মুন্সীগঞ্জ প্রতিনিধি
মুন্সীগঞ্জে দিন দিন ডেঙ্গুর পরিস্থিতি উদ্বেগজনক হয়ে উঠছে। চলতি আগস্ট মাসের প্রথম ১৭ দিনেই জেলার ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসা নিয়েছেন ৩৬০ জন। চলতি বছর এ পর্যন্ত ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা ১ হাজার ১৯১ জনে দাঁড়িয়েছে।
হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, গত ১৭ আগস্ট প্রকাশিত ডেঙ্গু প্রতিবেদনে আগের ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে ৩০ জন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার তথ্য পাওয়া গেছে। একই সময়ে চিকিৎসা শেষে আরও ৩০ জন ছাড়পত্র নিয়ে বাড়ি ফিরেছেন। বর্তমানে হাসপাতালটিতে ডেঙ্গু আক্রান্ত ৫৫ জন রোগী চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
গত ২৪ ঘণ্টায় কোনো ডেঙ্গু রোগীকে অন্য হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়নি। তবে রোগীর চাপ অব্যাহত থাকায় হাসপাতালের শয্যা সংকট দেখা দিয়েছে। ফলে অনেক রোগীকেই মেঝেতে চিকিৎসা নিতে হচ্ছে।
পরিসংখ্যান অনুযায়ী, চলতি বছরের জানুয়ারিতে ১১ জন, ফেব্রুয়ারিতে ৫ জন, মার্চে ৪ জন, এপ্রিলে ৩৯ জন, মে মাসে ৩৫ জন, জুনে ১৫১ জন এবং জুলাইয়ে ৪৯৫ জন ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। আগস্টের প্রথম ১৭ দিনেই ভর্তি হয়েছেন ৩৬০ জন।
ডেঙ্গুর পাশাপাশি মুন্সীগঞ্জের হাসপাতালগুলোতে ডায়রিয়ায় আক্রান্ত রোগীরাও ভর্তি হচ্ছেন। গত ২৪ ঘণ্টায় হাসপাতালে ডায়রিয়ায় আক্রান্ত ১১ জন রোগী ভর্তি হয়েছেন। তবে একই সময়ে ডায়রিয়া ও নিউমোনিয়ায় নতুন করে কোনো রোগী ভর্তি হওয়ার তথ্য পাওয়া যায়নি।
হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার পর যেসব ডেঙ্গু রোগীর শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটছে, তাদের উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকার বিভিন্ন হাসপাতালে পাঠানো হচ্ছে। ঢাকায় স্থানান্তরিত রোগীদের মধ্যে অনেকের মৃত্যুর ঘটনাও ঘটছে বলে জানা গেছে। কিন্তু ঢাকার হাসপাতালগুলোতে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে মুন্সীগঞ্জের রোগীদের মৃত্যুর তথ্য জেলা স্বাস্থ্য বিভাগের পরিসংখ্যানে যুক্ত হচ্ছে না।
এ কারণে মুন্সীগঞ্জে ডেঙ্গু আক্রান্ত ও মৃত্যুর প্রকৃত চিত্র নির্ধারণ করা কঠিন হয়ে পড়েছে। রোগীর সংখ্যা বাড়তে থাকায় জেলার হাসপাতালগুলোতে চিকিৎসা ব্যবস্থাপনা ও শয্যা সংকট নিয়েও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।