মোঃআতেফ ভূঁইয়া, গাজীপুর সদর প্রতিনিধি:
গাজীপুরের শ্রীপুরে বাবার কেনা জমিতে মায়ের মরদেহ দাফনে বাধা দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে জমির বিক্রেতার বিরুদ্ধে। পরে প্রায় ১৯ ঘণ্টা অপেক্ষার পর বাড়ির পাশে সরকারি খাস জমিতে মরদেহ দাফন করেন নিহতের ছেলে ও স্বজনেরা।
ঘটনাটি ঘটেছে উপজেলার মাওনা ইউনিয়নের আক্তাপাড়া গ্রামে। বুধবার (১২ আগস্ট) সকাল ১০টার দিকে ওই সরকারি খাস জমিতে শ্রী মেনোকা (৬০) নামের ওই নারীর মরদেহ দাফন করা হয়।
শ্রী মেনোকা আক্তাপাড়া গ্রামের শ্রী গোপালের স্ত্রী। মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) বিকেল ৩টার দিকে বার্ধক্যজনিত কারণে নিজ বাড়িতে তার মৃত্যু হয়। তিনি আদিবাসী সম্প্রদায়ের বাসিন্দা ছিলেন।
নিহতের ছেলে সুনীল চন্দ্র বর্মণ জানান, কয়েক বছর আগে তার বাবা স্থানীয় সফির উদ্দিনের কাছ থেকে এক শতাংশ জমি কেনেন। জমিটি সাব-কবলা দলিলের মাধ্যমে রেজিস্ট্রি করা সম্ভব হয়নি। পরিবারের দাবি, জুডিশিয়াল স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর নিয়ে জমির মূল্য পরিশোধ করা হয়েছিল।
মেনোকার মৃত্যুর পর ওই জমিতে মরদেহ দাফনের উদ্যোগ নিলে জমির বিক্রেতা সফির উদ্দিন বাধা দেন বলে অভিযোগ করেন স্বজনেরা। স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি, জনপ্রতিনিধি ও পুলিশ বিষয়টি সমাধানের চেষ্টা করলেও দাফনের অনুমতি মেলেনি।
নিহতের ভাই নিধারণের অভিযোগ, জমিতে মরদেহ দাফনের জন্য জায়গা খনন করতে গেলে সফির উদ্দিন, তার স্ত্রী ও সন্তানরা লাঠি নিয়ে এসে বাধা দেন। তাদের দাবি, বাবা জীবিত থাকতেই ওই এক শতাংশ জমি কেনা হয়েছিল। কিন্তু জমি কেনার দাবি থাকার পরও সেখানে মায়ের মরদেহ দাফন করতে না পারায় তারা কষ্ট পেয়েছেন। পরিবারের কারও মৃত্যুর পর দাফনের জন্য তাদের নিজস্ব জায়গাও নেই বলে জানান তিনি।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন সফির উদ্দিন। তিনি বলেন, তিনি ওই পরিবারের কাছে কোনো জমি বিক্রি করেননি এবং তাদের কাছ থেকে কোনো টাকাও নেননি। তার জমিতে মেনোকাকে দাফন করতে দেবেন না বলেও জানান তিনি।
মাওনা ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ও স্থানীয় বিএনপি নেতা বীর মুক্তিযোদ্ধা ফজলুল হক বলেন, সফির উদ্দিনকে বিষয়টি নিয়ে অনেক বোঝানোর চেষ্টা করা হয়েছিল। কিন্তু কোনো সমাধান না হওয়ায় ওই বৃদ্ধাকে বাবার কেনা জমিতে দাফন করা সম্ভব হয়নি।
শ্রীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ শাহীনুর আলম বলেন, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছিল। পুলিশ ওই ব্যক্তিকে বোঝানোর চেষ্টা করলেও তিনি দাফনে সম্মতি দেননি। পরে নিহতের স্বজনেরা বাড়ির পাশের সরকারি খাস জমিতে মেনোকাকে দাফন করেন।
জমি কেনাবেচা নিয়ে উভয় পক্ষের দাবির বিষয়ে স্থানীয়ভাবে আলোচনা হলেও বিরোধের সমাধান হয়নি। ফলে মায়ের মরদেহ দাফন নিয়েও তৈরি হয় দীর্ঘ অপেক্ষা ও অনিশ্চয়তা।