ভারতের মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষা নিয়ে অনিয়মের অভিযোগ এবং শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতে আয়োজিত বিক্ষোভকে কেন্দ্র করে রাজধানী দিল্লিতে উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। সংসদের বর্ষাকালীন অধিবেশন চলাকালে সংসদ ভবনের বাইরে হাজারো বিক্ষোভকারী জড়ো হলে নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার করা হয়। এ সময় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বহরও কড়া নিরাপত্তার মধ্যে সংসদ এলাকা ত্যাগ করে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, সোমবার সকাল থেকেই সংসদ চত্বর ও আশপাশের এলাকায় কড়া নিরাপত্তা বলয় গড়ে তোলে দিল্লি পুলিশ। বিক্ষোভকারীদের একটি অংশ ব্যারিকেড অতিক্রম করে এগিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলে পুলিশের সঙ্গে ধস্তাধস্তির ঘটনা ঘটে। এতে কয়েকজন বিক্ষোভকারী ও পুলিশ সদস্য আহত হওয়ার খবর পাওয়া যায়।
পরিস্থিতি দ্রুত মধ্য দিল্লির কনট প্লেস, শাস্ত্রী ভবন, রেল ভবন, কনস্টিটিউশন ক্লাব এবং রিজার্ভ ব্যাংক অব ইন্ডিয়ার আশপাশের এলাকাতেও ছড়িয়ে পড়ে। বিভিন্ন স্থানে বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে পুলিশ ও আধাসামরিক বাহিনী কাঁদানে গ্যাসের শেল নিক্ষেপ করে। রেল ভবনের সামনে দীর্ঘ সময় উত্তেজনা বিরাজ করলে অতিরিক্ত নিরাপত্তা বাহিনী মোতায়েন করা হয়।
উত্তেজনাকর পরিস্থিতির কারণে সংসদের দক্ষিণ দিকের প্রধান প্রবেশপথ সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেওয়া হয়। এতে মধ্য দিল্লির বিভিন্ন সড়কে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়। নিরাপত্তার স্বার্থে জনপথ, রাজীব চক, পটেল চক, সেন্ট্রাল সেক্রেটারিয়েট ও সেবাতীর্থ মেট্রো স্টেশনের প্রবেশপথও সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়, ফলে সাধারণ যাত্রীরা ভোগান্তিতে পড়েন।
দিল্লি পুলিশ জানিয়েছে, জন্তর মন্তর, সংসদ ভবন এবং গুরুত্বপূর্ণ সরকারি স্থাপনায় বিপুলসংখ্যক পুলিশ ও র্যাপিড অ্যাকশন ফোর্স (আরএএফ) মোতায়েন রয়েছে। পুলিশের দাবি, কর্মসূচির জন্য প্রশাসনের আনুষ্ঠানিক অনুমতি নেওয়া হয়নি। এছাড়া সংসদ এলাকার আশপাশে জারি থাকা নিষেধাজ্ঞার কারণে নির্ধারিত সংখ্যার বেশি মানুষের জমায়েত আইনত নিষিদ্ধ।
অন্যদিকে, আন্দোলনকারীদের দাবি, তারা আগেই কর্মসূচির বিষয়ে পুলিশকে লিখিতভাবে অবহিত করেছিলেন। তাদের অভিযোগ, প্রশাসন জোরপূর্বক কর্মসূচি বাধাগ্রস্ত করার চেষ্টা করছে। বিক্ষোভস্থলের আশপাশে মোবাইল ও ইন্টারনেট সেবা বন্ধ করে দেওয়ার অভিযোগও তুলেছেন তারা।
এদিকে, আন্দোলনের আয়োজকদের দাবি, কেন্দ্রীয় সরকার তাদের সঙ্গে আলোচনায় বসতে সম্মত হয়েছে। তবে এ বিষয়ে সরকারের পক্ষ থেকে এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য দেওয়া হয়নি।
তুরস্ক, সৌদি ও পাকিস্তানসহ অন্যান্য দেশ নিয়ে ইসলামি সেনাবাহিনী গড়ার উদ্যোগ নিয়েছে ইরান। আপনি কি এই আর্মি গঠনের পক্ষে?