বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকারের প্রথম ছয় মাস পূর্তিতে সরকারকে ছয়টি পরামর্শ দিয়েছেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমির মুফতি সৈয়দ মুহাম্মাদ রেজাউল করীম (চরমোনাই পীর)। তাঁর পরামর্শগুলোর মধ্যে রয়েছে—জুলাই সনদ ও জুলাই গণভোট বাস্তবায়ন, দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণ, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম কমানো, গণহারে দলীয়করণ বন্ধ, ফ্যাসিবাদের সঙ্গে জড়িতদের শাস্তির আওতায় আনা এবং পাচার হওয়া অর্থ উদ্ধারে দৃশ্যমান অগ্রগতি নিশ্চিত করা।
সোমবার (১৭ আগস্ট) সরকারের ছয় মাস পূর্তি উপলক্ষে দেওয়া এক বিবৃতিতে এসব পরামর্শ দেন তিনি।
বিবৃতিতে চরমোনাই পীর বলেন, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও এর মাধ্যমে গঠিত সরকারকে দেশের প্রচলিত নির্বাচন বা সরকারের সঙ্গে এক করে দেখার সুযোগ নেই। রাষ্ট্রের দীর্ঘদিনের সমস্যা ও জঞ্জাল দূর করার প্রত্যাশা এবং গণঅভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষা থেকেই বর্তমান সরকারের যাত্রা শুরু হয়েছে। তবে সেই প্রত্যাশার তুলনায় এখন পর্যন্ত প্রাপ্তির মধ্যে বড় ধরনের ব্যবধান রয়েছে। এতে মানুষের আশাবাদ ধীরে ধীরে কমে যাচ্ছে।
তিনি বলেন, দীর্ঘ ১৫ বছরের ফ্যাসিবাদী শাসনের পর দায়িত্ব নেওয়া সরকারের মূল্যায়নে ছয় মাস হয়তো যথেষ্ট সময় নয়। তবে এটিকে একেবারে কম সময়ও বলা যায় না। সরকারের মেয়াদের প্রায় এক-দশমাংশ সময় ইতোমধ্যে পার হয়ে গেছে। এ সময়ে সব ক্ষেত্রে সাফল্য অর্জন সম্ভব না হলেও সরকারের উদ্যোগ, কর্মপদ্ধতি ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার দিক স্পষ্ট হওয়ার কথা। বিশেষ করে সংস্কার কার্যক্রমে সরকারের অবস্থান নিয়ে মানুষের মধ্যে হতাশা তৈরি হয়েছে।
চরমোনাই পীর অভিযোগ করেন, জুলাই সনদের ভিত্তিতে অনুষ্ঠিত গণভোটকে কার্যত গুরুত্বহীন করে দেওয়া হয়েছে। রাষ্ট্রে স্বৈরাচারী প্রবণতা ঠেকাতে যেসব অধ্যাদেশ জারি করা হয়েছিল, সেগুলোর কিছু বাতিল করা হয়েছে। আবার কোথাও নতুন আইন করা হলেও আগের সমস্যার কার্যকর সমাধান হয়নি। এসব পদক্ষেপ জুলাইয়ের আন্দোলনে অংশ নেওয়া ছাত্র-জনতার প্রত্যাশার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।
তিনি বলেন, জনগণের প্রত্যাশাকে উপেক্ষা করার ফল ভালো হয় না। হয়তো তাৎক্ষণিকভাবে মানুষ রাস্তায় নামবে না, কিন্তু এ ধরনের পরিস্থিতিতে রাজনৈতিক নেতৃত্বের প্রতি তাদের আস্থা কমে যেতে পারে।
তবে সরকারের কিছু উদ্যোগের প্রশংসাও করেন ইসলামী আন্দোলনের আমির। তিনি বলেন, কোনো কোনো ক্ষেত্রে সরকারের নেওয়া উদ্যোগ ও প্রচেষ্টা প্রশংসার দাবি রাখে। বিশেষ করে সরকারপ্রধানের দৃশ্যমান তৎপরতা ও ব্যস্ততা ইতিবাচক কিছু করার ইঙ্গিত দেয়। সরকারের অন্য দায়িত্বশীলদের কাছ থেকেও একই ধরনের সক্রিয় ভূমিকা প্রত্যাশা করেন তারা।
সরকারের প্রতি ছয়টি পরামর্শ তুলে ধরে চরমোনাই পীর বলেন, জুলাই সনদ ও জুলাই গণভোট বাস্তবায়ন করতে হবে; দুর্নীতির লাগাম টেনে ধরতে হবে; নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম কমানোর কার্যকর ব্যবস্থা নিতে হবে; গণহারে দলীয়করণ করা যাবে না; ফ্যাসিবাদের সঙ্গে জড়িতদের আইনের আওতায় এনে শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে এবং পাচার করা অর্থ উদ্ধারে দৃশ্যমান অগ্রগতি দেখাতে হবে।
বিবৃতির শেষাংশে তিনি বলেন, ‘আমরাও চাই এই সরকার সফল হোক।’