মাসুম হোসেন অন্তু, শাহজাদপুর (সিরাজগঞ্জ) প্রতিনিধিঃ
সিরাজগঞ্জ জেলা প্রশাসক, এসি ল্যান্ডসহ উচ্চপদস্থ সরকারি কর্মকর্তাদের স্বাক্ষর ও সিল জালিয়াতি করে সরকারি বালুমহালের বালু বিক্রির চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় পুলিশ অভিযান চালিয়ে এক নারীসহ দুজনকে গ্রেপ্তার করেছে।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন—শাহজাদপুর উপজেলার চরনবীপুর গ্রামের প্রয়াত আওয়ামী লীগ নেতা শিমুলের স্ত্রী এবং শিমুল কনস্ট্রাকশন ও মায়ার লিমিটেডের মালিক মিনা খাতুন (৩৯) এবং তার ম্যানেজার রূপপুর গ্রামের সাহেব আলীর ছেলে মো. রাসেল রানা।
জানা যায়, সিরাজগঞ্জ জেলা প্রশাসক, শাহজাদপুরের সহকারী কমিশনার (ভূমি), সেনাবাহিনী ও পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তাদের স্বাক্ষর ও সিল জাল করে করতোয়া নদী থেকে উত্তোলন করা বালু বিক্রির চেষ্টা করেন অভিযুক্তরা।
খবর পেয়ে গত ১৪ সেপ্টেম্বর উপজেলা ভূমি অফিস ও সিরাজগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তারা যৌথভাবে বেলা সাড়ে ১১টার দিকে ঘটনাস্থলে অভিযান চালান। এ সময় মিনা খাতুন দাবি করেন, নিলামের মাধ্যমে বালু কিনে তিনি তা বিক্রি করছেন। দাবির পক্ষে তিনি দাপ্তরিক কিছু কাগজপত্রও প্রদর্শন করেন।
তবে কাগজপত্র পর্যালোচনা করে কর্মকর্তারা দেখতে পান, সিরাজগঞ্জ জেলা প্রশাসক, পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী, বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ২৪ ব্রিগেড ইঞ্জিনিয়ার এবং শাহজাদপুরের সহকারী কমিশনার (ভূমি)-এর স্বাক্ষর জাল ও স্ক্যান করে ভুয়া নথি তৈরি করা হয়েছে বলে অভিযোগ।
একই দিন সন্ধ্যায় শাহজাদপুর উপজেলা ভূমি অফিসের নাজির কাম-ক্যাশিয়ার রতন কুমার সাহা বাদী হয়ে মিনা খাতুন, রাজিব মোসাব্বের ও রাসেল রানাসহ অজ্ঞাত চার-পাঁচজনের বিরুদ্ধে থানায় মামলা করেন।
শুক্রবার শাহজাদপুর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) এরশাদুল হকের নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল অভিযান চালিয়ে আত্মগোপনে থাকা মিনা খাতুন ও রাসেল রানাকে পৃথক স্থান থেকে গ্রেপ্তার করে।
এ বিষয়ে শাহজাদপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘চাঞ্চল্যকর এই ঘটনার পর থেকে আসামিরা দেশের বিভিন্ন স্থানে পালিয়ে যায়। পরে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ও বিভিন্ন কৌশল অবলম্বন করে আসামিদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে। জিজ্ঞাসাবাদে তাদের কাছ থেকে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া গেছে। গতকাল শনিবার আসামিদের বিজ্ঞ আদালতে পাঠানো হলে