পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের শারীরিক অবস্থা নিয়ে তার পরিবার ও দলের মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে। তার ডান চোখের বেশির ভাগ দৃষ্টিশক্তি হারিয়ে গেছে বলে দাবি করেছে পরিবার।
এমন পরিস্থিতির মধ্যেই ইমরানের মুক্তির দাবিতে ইসলামাবাদের দিকে লং মার্চ শুরু করেছেন তার হাজারো সমর্থক।
গত রোববার (৪ অক্টোবর) খাইবার পাখতুনখাওয়া প্রদেশের লাক্কি মারওয়াত শহর থেকে লং মার্চটি শুরু হয়। ইসলামাবাদ থেকে প্রায় ২৭৫ কিলোমিটার দূরের শহরটি থেকে যাত্রা করে রাতে লং মার্চে বিরতি দেওয়া হয়।
স্থানীয় সময় সোমবার দুপুরের দিকে আবার ইসলামাবাদের উদ্দেশে লং মার্চটি শুরু করার কথা রয়েছে।
ইমরানের দল পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফ (পিটিআই) জানিয়েছে, সরকারের সঙ্গে আলোচনা ব্যর্থ হওয়ার পর এ কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে। গত সপ্তাহেই লং মার্চটি শুরু হওয়ার কথা ছিল।
তবে, সরকার ও পিটিআইয়ের মধ্যে আলোচনা চলায় কর্মসূচিটি পিছিয়ে দেওয়া হয়। শেষ পর্যন্ত দুই পক্ষের মধ্যে কোনো সমঝোতা হয়নি।
ইমরানের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রীয় গোপন তথ্য ফাঁস ও রাষ্ট্রীয় উপহার বিক্রিসহ বিভিন্ন অভিযোগে ১০০টির বেশি মামলা রয়েছে। গত বছর দুর্নীতির একটি মামলায় তাকে ১৭ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়।
তবে, ইমরান বরাবরই বলে আসছেন, তার বিরুদ্ধে করা এসব মামলা রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।
পিটিআইয়ের নেতৃত্বাধীন খাইবার পাখতুনখাওয়ার মুখ্যমন্ত্রী সোহেল আফ্রিদি জানিয়েছেন, আগামী বৃহস্পতিবারের মধ্যে লং মার্চটি ইসলামাবাদ থেকে প্রায় ৮০ কিলোমিটার পশ্চিমের একটি শহরে পৌঁছাতে পারে।
এসময় দেশের মানুষকে রাজনৈতিক প্রক্রিয়ায় সক্রিয়ভাবে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।
এদিকে, ইমরানের সমর্থকদের রাজধানীতে প্রবেশ ঠেকাতে ইসলামাবাদের গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলোতে পণ্যবাহী কনটেইনার দিয়ে ব্যারিকেড দিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
পিটিআই জানিয়েছে, ইমরানের সঙ্গে দেখা করার সুযোগ না পাওয়ায় সরকারের সঙ্গে তাদের আলোচনা ব্যর্থ হয়েছে। জাতীয় ও রাজনৈতিক বিভিন্ন বিষয়ে পরামর্শ করতে দলটির নেতারা ইমরানের সঙ্গে দেখা করতে চেয়েছিলেন।
পাশাপাশি, তার দ্রুত স্বাস্থ্য পরীক্ষা ও প্রয়োজনীয় চিকিৎসার দাবিও জানিয়েছিল দলটি।
গত আগস্টে শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় ইমরানকে সাময়িকভাবে কারাগার থেকে একটি সরকারি হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর চিকিৎসকেরা জানান, তার শারীরিক অবস্থা নিয়ে উদ্বেগের কোনো কারণ নেই।
তবে, তার পরিবার ও পিটিআইয়ের অভিযোগ, আদালতের নির্দেশ থাকা সত্ত্বেও তাকে নির্দিষ্ট একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসকদের দিয়ে পরীক্ষা করানো হয়নি।
এর আগে, ২০২৩ সালের মে মাসে ইমরানকে গ্রেপ্তারের পর তাঁর সমর্থকেরা বিক্ষোভ শুরু করেন। একপর্যায়ে বিক্ষোভ সহিংস রূপ নিলে অন্তত আটজন নিহত হন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সে সময় সেনাবাহিনী মোতায়েন করতে হয়েছিল।
তুরস্ক, সৌদি ও পাকিস্তানসহ অন্যান্য দেশ নিয়ে ইসলামি সেনাবাহিনী গড়ার উদ্যোগ নিয়েছে ইরান। আপনি কি এই আর্মি গঠনের পক্ষে?