেবো না। এরপর তিনি আবেগ নিয়ন্ত্রণ করতে না পেরে কান্নায় ভেঙে পড়েন।

এক শিক্ষার্থী বলেন, আমরা আমাদের শিক্ষকদের কোনো ক্ষতি হতে দেব না। স্যার সরকারি চাকরিজীবী। চাকরি নিয়ে শঙ্কা থেকেই তিনি আমাদের সামনে কান্না করেছেন। সামান্য বৃষ্টির পানিকে ইস্যু করে একসঙ্গে সাতজন শিক্ষককে বদলি করার কোনো যৌক্তিকতা নেই।

আরেক শিক্ষার্থী বলেন, এই মানববন্ধনকে কেন্দ্র করে যদি শিক্ষকদের ওপর কোনো ধরনের চাপ সৃষ্টি করা হয়, তাহলে আন্দোলন শুধু মহিলা কলেজে সীমাবদ্ধ থাকবে না, প্রয়োজন হলে সারা দেশে ছড়িয়ে দেওয়া হবে।

উল্লেখ্য, সম্প্রতি বৃষ্টির পানি কলেজ ক্যাম্পাসে প্রবেশের ঘটনাকে কেন্দ্র করে কুমিল্লা সরকারি মহিলা কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষসহ সাতজন শিক্ষককে বদলির আদেশ দেওয়া হয়। এরপর থেকেই শিক্ষার্থীরা ওই সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ জানিয়ে বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করছেন এবং বদলির আদেশ পুনর্বিবেচনার দাবি জানিয়ে আসছেন।

সারাদেশ

সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে চুরি, লুট মালামাল

আমজাদ শিবলু, সেনবাগ উপজেলা প্রতিনিধি  নোয়াখালীর সেনবাগ উপজেলার বীজবাগ নুরজাহান সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে চুরির ঘটনা ঘটেছে। রাতের কোনো একসময় বিদ্যালয়ের অফিস কক্ষের তালা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে চারটি সিলিং ফ্যান, একটি ল্যাপটপ, একটি চার্জার ফ্যানসহ বিভিন্ন মূল্যবান মালামাল নিয়ে গেছে দুর্বৃত্তরা। বুধবার (০৭ অক্টোবর) সকালে বিদ্যালয়ে এসে বিষয়টি শিক্ষকদের নজরে আসে। পরে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক রোকেয়া বেগম […]

সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে চুরি, লুট মালামাল

ছবি সংগৃহীত

প্রতিনিধি ডেস্ক

০৮ অক্টোবর ২০২৬, ০১:২৭

আমজাদ শিবলু, সেনবাগ উপজেলা প্রতিনিধি 

নোয়াখালীর সেনবাগ উপজেলার বীজবাগ নুরজাহান সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে চুরির ঘটনা ঘটেছে। রাতের কোনো একসময় বিদ্যালয়ের অফিস কক্ষের তালা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে চারটি সিলিং ফ্যান, একটি ল্যাপটপ, একটি চার্জার ফ্যানসহ বিভিন্ন মূল্যবান মালামাল নিয়ে গেছে দুর্বৃত্তরা।

বুধবার (০৭ অক্টোবর) সকালে বিদ্যালয়ে এসে বিষয়টি শিক্ষকদের নজরে আসে। পরে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক রোকেয়া বেগম উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা বিভাগ ও সেনবাগ থানা পুলিশকে ঘটনাটি জানান।

বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ জানায়, চোরেরা অফিস কক্ষে প্রবেশের পর দুটি স্টিলের আলমিরা ও একটি ফাইল কেবিনেটের তালা ভেঙে ফেলে। এরপর সেখান থেকে বিভিন্ন মালামাল নিয়ে পালিয়ে যায়।

এ ঘটনায় প্রধান শিক্ষক রোকেয়া বেগম বাদী হয়ে সেনবাগ থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।

সেনবাগ থানার ওসি (তদন্ত) মো. হযরত আলী মিলন গণমাধ্যমকে বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। ঘটনাটি তদন্ত করা হচ্ছে। এখন পর্যন্ত চুরি যাওয়া মালামাল উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি এবং এ ঘটনায় কাউকে আটক বা গ্রেপ্তার করা হয়নি।