অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেছেন, চায়না ইকোনমিক অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিয়াল জোনে (সিইআইজেড) এক বিলিয়ন মার্কিন ডলারের বেশি বিনিয়োগ হবে। তিনি বলেন, এ প্রকল্প শুধু আনোয়ারা নয়, পুরো দক্ষিণ চট্টগ্রামের অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে এবং দেশের শিল্পায়নে নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করবে।
সোমবার চট্টগ্রামের আনোয়ারা উপজেলার বেলচূড়া এলাকায় চায়না ইকোনমিক অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিয়াল জোনের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।
অনুষ্ঠানে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ বলেন, এ প্রকল্পে দেশি-বিদেশি সব বিনিয়োগকারীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে সরকার। তিনি বলেন, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন ছাড়া বিনিয়োগ সম্ভব নয় এবং বিনিয়োগের নিরাপত্তা নিশ্চিত না হলে অর্থনৈতিক অগ্রগতিও বাধাগ্রস্ত হবে।
দীর্ঘ এক যুগ পর ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনের মাধ্যমে দেশের অন্যতম বড় এ অর্থনৈতিক অঞ্চলের আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু হলো। অনুষ্ঠানে ভূমি প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন, আনোয়ারা আসনের সংসদ সদস্য সরওয়ার জামাল নিজাম, বাংলাদেশে নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন, বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষের (বেজা) নির্বাহী চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরী, চট্টগ্রাম চেম্বারের সভাপতি আমিরুল হকসহ দেশি-বিদেশি বিনিয়োগকারী ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, প্রাথমিকভাবে ৫০০ মিলিয়ন ডলার বিনিয়োগের লক্ষ্যমাত্রা থাকলেও অবকাঠামোসহ সামগ্রিক বিনিয়োগের পরিমাণ শেষ পর্যন্ত এক বিলিয়ন ডলারের বেশি হবে।
তিনি বলেন, এ অর্থনৈতিক অঞ্চলের প্রভাব শুধু আনোয়ারায় সীমাবদ্ধ থাকবে না। এর মাধ্যমে সরবরাহ ব্যবস্থা শক্তিশালী হবে এবং আবাসন, পরিবহন, লজিস্টিকস, সেবাখাত ও ক্ষুদ্র-মাঝারি উদ্যোক্তাদের জন্য নতুন সুযোগ তৈরি হবে।
গণমাধ্যমের সঙ্গে আলাপকালে অর্থমন্ত্রী বলেন, সরকারের লক্ষ্য অর্থনীতিকে বিনিয়োগনির্ভর অর্থনীতিতে রূপান্তর করা, কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা এবং ২০৩৪ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতিতে পরিণত করা। এ লক্ষ্য অর্জনে দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
তিনি বলেন, চীনের বিনিয়োগকারীরা তৈরি পোশাকের পাশাপাশি মেডিকেল ইকুইপমেন্ট, মোবাইল ফোন উৎপাদনসহ বিভিন্ন খাতে বিনিয়োগে আগ্রহ দেখাচ্ছেন। পাশাপাশি বিদেশি প্রত্যক্ষ বিনিয়োগ (এফডিআই), দেশীয় বিনিয়োগ এবং পুঁজিবাজারে বিদেশি বিনিয়োগকারীদের আগ্রহও বাড়ছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
মন্ত্রী আরও বলেন, আগামী পাঁচ বছরে ৮ শতাংশের বেশি প্রবৃদ্ধি অর্জন এবং মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে সরকার কাজ করছে। এ লক্ষ্যে ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ তৈরিতে আইন, নীতিমালা ও বিধিবিধানে সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ বলেন, বিনিয়োগকারীদের জন্য নিরাপদ ও স্থিতিশীল পরিবেশ নিশ্চিত করতে সরকার ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সমন্বিতভাবে কাজ করছে, যাতে দেশি-বিদেশি উদ্যোক্তারা আস্থার সঙ্গে বাংলাদেশে বিনিয়োগ করতে পারেন।