শহীদ আবরার ফাহাদের সপ্তম শাহাদাতবার্ষিকী উপলক্ষে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের উদ্যোগে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। বুধবার বিকেল ৩টায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট ভবনের নিচতলায় অ্যাসেম্বলি অ্যাসোসিয়েশনের অডিটোরিয়ামে এই সভা অনুষ্ঠিত হয়।
‘বিএনপি সরকারের পররাষ্ট্রনীতি: আধিপত্যবাদ, সম্প্রসারণবাদ ও সাম্রাজ্যবাদের বিরুদ্ধে জাতীয় ঐক্য এবং স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও জাতীয় অখণ্ডতা সুরক্ষায় অঙ্গীকার’ শীর্ষক এই আলোচনা সভায় বক্তব্য দেন ছাত্রদল সভাপতি।
বক্তব্যে তিনি বলেন, ২০১৯ সালের ৭ অক্টোবর বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) শিক্ষার্থী আবরার ফাহাদকে নির্মম নির্যাতন করে হত্যা করে ছাত্রলীগের সন্ত্রাসীরা। একটি ফেসবুক স্ট্যাটাসকে কেন্দ্র করে এভাবে একজন শিক্ষার্থীকে হত্যা করার ঘটনায় পুরো দেশ স্তব্ধ ও হতভম্ব হয়ে গিয়েছিল।
তিনি বলেন, আবরার ফাহাদ হত্যার পর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রথম ছাত্রদলের নেতাকর্মীরাই রাজপথে প্রতিবাদে নেমেছিলেন। আবরার ফাহাদের পরিবারের সদস্যরা যেন এই শোক সামলে ওঠার শক্তি পান, আমরা সেই দোয়া করি।
ছাত্রদল সভাপতি বলেন, ‘আমাদের অনেক নেতাকর্মী গুমের শিকার হয়েছেন। আবরার ফাহাদের মতো তাদের গুমের কোনো সিসিটিভি ফুটেজও আমরা পাইনি। ২০১২, ২০১৩ ও ২০১৪ সালে ছাত্রদলের ওপর নির্মম নির্যাতন চালানো হয়েছে। আমাদের মাঝ থেকে অনেক নেতাকর্মী হারিয়ে গেছেন।’
তিনি আরও বলেন, ‘আবরার হত্যাকাণ্ডের মাধ্যমে আমরা বুঝতে পেরেছি, তারা বাংলাদেশের স্বাধীনতায় বিশ্বাস করেন না। আবরার ফাহাদকে এভাবে নির্মম নির্যাতন করে হত্যা করার পরও আমরা রাজপথ ছেড়ে চলে যাইনি।’
ছাত্রদল সভাপতি বলেন, ‘আজ যারা বড় বড় কথা বলেন, তাদের অনেককেই কখনো রাজপথে দেখা যায়নি। বরং তাদের অনেককে একসময় ছাত্রলীগের পতাকাতলে মিছিল করতেও দেখা গেছে।’
২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর বিভিন্ন স্লোগান ও কর্মকাণ্ডের সমালোচনা করে তিনি বলেন, ‘আবরার ফাহাদ আজ বেঁচে থাকলে এসব দেখে কষ্ট পেতেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এমন কোনো বিষয় বাদ রাখা হয়নি, যেখানে নোংরামি করা হয়নি।’
তিনি বলেন, ‘আবরার ফাহাদ যে বলিষ্ঠ ভাষায় প্রতিবাদ করেছিলেন, আমরা তার কাছ থেকে শিক্ষা নিয়েছি। সেই শিক্ষা নিয়েই আমরা এভাবেই প্রতিবাদ করে যাব।’
আবরার হত্যা মামলার আসামিদের প্রসঙ্গে ছাত্রদল সভাপতি বলেন, ‘আবরার ফাহাদ হত্যা মামলার আসামিদের মধ্যে মুনতাসীর নামে একজন জেল থেকে পালিয়ে গেছে। আজকের দিন পর্যন্ত তাকে গ্রেপ্তার করা যায়নি। এর পেছনে একটি গোষ্ঠী জড়িত রয়েছে।’
তিনি আরও দাবি করেন, ‘মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিদের পক্ষে জামায়াতের আইনজীবী শিশির মনির যুক্ত রয়েছেন। এর সঙ্গে ষড়যন্ত্রের একটি যোগসূত্র আমরা দেখতে পাই।’
প্রতিটি ক্যাম্পাসে ছাত্রলীগের বিচারের দাবি জানিয়ে ছাত্রদল সভাপতি বলেন, ‘প্রতিটি ক্যাম্পাসে ছাত্রলীগকে বিচারের আওতায় নিয়ে আসতে হবে। ছাত্রলীগের সন্ত্রাসীদের ধরিয়ে দেওয়ার ক্ষেত্রে একটি গুপ্ত সংগঠন কোনো কথা বলে না, কোনো ভূমিকা রাখে না।’
সবশেষে তিনি বলেন, ‘শহীদ আবরার ফাহাদ ভারতীয় আগ্রাসনের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়ে শহীদ হয়েছেন। ছাত্রদলও সেই পথেই রয়েছে। আমরা মরহুমা বেগম খালেদা জিয়ার দেখানো পথেই ভারতীয় আগ্রাসনের বিরুদ্ধে অবস্থান করছি।’