বুধবার, ১২ আগস্ট ২০২৬

পরীক্ষামূলক সংস্করণ

আন্তর্জাতিক

ইসলাম গ্রহণ করায় দুই বোনকে আটকে রাখেন বাবা, অবশেষে আদলতের হস্তক্ষেপ

ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করায় দুই প্রাপ্তবয়স্ক মেয়েকে বাড়িতে আটকে রাখার অভিযোগে ভারতের আগ্রার এক বাবাকে ভর্ৎসনা করেছেন এলাহাবাদ হাইকোর্ট। একই সঙ্গে দুই বোনকে অবিলম্বে মুক্ত করে তাদের স্বাধীনতা ফিরিয়ে দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। পাশাপাশি বাবা ও উত্তরপ্রদেশ সরকারকে যৌথভাবে দুই বোনকে ২৫ লাখ রুপি ক্ষতিপূরণ দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আদালত বলেছেন, সন্তান প্রাপ্তবয়স্ক হওয়ার পর […]

ইসলাম গ্রহণ করায় দুই বোনকে আটকে রাখেন বাবা, অবশেষে আদলতের হস্তক্ষেপ

ছবি সংগৃহীত

নিউজ ডেস্ক

১২ আগস্ট ২০২৬, ০২:১২

ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করায় দুই প্রাপ্তবয়স্ক মেয়েকে বাড়িতে আটকে রাখার অভিযোগে ভারতের আগ্রার এক বাবাকে ভর্ৎসনা করেছেন এলাহাবাদ হাইকোর্ট। একই সঙ্গে দুই বোনকে অবিলম্বে মুক্ত করে তাদের স্বাধীনতা ফিরিয়ে দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। পাশাপাশি বাবা ও উত্তরপ্রদেশ সরকারকে যৌথভাবে দুই বোনকে ২৫ লাখ রুপি ক্ষতিপূরণ দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

আদালত বলেছেন, সন্তান প্রাপ্তবয়স্ক হওয়ার পর তার ধর্মীয় বিশ্বাস, ব্যক্তিগত পছন্দ বা জীবনযাপনের সিদ্ধান্ত বাবা-মায়ের পছন্দ না হলেও তাকে আটকে রাখার কোনো সাংবিধানিক অধিকার তাদের নেই। একজন প্রাপ্তবয়স্ক ব্যক্তির ব্যক্তিস্বাধীনতা ভারতের সংবিধান দ্বারা সুরক্ষিত।

গত ৬ আগস্ট বিচারপতি সন্দীপ জৈনের একক বেঞ্চ এ রায় দেন।

স্বেচ্ছায় ইসলাম গ্রহণের দাবি দুই বোনের

৩৫ ও ২০ বছর বয়সী দুই বোন আদালতকে জানান, তারা ২০২০ ও ২০২১ সালে নিজেদের ইচ্ছায় ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেন। তাদের দাবি, ধর্ম পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে কোনো ধরনের প্রলোভন, জোরজবরদস্তি, চাপ বা অযাচিত প্রভাব কাজ করেনি।

আদালতে তারা অভিযোগ করেন, ইসলাম গ্রহণের বিষয়টি জানার পর তাদের বাবা বাড়িতে আটকে রাখেন এবং হিন্দুধর্মে ফিরে যাওয়ার জন্য চাপ দিতে থাকেন। এ সময় তাদের ভয় দেখানো এবং দীর্ঘদিন ধরে মানসিক ও শারীরিকভাবে হয়রানি করা হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তারা।

দুই বোন আরও জানান, তাদের পাসপোর্ট, শিক্ষাগত সনদ, পরিচয়পত্র, ব্যাংকের পাসবুক ও চেকবুক, ধর্ম পরিবর্তনসংক্রান্ত নথি এবং অন্যান্য ব্যক্তিগত জিনিসপত্র বাবা নিজের কাছে রেখে দিয়েছিলেন।

বড় বোন এমএসসি, এমফিল ও বিএড ডিগ্রিধারী। ছোট বোন দ্বাদশ শ্রেণি পর্যন্ত পড়াশোনা করেছেন।

তাদের আইনজীবী আলি বিন সাইফ ‘ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস’কে জানান, ২০২১ সালে বাবা মেয়েদের ইসলাম গ্রহণের বিষয়টি জানতে পারেন। এরপর গত বছর বাড়ি থেকে বের হয়ে কলকাতায় যাওয়ার আগ পর্যন্ত তাদের আটকে রাখা হয়েছিল বলে অভিযোগ করেন তিনি।

কলকাতা থেকে উদ্ধার, গ্রেপ্তার ১২ জন

গত বছর দুই বোন বাড়ি থেকে বেরিয়ে কলকাতায় চলে যান। পরে আগ্রা পুলিশ তাদের কলকাতা থেকে উদ্ধার করে। এ ঘটনায় অপহরণ ও জোর করে বিয়ে দেওয়ার অভিযোগে অন্তত ১২ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়।

তবে দুই বোনের আইনজীবীর দাবি, পুলিশ তাদের শেষ পর্যন্ত বাবার কাছে হস্তান্তর করে। পরে আদালতে দেওয়া জবানবন্দিতে দুই বোন তাদের আটকে রাখা ও নির্যাতনের অভিযোগ করেন।

‘ধর্মান্তর বড় ষড়যন্ত্র’, সরকারের দাবি

মামলার শুনানিতে উত্তরপ্রদেশ সরকারের পক্ষে অতিরিক্ত অ্যাডভোকেট জেনারেল দাবি করেন, দুই নারীর ধর্ম পরিবর্তন একটি বড় ও সংঘবদ্ধ ষড়যন্ত্রের অংশ। এর সঙ্গে দেশের সার্বভৌমত্ব, অখণ্ডতা ও ঐক্যের ওপর প্রভাব পড়তে পারে বলেও দাবি করেন তিনি।

তদন্তকারীরাও আদালতে দাবি করেন, বেআইনি ধর্মান্তরের মাধ্যমে দেশের সামাজিক কাঠামো নষ্ট করার পরিকল্পনার সঙ্গে কিছু ব্যক্তি জড়িত থাকার তথ্য পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় বিদেশি সংস্থা বা বাইরের কোনো প্রভাব থাকার ইঙ্গিতও পাওয়া গেছে বলে দাবি করা হয়।

তবে দুই বোনের আইনজীবী এসব দাবিকে অনুমাননির্ভর বলে উল্লেখ করেন। তার প্রশ্ন, দুই প্রাপ্তবয়স্ক নারী নিজেদের ইচ্ছায় ধর্ম পরিবর্তন করলে সেটি কীভাবে দেশের সার্বভৌমত্ব বা অখণ্ডতার জন্য হুমকি হতে পারে?

সরকারের দাবি মানেনি হাইকোর্ট

সব পক্ষের বক্তব্য শোনার পর উত্তরপ্রদেশ সরকারের এই দাবি গ্রহণ করেনি হাইকোর্ট। আদালত বলেন, দুই নারীর ইসলাম গ্রহণকে দেশের সার্বভৌমত্ব, অখণ্ডতা ও ঐক্যের জন্য হুমকি হিসেবে দেখার মতো কোনো বড় ষড়যন্ত্রের যথেষ্ট ভিত্তি আদালতের সামনে নেই।

আদালত আরও বলেন, দুই বোনের বক্তব্য ছিল স্বতঃস্ফূর্ত, সুসংগত ও স্পষ্ট। তারা জোরজবরদস্তি, ভয়, প্রলোভন বা অযাচিত প্রভাবের কারণে ধর্ম পরিবর্তন করেছেন—এমন কোনো প্রমাণও পাওয়া যায়নি।

বিচারপতি সন্দীপ জৈন বলেন, নিজেদের পছন্দের ধর্ম গ্রহণের কারণে দুই প্রাপ্তবয়স্ক নারীকে জোর করে আটকে রাখা আইনের শাসনের প্রতি গুরুতর অবমাননা। একই সঙ্গে এটি ভারতের সংবিধানের ২১ ও ২৫ অনুচ্ছেদে নিশ্চিত করা মৌলিক অধিকারের লঙ্ঘন।

রাষ্ট্রের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন

দুই নারীর স্বাধীনতা রক্ষায় রাষ্ট্রের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে আদালত। আদালত বলেন, নাগরিকের জীবন ও ব্যক্তিস্বাধীনতা রক্ষা করা রাষ্ট্রের সাংবিধানিক দায়িত্ব।

কিন্তু বেআইনিভাবে আটকে রাখার অভিযোগ থাকা সত্ত্বেও তাদের মুক্ত করার পরিবর্তে রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থাপনা সেই আটকাবস্থা চলতে দিয়েছে বলে আদালত পর্যবেক্ষণ করেন।

আদালতের মতে, সাংবিধানিক দায়িত্ব পালনে ব্যর্থতার কারণে দুই নারীর মৌলিক অধিকার লঙ্ঘনের জন্য রাষ্ট্রকেও দায় নিতে হবে।

২৫ লাখ রুপি ক্ষতিপূরণের নির্দেশ

শেষ পর্যন্ত দুই বোনকে অবিলম্বে মুক্ত করে তাদের স্বাধীনতা ফিরিয়ে দেওয়ার নির্দেশ দেন হাইকোর্ট। একই সঙ্গে বাবা ও উত্তরপ্রদেশ সরকারকে যৌথভাবে দুই বোনকে ২৫ লাখ রুপি ক্ষতিপূরণ দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়।

আদালত অবশ্য স্পষ্ট করে দিয়েছেন, মূল মামলার তদন্ত আইন অনুযায়ী চলবে। এই মামলার শুনানিতে আদালতের দেওয়া পর্যবেক্ষণ তদন্তের ওপর কোনো প্রভাব ফেলবে না।

আদালত আরও জানান, সরকার চাইলে ক্ষতিপূরণের ৫০ শতাংশ বাবার কাছ থেকে এবং বাকি ৫০ শতাংশ এমন কোনো সরকারি কর্মকর্তার কাছ থেকে আদায় করতে পারবে, যার কাজ বা নিষ্ক্রিয়তার কারণে দুই নারীর স্বাধীনতা অসাংবিধানিকভাবে কেড়ে নেওয়া হয়েছিল।

২০ জুন ২০২৫
poll_title
তুরস্ক, সৌদি ও পাকিস্তানসহ অন্যান্য দেশ নিয়ে ইসলামি সেনাবাহিনী গড়ার উদ্যোগ নিয়েছে ইরান। আপনি কি এই আর্মি গঠনের পক্ষে?

তুরস্ক, সৌদি ও পাকিস্তানসহ অন্যান্য দেশ নিয়ে ইসলামি সেনাবাহিনী গড়ার উদ্যোগ নিয়েছে ইরান। আপনি কি এই আর্মি গঠনের পক্ষে?

মোট ভোট: ৫১১৭

আন্তর্জাতিক

তিন দেশের নাগরিকদের প্রবেশ ও ভিসা স্থগিত করল সৌদি আরব

ইবোলা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব রোধে সতর্কতামূলক পদক্ষেপ হিসেবে ডেমোক্রেটিক রিপাবলিক অব কঙ্গো, উগান্ডা এবং দক্ষিণ সুদানের নাগরিকদের ওপর ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে সৌদি আরব। একই সঙ্গে এই তিন দেশ থেকে আসা যেকোনো ভ্রমণকারীর জন্য ভিসা ইস্যু এবং সৌদিতে প্রবেশ সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে। সৌদি প্রেস এজেন্সি (এসপিএ) জানিয়েছে, এই নিষেধাজ্ঞা শুধুমাত্র সরাসরি ওই তিন দেশ থেকে […]

তিন দেশের নাগরিকদের প্রবেশ ও ভিসা স্থগিত করল সৌদি আরব

তিন দেশের নাগরিকদের প্রবেশ ও ভিসা স্থগিত করল সৌদি আরব

ডেস্ক রিপোর্ট

২৭ জুন ২০২৬, ১০:০৯

ইবোলা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব রোধে সতর্কতামূলক পদক্ষেপ হিসেবে ডেমোক্রেটিক রিপাবলিক অব কঙ্গো, উগান্ডা এবং দক্ষিণ সুদানের নাগরিকদের ওপর ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে সৌদি আরব। একই সঙ্গে এই তিন দেশ থেকে আসা যেকোনো ভ্রমণকারীর জন্য ভিসা ইস্যু এবং সৌদিতে প্রবেশ সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে।

সৌদি প্রেস এজেন্সি (এসপিএ) জানিয়েছে, এই নিষেধাজ্ঞা শুধুমাত্র সরাসরি ওই তিন দেশ থেকে আসা যাত্রীদের ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য নয়, বরং তৃতীয় কোনো দেশ হয়ে যারা সৌদি আরবে প্রবেশের চেষ্টা করছেন, তাদের ক্ষেত্রেও কার্যকর হবে। সৌদিতে প্রবেশের আগের ২১ দিনের মধ্যে যদি কোনো ব্যক্তি এই তিন দেশের যেকোনো একটিতে অবস্থান করে থাকেন, তবে তিনিও এই নিষেধাজ্ঞার আওতায় পড়বেন। এছাড়া সৌদি নাগরিকদেরও ওই তিন দেশে ভ্রমণ না করার নির্দেশনা দিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

সৌদি আরবের জনস্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ ‘ওয়াকায়া’ জানিয়েছে, জনস্বাস্থ্য সুরক্ষা এবং সংক্রামক ব্যাধির আন্তঃসীমান্ত বিস্তার রোধে এই জরুরি ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। ইবোলা সংক্রমণের ঝুঁকি কমাতে সৌদি আরবের প্রবেশপথগুলোতে স্বাস্থ্য পরীক্ষা (স্ক্রিনিং), রোগ নজরদারি এবং দ্রুত সাড়াদান প্রক্রিয়া আরও জোরদার করা হয়েছে। এছাড়া আক্রান্ত দেশগুলোর প্রতিবেশী রাষ্ট্র—যেমন রুয়ান্ডা, বুরুন্ডি, তানজানিয়া ও কঙ্গো প্রজাতন্ত্র (ব্রাজাভিল) থেকে আগত যাত্রীদের ক্ষেত্রেও বাড়তি সতর্কতা অবলম্বন করা হচ্ছে।

কর্তৃপক্ষ নিশ্চিত করেছে যে, সৌদি আরবের জনস্বাস্থ্য পরিস্থিতি বর্তমানে সম্পূর্ণ স্থিতিশীল। প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা চালুর পর থেকে দেশটিতে এখন পর্যন্ত ইবোলার কোনো নিশ্চিত বা সন্দেহভাজন রোগী শনাক্ত হয়নি। আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক মহামারি পরিস্থিতির ওপর সৌদি কর্তৃপক্ষ সার্বক্ষণিক নজর রাখছে এবং পরিস্থিতি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণে দেশটির স্বাস্থ্য বিভাগ প্রস্তুত রয়েছে।

২০ জুন ২০২৫
poll_title
তুরস্ক, সৌদি ও পাকিস্তানসহ অন্যান্য দেশ নিয়ে ইসলামি সেনাবাহিনী গড়ার উদ্যোগ নিয়েছে ইরান। আপনি কি এই আর্মি গঠনের পক্ষে?

তুরস্ক, সৌদি ও পাকিস্তানসহ অন্যান্য দেশ নিয়ে ইসলামি সেনাবাহিনী গড়ার উদ্যোগ নিয়েছে ইরান। আপনি কি এই আর্মি গঠনের পক্ষে?

মোট ভোট: ৫১১৭

আন্তর্জাতিক

প্রাপ্য পানির ওপর কেউ হাত দিলে সেই হাত কেটে ফেলা হবে

ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে দীর্ঘদিনের ঐতিহাসিক সিন্ধু নদ পানিবণ্টন চুক্তি নিয়ে দুই দেশের কূটনৈতিক উত্তেজনা চরমে পৌঁছেছে। পাকিস্তানের এক শীর্ষ মন্ত্রী ভারতের নাম উল্লেখ না করে হুমকি দিয়ে জানিয়েছেন যে তাদের প্রাপ্য পানির ওপর কেউ হাত দিলে সেই হাত কেটে ফেলা হবে। ভারতের কেন্দ্রীয় জলসম্পদ মন্ত্রী সি আর পাতিল কর্তৃক আগামী দেড় থেকে দুই বছরের […]

প্রাপ্য পানির ওপর কেউ হাত দিলে সেই হাত কেটে ফেলা হবে

ছবি সংগৃহীত

নিউজ ডেস্ক

৩০ জুন ২০২৬, ১০:৪৫

ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে দীর্ঘদিনের ঐতিহাসিক সিন্ধু নদ পানিবণ্টন চুক্তি নিয়ে দুই দেশের কূটনৈতিক উত্তেজনা চরমে পৌঁছেছে। পাকিস্তানের এক শীর্ষ মন্ত্রী ভারতের নাম উল্লেখ না করে হুমকি দিয়ে জানিয়েছেন যে তাদের প্রাপ্য পানির ওপর কেউ হাত দিলে সেই হাত কেটে ফেলা হবে।

ভারতের কেন্দ্রীয় জলসম্পদ মন্ত্রী সি আর পাতিল কর্তৃক আগামী দেড় থেকে দুই বছরের মধ্যে ভারতের অংশের সমস্ত পানি সম্পূর্ণ ব্যবহারের ঘোষণার পরই ইসলামাবাদের পক্ষ থেকে এই তীব্র প্রতিক্রিয়া এল।

ইসলামাবাদে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে পাকিস্তানের জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক মন্ত্রী মুসাদিক মালিক সরাসরি অভিযোগ করেন যে প্রতিবেশী দেশের প্রধানমন্ত্রী সিন্ধু নদের পানির কলটি নিয়ন্ত্রণ করছেন এবং তিনি পাকিস্তানে এক ফোঁটা পানিও আসতে দিতে চান না।

পাকিস্তানি এই মন্ত্রী বলেন যে তাদের দেশের প্রায় ৫০ শতাংশ মানুষের জীবিকা কৃষির ওপর নির্ভরশীল। ফলে অন্য কেউ এসে তাদের দেশের খাদ্য নিরাপত্তা, অর্ধেক কর্মসংস্থান এবং ২৫ শতাংশ অর্থনীতি নিয়ন্ত্রণ করবে, তা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া হবে না। তিনি হুশিয়ারি দিয়ে বলেন যে পানির অধিকার খর্ব করা হলে তার চড়া মূল্য দিতে হবে এবং তারা যেকোনো মূল্যে নিজেদের স্বার্থ রক্ষা করবেন।

মুসাদিক মালিক আরও যুক্তি দেন যে আন্তর্জাতিক প্রথা অনুযায়ী চুক্তি না থাকলেও নদীর উপরিভাগে থাকা দেশগুলো নিচের দেশের পানি প্রবাহ বন্ধ করতে পারে না।

অথচ দুই দেশের মধ্যে ১৯৬০ সালে বিশ্বব্যাংকের মধ্যস্থতায় স্বাক্ষরিত একটি সুনির্দিষ্ট চুক্তি রয়েছে। বিশ্বের অন্যান্য নিম্ন অববাহিকার শিশুদের পানির অধিকার রয়েছে কি না এবং আন্তর্জাতিকভাবে কোনটা প্রকৃত ন্যায়বিচার, তা নির্ধারণের জন্য তারা এই বিষয়টি বিশ্ব দরবারে তুলে ধরবেন।

একই সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত পাকিস্তানের তথ্যমন্ত্রী আতাউল্লাহ তারার দাবি করেন যে সিন্ধু নদ পানিবণ্টন চুক্তিটি আইনগতভাবে এখনও বহাল রয়েছে এবং কোনো দেশ এককভাবে এটি বাতিল বা সংশোধন করতে পারে না।

তিনি পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ এবং সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল অসীম মুনিরের বক্তব্য পুনর্ব্যক্ত করে বলেন যে সিন্ধু নদের পানি পাকিস্তানের জন্য জীবনরেখা এবং এটি তাদের জন্য একটি লাল রেখা বা ‘রেড লাইন’।

অন্য দিকে ভারতের অবস্থান অত্যন্ত সুদৃঢ় ও স্পষ্ট। গত বছর জম্মু ও কাশ্মীরের পহেলগামে একটি ভয়াবহ আন্তঃসীমান্ত সন্ত্রাসী হামলায় ২৫ জন পর্যটকসহ মোট ২৬ জন বেসামরিক নাগরিক নিহত হওয়ার পর নয়া দিল্লি এই ঐতিহাসিক পানিবণ্টন চুক্তিটি সাময়িকভাবে স্থগিত বা মুলতবি ঘোষণা করে।

ভারতের পক্ষ থেকে পরিষ্কার জানিয়ে দেওয়া হয়েছে যে পাকিস্তান যতক্ষণ না তাদের মাটিতে লালিত রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতার সন্ত্রাসী পরিকাঠামো সম্পূর্ণ ধ্বংস করার দৃশ্যমান প্রমাণ দেবে, ততক্ষণ পর্যন্ত এই পানি চুক্তি স্থগিতই থাকবে।

সূত্র: এনডিটিভি

২০ জুন ২০২৫
poll_title
তুরস্ক, সৌদি ও পাকিস্তানসহ অন্যান্য দেশ নিয়ে ইসলামি সেনাবাহিনী গড়ার উদ্যোগ নিয়েছে ইরান। আপনি কি এই আর্মি গঠনের পক্ষে?

তুরস্ক, সৌদি ও পাকিস্তানসহ অন্যান্য দেশ নিয়ে ইসলামি সেনাবাহিনী গড়ার উদ্যোগ নিয়েছে ইরান। আপনি কি এই আর্মি গঠনের পক্ষে?

মোট ভোট: ৫১১৭

আন্তর্জাতিক

ওমান উপকূলে ড্রোন হামলায় ডুবে গেছে ভারতীয় জাহাজ!

ওমান উপকূলের কাছে ভারতীয় পতাকাবাহী একটি জাহাজ ড্রোন হামলার শিকার হয়েছে বলে জানিয়েছে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। পরে ওমান কর্তৃপক্ষ জাহাজটির নাবিকদের উদ্ধার করে নিরাপদে সরিয়ে নেয়। জানা গেছে, ড্রোন হামলার পর সাগরে পুরোপুরি ডুবে যায় ওই জাহাজটি। ‘এমএসভি হাজি আলি’ (Haji Ali) নামের কার্গো শিপের উপর এই হামলার ঘটনায় তীব্র উদ্বেগ প্রকাশ করেছে নয়াদিল্লি। প্রাথমিক […]

নিউজ ডেস্ক

১৪ মে ২০২৬, ১৮:০৪

ওমান উপকূলের কাছে ভারতীয় পতাকাবাহী একটি জাহাজ ড্রোন হামলার শিকার হয়েছে বলে জানিয়েছে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। পরে ওমান কর্তৃপক্ষ জাহাজটির নাবিকদের উদ্ধার করে নিরাপদে সরিয়ে নেয়।

জানা গেছে, ড্রোন হামলার পর সাগরে পুরোপুরি ডুবে যায় ওই জাহাজটি। ‘এমএসভি হাজি আলি’ (Haji Ali) নামের কার্গো শিপের উপর এই হামলার ঘটনায় তীব্র উদ্বেগ প্রকাশ করেছে নয়াদিল্লি।

প্রাথমিক রিপোর্ট অনুযায়ী, সন্দেহভাজন ড্রোন হামলার জেরেই জাহাজটি ডুবে গিয়েছে। তবে জাহাজে থাকা ১৪ জন ভারতীয় নাবিককেই নিরাপদে উদ্ধার করেছে ওমান কোস্টগার্ড।

ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক মুখপাত্র হামলাকে ‘অগ্রহণযোগ্য’ বলে উল্লেখ করেন এবং দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য ওমান কর্তৃপক্ষকে ধন্যবাদ জানান। তিনি বলেন, জাহাজের সব ক্রু সদস্য নিরাপদ আছেন।

বৃহস্পতিবার (১৪ মে) এক বিবৃতিতে ভারত বলেছে, বাণিজ্যিক জাহাজকে লক্ষ্যবস্তু করা এবং নিরীহ বেসামরিক নাবিকদের জীবন ঝুঁকির মধ্যে ফেলা থেকে বিরত থাকতে হবে।

পাশাপাশি নৌ চলাচল ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের স্বাধীনতায় বাধা সৃষ্টি না করার আহ্বান জানানো হয়েছে।

২০ জুন ২০২৫
poll_title
তুরস্ক, সৌদি ও পাকিস্তানসহ অন্যান্য দেশ নিয়ে ইসলামি সেনাবাহিনী গড়ার উদ্যোগ নিয়েছে ইরান। আপনি কি এই আর্মি গঠনের পক্ষে?

তুরস্ক, সৌদি ও পাকিস্তানসহ অন্যান্য দেশ নিয়ে ইসলামি সেনাবাহিনী গড়ার উদ্যোগ নিয়েছে ইরান। আপনি কি এই আর্মি গঠনের পক্ষে?

মোট ভোট: ৫১১৭