সজিব রেজা, দিনাজপুর প্রতিনিধি:
দিনাজপুরের ঘোড়াঘাটে করতোয়া নদীতে তাসফিয়া নামে ৯ বছরের এক শিশুকে ফেলে হত্যার অভিযোগে তার সৎ বাবা সাফিউল ইসলামকে (৪০) গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
বুধবার (১৯ আগস্ট) দিবাগত রাত সাড়ে ১২টার দিকে গাইবান্ধার পলাশবাড়ী বাসস্ট্যান্ড থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তার সাফিউল ইসলাম ঘোড়াঘাট উপজেলার ভর্ণাপাড়া এলাকার মোসলেম উদ্দিনের ছেলে।
পুলিশ জানায়, তাসফিয়াকে একটি মাদরাসা থেকে অন্য মাদরাসায় ভর্তি করানোর কথা বলে সাফিউল সঙ্গে নিয়ে বের হন। পরে রাণীগঞ্জ বাজার থেকে ভ্যানে করে কবিরপুর, এরপর গোবিন্দপুর হয়ে মুসিপাড়ার ঘাটে যান। সেখান থেকে নৌকায় করে করতোয়া নদীতে প্রবেশ করেন তিনি।
পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, রাত ১২টা থেকে ১টার মধ্যে নৌকাটি নদীর মাঝামাঝি পৌঁছালে তাসফিয়াকে পানিতে ফেলে দেন সাফিউল। কিছুক্ষণ পর শিশুটির প্রতি মায়া হলে তাকে পানি থেকে তুলে নৌকায় নেন এবং বুকে জড়িয়ে ধরেন। পরে নৌকা নিয়ে তীরে ফিরে আসেন। তবে তীরে ফেরার পর মোবাইল ফোনে স্ত্রী লিজার সঙ্গে সাফিউলের কথাকাটাকাটি হয়। পুলিশের দাবি, একপর্যায়ে ক্ষুব্ধ হয়ে তিনি তাসফিয়াকে তীরের কাছেই নদীতে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দেন। এরপর বাড়ি ফিরে যান সাফিউল।
এর পরের দিন তাসফিয়ার মরদেহ করতোয়া নদীতে ভেসে ওঠে। স্থানীয়রা মরদেহ দেখতে পেয়ে পুলিশকে খবর দিলে ঘটনাস্থলে গিয়ে শিশুটির মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। পুলিশের দাবি, নেশার টাকা জোগানোকে কেন্দ্র করে সাফিউল ও তার স্ত্রীর মধ্যে পারিবারিক কলহ চলছিল। সেই বিরোধের জেরেই শিশুটিকে নদীতে ফেলে হত্যার ঘটনা ঘটে থাকতে পারে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে।
স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, ঢাকায় থাকা অবস্থায় সাফিউল ও লিজার মধ্যে প্রায়ই ঝগড়া হতো। গত ৯ আগস্ট ঢাকা থেকে বাড়িতে ফেরেন সাফিউল। এরপর ১৪ আগস্ট তাসফিয়াকে ঘোড়াঘাট-বিন্যাগাড়ি সড়কের জোবাইদা মহিলা মাদরাসায় ভর্তি করিয়ে আসেন তিনি। পরে রবিবার বিকেলে ভর্তি-সংক্রান্ত ছবি তোলার কথা বলে তাসফিয়াকে মাদরাসা থেকে নিয়ে আসেন সাফিউল। এরপর মাদরাসায় না গিয়ে শিশুটিকে নিয়ে বিভিন্ন স্থানে যান তিনি।
তাসফিয়ার মা লিজার সঙ্গে তার আপন বাবা মমিনুলের বিচ্ছেদ হয় ২০২২ সালে। এরপর তাসফিয়া আপন বাবার কাছেই থাকত। পরে লিজা সাফিউল ইসলামকে বিয়ে করেন। ২০২৫ সালের দিকে পরিবারের অগোচরে তাসফিয়াকে দ্বিতীয় স্বামীর কাছে নিয়ে আসেন লিজা। পরে তাসফিয়াকে সৎ দাদা-দাদির কাছে রেখে জীবিকার জন্য লিজা ও সাফিউল ঢাকায় চলে যান। লিজা পোশাক কারখানায় কাজ করতেন এবং সাফিউল রিকশা চালাতেন। এর মধ্যে তাদের সংসারে দাম্পত্য কলহ বাড়তে থাকে বলে স্থানীয়রা জানান।
ঘোড়াঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শহিদুল ইসলাম বলেন, শিশু তাসফিয়া হত্যার ঘটনায় তার সৎ বাবা সাফিউল ইসলামকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তিনি হত্যার সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন। এ ঘটনায় তাসফিয়ার আপন বাবা বাদী হয়ে মামলা করেছেন। বৃহস্পতিবার গ্রেপ্তার সাফিউলকে আদালতে পাঠানো হয়েছে।