দেশের দুই জেলায় পৃথক সড়ক দুর্ঘটনায় এক শিশুসহ অন্তত ১৬ জন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন আরও বেশ কয়েকজন। শুক্রবার ভোর থেকে সকাল ৭টার মধ্যে সিলেট ও বগুড়ায় ভয়াবহ এ দুটি দুর্ঘটনা ঘটে।
সকাল ৭টার দিকে সিলেটের ওসমানীনগরের কাশিকাপন এলাকায় ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে দুই যাত্রীবাহী বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষে এক শিশুসহ ৯ জন নিহত হন। আহত হন আরও বেশ কয়েকজন যাত্রী।
ওসমানীনগর থানার পরিদর্শক তদন্ত জয়নাল আবেদিন জানান, ঢাকাগামী ইউনিক পরিবহণের একটি বাসের সঙ্গে সিলেটগামী বেঙ্গল স্লিপার কোচের মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। সংঘর্ষের তীব্রতায় ইউনিক পরিবহণের বাসটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সড়কের পাশের খাদে পড়ে যায়। এতে ঘটনাস্থলেই বাসটির সাত যাত্রী প্রাণ হারান।
দুর্ঘটনার পর আহতদের উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়া হয়। গুরুতর আহত তিন বছরের এক শিশুকে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। পরে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আরও একজনের মৃত্যু হয়। এ নিয়ে সিলেটে নিহতের সংখ্যা দাঁড়ায় ৯ জনে। নিহতদের সবাই ইউনিক পরিবহণের যাত্রী ছিলেন বলে জানা গেছে।
খবর পেয়ে শেরপুর হাইওয়ে পুলিশ, ওসমানীনগর থানা পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার অভিযান চালান।
অন্যদিকে শুক্রবার ভোর সাড়ে ৫টার দিকে বগুড়া সদরের এরুলিয়া সিল্কিবান্ধা এলাকায় বাসচাপায় সাত দিনমজুর নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন অন্তত ১৫ জন।
পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা নওগাঁগামী শাহ ফতেহ আলী পরিবহণের একটি বাস গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টির মধ্যে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে বগুড়া-নওগাঁ সড়কের পাশে একটি বিদ্যুতের খুঁটিতে আঘাত করে। সেখানে কাজের সন্ধানে কয়েকজন দিনমজুর অপেক্ষা করছিলেন। বাসটি তাদের চাপা দিলে ঘটনাস্থলেই তিনজন নিহত হন।
আহতদের ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা স্থানীয়দের সহযোগিতায় উদ্ধার করে বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেন। পরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আরও চারজনের মৃত্যু হয়।
নিহতদের মধ্যে চারজনের পরিচয় পাওয়া গেছে। তারা হলেন গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জের আমিরুল ইসলাম ও নূর আলম, বগুড়া সদরের ফাঁপোড় এলাকার বেলাল হোসেন এবং জয়পুরহাটের তাজমুল।
দুই দুর্ঘটনায় মোট ১৬ জনের প্রাণহানির পাশাপাশি বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন। আহতদের বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।