শনিবার, ০৪ জুলাই ২০২৬

পরীক্ষামূলক সংস্করণ

ফুটবল

জিতেছে আর্জেন্টিনা, কেন প্রশংসায় ভাসছে কেপ ভার্দে?

কী অসাধারণ একটা ম্যাচ! কী দুর্দান্ত লড়াই! শেষ পর্যন্ত জয় পেয়েছে আর্জেন্টিনা, কিন্তু ফুটবলপ্রেমীদের হৃদয় জিতে নিয়েছে কেপ ভার্দে। মাত্র ছয় লাখ মানুষের ছোট্ট এক দ্বীপরাষ্ট্র, যার জাতীয় দলের বেশির ভাগ খেলোয়াড়ই বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বেড়ে ওঠা প্রবাসী। সেই দলই বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনাকে এমনভাবে চাপে ফেলেছিল, যেন একটু হলেই মায়ামিতে ঘটতে চলছিল বিশ্বকাপের অন্যতম বড় অঘটন। […]

জিতেছে আর্জেন্টিনা, কেন প্রশংসায় ভাসছে কেপ ভার্দে?

জিতেছে আর্জেন্টিনা, কেন প্রশংসায় ভাসছে কেপ ভার্দে?

ডেস্ক রিপোর্ট

০৪ জুলাই ২০২৬, ১১:০৪

কী অসাধারণ একটা ম্যাচ! কী দুর্দান্ত লড়াই! শেষ পর্যন্ত জয় পেয়েছে আর্জেন্টিনা, কিন্তু ফুটবলপ্রেমীদের হৃদয় জিতে নিয়েছে কেপ ভার্দে। মাত্র ছয় লাখ মানুষের ছোট্ট এক দ্বীপরাষ্ট্র, যার জাতীয় দলের বেশির ভাগ খেলোয়াড়ই বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বেড়ে ওঠা প্রবাসী। সেই দলই বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনাকে এমনভাবে চাপে ফেলেছিল, যেন একটু হলেই মায়ামিতে ঘটতে চলছিল বিশ্বকাপের অন্যতম বড় অঘটন।

এই ম্যাচের গল্প এক কথায় বলা কঠিন। ১২০ মিনিটজুড়ে যেন একের পর এক নাটকীয় দৃশ্য। কখনও লিওনেল মেসির জাদু, কখনও ৪০ বছর বয়সী গোলরক্ষক ভোজিনিয়ার অবিশ্বাস্য সব সেভ, আবার কখনও কেপ ভার্দের অবিশ্বাস্য প্রত্যাবর্তন। ম্যাচের গতি, আবেগ আর নাটকীয়তা এত দ্রুত বদলেছে যে শেষ বাঁশি বাজা পর্যন্ত কিছুই নিশ্চিত ছিল না।

শেষ বাঁশি বাজার পর আর্জেন্টিনার খেলোয়াড়রা হাঁটু গেড়ে বসে পড়েন। গ্যালারিতে তখন স্বস্তির উল্লাস। ৩-২ ব্যবধানে জিতে কোয়ার্টার ফাইনালে জায়গা নিশ্চিত করে লিওনেল স্কালোনির দল, যেখানে তাদের প্রতিপক্ষ মিসর।

তবে ম্যাচ শেষের সবচেয়ে আবেগঘন দৃশ্যটা ছিল অন্য প্রান্তে। কেপ ভার্দের খেলোয়াড়রা হতাশ মুখে হাঁটছিলেন ঠিকই, কিন্তু তাদের দেখে মনে হচ্ছিল, সুযোগ পেলে আরও ৩০ মিনিট খেলতেও প্রস্তুত। বিশ্বকাপ যাত্রা শেষ হয়ে গেলেও তারা বিদায় নিয়েছে এমন এক ম্যাচ খেলে, যা অনেক দিন মনে রাখবে ফুটবল বিশ্ব।

ম্যাচের সবচেয়ে স্মরণীয় মুহূর্তগুলোর একটি আসে অতিরিক্ত সময়ে। নির্ধারিত ৯০ মিনিট শেষ হয়েছিল ১-১ সমতায়। মনে হচ্ছিল, ম্যাচের ভাগ্য এখনও ঝুলে আছে।

অতিরিক্ত সময় শুরু হওয়ার দুই মিনিটের মাথায় কর্নার থেকে ফিরে আসা বল বক্সের বাইরে পান লিসান্দ্রো মার্তিনেজ। ডিফেন্ডারকে কাটিয়ে জোরালো শটে বল জালে পাঠিয়ে আবারও আর্জেন্টিনাকে এগিয়ে দেন তিনি। স্টেডিয়ামজুড়ে তখন স্বস্তির বিস্ফোরণ। যেন সবাই ধরে নিয়েছিল, এবার আর ভুল হবে না।

কিন্তু কেপ ভার্দে হার মানার দল নয়।

গোল হজম করার পরই তারা পাল্টা আক্রমণে ঝাঁপিয়ে পড়ে। অল্প সময়ের মধ্যে আদায় করে নেয় টানা তিনটি কর্নার। এরপর ১০২তম মিনিটে আসে এমন একটি গোল, যা এবারের বিশ্বকাপের সেরাগুলোর তালিকায় সহজেই জায়গা পাবে।

বাঁ প্রান্তে বল পেয়ে ধীরে ধীরে ভেতরে ঢোকেন সিডনি লোপেস কাবরাল। জায়গা তৈরি করে ডান পায়ের নিখুঁত শটে বল পাঠিয়ে দেন দূরের কোণে। এমিলিয়ানো মার্তিনেজের কোনো সুযোগই ছিল না। বলটি যেন বাতাস চিরে ধীরে ধীরে জালের দিকে এগিয়ে গেল, আর মুহূর্তেই স্তব্ধ হয়ে গেল আর্জেন্টিনা সমর্থকে ঠাসা গ্যালারির বড় একটি অংশ।

গোল করেই দৌড়াতে শুরু করেন কাবরাল। মাঠ ছেড়ে গ্যালারির সিঁড়ি বেয়ে ওপরে উঠে কাউকে জড়িয়ে ধরে উদযাপন করেন। সম্ভবত তিনি তার প্রেমিকা ছিলেন—আর না হলেও, এমন এক মুহূর্তের পর সম্পর্কটা আরও দৃঢ় হয়ে যাওয়ারই কথা।

কেপ ভার্দের খেলোয়াড়রা তখন নাচছেন, একে অপরকে জড়িয়ে ধরছেন। অতিরিক্ত সময়ের তখনও ১৫ মিনিট বাকি, অথচ তাদের মধ্যে ক্লান্তির কোনো ছাপ নেই।

তবু শেষ পর্যন্ত জয়টা যায় আর্জেন্টিনারই। ১১১তম মিনিটে লিওনেল মেসির কর্নার থেকে ক্রিস্তিয়ান রোমেরোর হেড ডিফেন্ডার দিনেই বোর্হেসের গায়ে লেগে জালে জড়িয়ে যায়।

তাতেও অবশ্য শেষ চেষ্টা ছাড়েনি কেপ ভার্দে। ১১৬তম মিনিটে এমিলিয়ানো মার্তিনেজকে দুর্দান্ত দুটি সেভ করতে বাধ্য করে তারা। কিন্তু আর সমতা ফেরানো হয়নি। শেষ বাঁশি বাজতেই আর্জেন্টিনা বেঁচে যায়, আর কেপ ভার্দে বিদায় নেয় মাথা উঁচু করেই।

এই ম্যাচের সবচেয়ে বড় আকর্ষণ ছিল বিশ্বসেরা ফুটবলার লিওনেল মেসির সঙ্গে কেপ ভারদের ৪০ বছর বয়সী গোলরক্ষক ভোজিনহার লড়াই।

ভোজিনিয়ার ক্যারিয়ার কখনোই খুব আলোচিত ছিল না। পর্তুগালের দ্বিতীয় বিভাগের ক্লাব শাভেসের গোলরক্ষক তিনি। ইউরোপের বড় মঞ্চে আলো ছড়ানোর সুযোগ খুব একটা পাননি। কিন্তু এই বিশ্বকাপে নিজের পারফরম্যান্স দিয়ে তিনি প্রমাণ করেছেন, বয়স কেবল একটি সংখ্যা। একের পর এক দুর্দান্ত সেভে কেপ ভার্দেকে ম্যাচে টিকিয়ে রেখেছিলেন অভিজ্ঞ এই গোলকিপার।

ম্যাচের আবহটাও ছিল দারুণ। মায়ামির বিশাল স্টেডিয়াম ম্যাচ শুরুর অনেক আগেই আকাশি-সাদা জার্সিতে ভরে যায়। চারদিকে শুধু আর্জেন্টিনার পতাকা, গান আর উৎসবের আমেজ। গত বছর ক্লাব বিশ্বকাপে বোকা জুনিয়র্সের ম্যাচেও শহরটি এমন রূপ দেখেছিল। এবারও যেন সেই দৃশ্যের পুনরাবৃত্তি হলো। মেসিকে একনজর দেখতে হাজারো সমর্থক গ্যালারিতে ভিড় জমিয়েছিলেন।

কোচ লিওনেল স্কালোনি পরিচিত কৌশলেই দল সাজান। মাঝমাঠে রদ্রিগো দে পল, আলেক্সিস ম্যাক অ্যালিস্টার ও এনসো ফার্নান্দেজকে রেখে তিনজনের মিডফিল্ড গড়ে তোলেন। আক্রমণে হুলিয়ান আলভারেজের পরিবর্তে সুযোগ পান লাউতারো মার্তিনেজ।

শুরুর ১৫ মিনিট অবশ্য খুব একটা জমেনি। আর্জেন্টিনা বলের দখল ধরে রাখলেও পরিষ্কার কোনো সুযোগ তৈরি করতে পারেনি। সমর্থকেরা গান গেয়ে দলকে উৎসাহ দিচ্ছিলেন, কিন্তু মাঠে বড় কোনো মুহূর্ত তখনও আসেনি।

প্রথমবারের মতো গ্যালারিতে উত্তেজনা ছড়িয়ে দেন মেসি। ডিফেন্সের মাঝখানে ছোট্ট একটি ফাঁক খুঁজে বের করে নিচু শট নেন তিনি। বলটি অল্পের জন্য পোস্টের বাইরে দিয়ে চলে যায়। কয়েক মিনিট পর আরেকটি সুযোগ আসে তার সামনে। ফ্রি-কিক থেকে নেওয়া শট দেয়াল পেরোলেও ভোজিনিয়া প্রস্তুত ছিলেন। সহজেই বলটি তালুবন্দি করেন তিনি।

এরপর ২৮তম মিনিটে আসে সেই মুহূর্ত, যার অপেক্ষায় ছিল পুরো স্টেডিয়াম।

মাঝমাঠ থেকে লিসান্দ্রো মার্তিনেজের নিখুঁত পাস ধরে ডিফেন্ডারদের পেছনে চলে যান মেসি। দৌড়ের মধ্যেই অসাধারণ দক্ষতায় বল নিয়ন্ত্রণে নেন তিনি। প্রথম স্পর্শেই বল এমনভাবে নিজের সামনে রাখেন, যেন গোল করার পথটা আরও সহজ হয়ে যায়।

এরপর আর ভুল করেননি আর্জেন্টাইন অধিনায়ক। ভোজিনিয়া পুরোপুরি প্রস্তুত হওয়ার আগেই জোরালো শটে বল পাঠিয়ে দেন জালের ওপরের দিকে। গোলরক্ষকের কিছুই করার ছিল না। মুহূর্তেই আনন্দে ফেটে পড়ে আর্জেন্টিনা সমর্থকে ঠাসা স্টেডিয়াম।

যদিও গোল হজম করার পরও ভোজিনিয়া ভেঙে পড়েননি। বরং ম্যাচের বাকি সময়ে আরও কয়েকটি দুর্দান্ত সেভ করে আর্জেন্টিনাকে হতাশ করেন তিনি। একের পর এক আক্রমণ ঠেকিয়ে তিনি যেন একাই লড়ছিলেন মেসি ও তার সতীর্থদের বিপক্ষে।

বিশ্বকাপজুড়ে ভোজিনিয়াও হয়ে উঠেছেন আলোচিত এক চরিত্র। ৪০ বছর বয়সে এসে এমন মঞ্চে নিজেকে নতুন করে পরিচয় করিয়ে দেওয়ার সুযোগ খুব কম ফুটবলারেরই আসে। টুর্নামেন্ট চলাকালেই তিনি ক্রিস্তিয়ানো রোনালদোর সমর্থিত একটি ভিডিও গেম প্ল্যাটফর্মের প্রচারণার চুক্তিও করেছেন। ঘটনাচক্রে নকআউট পর্বে তার সামনে দাঁড়িয়েছিলেন মেসি। যেন এক অদ্ভুত মিলন—মেসি, রোনালদো আর ভোজিনিয়া; একই গল্পের তিনটি আলাদা চরিত্র। বিশ্ব ফুটবলের দুই মহাতারকার মাঝখানে দাঁড়িয়ে নিজের নামটিও আলাদা করে লিখে ফেলেছেন কেপ ভার্দের এই অভিজ্ঞ গোলরক্ষক।

দ্বিতীয়ার্ধে যেন নতুন এক কেপ ভার্দেকে দেখা গেল। প্রথমার্ধে অনেকটা হিসেবি ফুটবল খেললেও এবার তারা আর্জেন্টিনাকে নিজেদের অর্ধে আটকে রাখতে শুরু করে। মাঝমাঠে চাপ বাড়ায়, বল হারানোর পরপরই প্রেসিং করে এবং আক্রমণে খেলোয়াড় বাড়াতে থাকে। এর সুফলও খুব দ্রুত পেয়ে যায় দলটি।
৫৩তম মিনিটে তারা প্রথমবারের মতো লক্ষ্যে শট নেয়। দীর্ঘ সময় ধরে আক্রমণ চালানোর পর বলটি বক্সের বাইরে ডেরয় দুয়ার্তের কাছে আসে। কোনো সময় নষ্ট না করে নিচু শট নেন তিনি। বলটি জোরালো হলেও এমিলিয়ানো মার্তিনেজ ঝাঁপিয়ে পড়ে সেটি আটকে দেন।

তবে সতর্কবার্তাটা বুঝতে পারেনি আর্জেন্টিনা।

ছয় মিনিট পরই আসে সমতার গোল। ডান প্রান্ত থেকে রায়ান মেন্দেস দ্রুত বল বাড়িয়ে দেন দুয়ার্তের দিকে। বক্সের সামনে সামান্য জায়গা পেয়েই ডান পায়ের শক্তিশালী শটে বল পাঠিয়ে দেন দূরের কোণে। এবার আর কোনো সুযোগই পাননি এমিলিয়ানো মার্তিনেজ।

গোল হতেই উল্লাসে ফেটে পড়েন কেপ ভার্দের খেলোয়াড়রা। কর্নার ফ্ল্যাগের পাশে জড়িয়ে ধরে উদযাপন করেন সবাই। গ্যালারিতে থাকা কেপ ভার্দের অনেক সমর্থকের চোখে তখন আনন্দের অশ্রু। মুহূর্তটি ছিল শুধু একটি গোলের আনন্দ নয়, বরং ইতিহাসের দরজায় কড়া নাড়ার অনুভূতি।

ভাবুন তো, মাত্র ১৯৮৬ সালে ফিফার সদস্য হওয়া একটি দেশ। আর তাদের প্রতিপক্ষ তিনবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা, যার নেতৃত্বে আছেন লিওনেল মেসি। এমন একটি দলকে বিদায়ের মুখে ঠেলে দেওয়ার স্বপ্ন তখন আর অসম্ভব মনে হচ্ছিল না।

সমতায় ফেরার পর আর্জেন্টিনা অবশ্য বসে থাকেনি। একের পর এক আক্রমণভাগের খেলোয়াড় নামান স্কালোনি। কেপ ভার্দের রক্ষণে চাপ বাড়তে থাকে। বক্সে ভেসে আসে অসংখ্য ক্রস। কিন্তু প্রতিবারই সামনে দাঁড়িয়ে ছিলেন ভোজিনিয়া। কখনো বল মুঠোয় নিয়েছেন, কখনো ঘুষি মেরে দূরে সরিয়েছেন, আবার কখনো ঝাঁপিয়ে পড়ে নিশ্চিত গোল বাঁচিয়েছেন।

নির্ধারিত সময়ে আর কোনো দলই ব্যবধান গড়তে পারেনি। ফলে ম্যাচ গড়ায় অতিরিক্ত সময়ে, যেখানে অপেক্ষা করছিল আরও বড় নাটক।

তবে ফল যাই হোক, কেপ ভার্দের জন্য এটি ছিল গর্ব করার মতো একটি রাত। পুরো টুর্নামেন্টে তারা যে সাহস, শৃঙ্খলা আর লড়াইয়ের মানসিকতা দেখিয়েছে, এই ম্যাচ যেন তারই সবচেয়ে উজ্জ্বল উদাহরণ।

এক অর্থে কেপ ভার্দেই যেন এবারের বিশ্বকাপের প্রতিচ্ছবি। অভিবাসন, পরিচয় আর ইতিহাসের নানা স্তর মিলিয়ে গড়ে ওঠা একটি দল। মাত্র ছয় লাখ মানুষের এই দ্বীপপুঞ্জ একসময় ছিল ঔপনিবেশিক শক্তিগুলোর গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যকেন্দ্র। সময়ের সঙ্গে দেশটির অসংখ্য মানুষ ছড়িয়ে পড়েছেন যুক্তরাষ্ট্র, নেদারল্যান্ডস, ফ্রান্সসহ ইউরোপ ও বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে।

আজকের জাতীয় দলটিও সেই ইতিহাসের প্রতিফলন। প্রায় পুরো স্কোয়াডই প্রবাসে বেড়ে ওঠা কিংবা বিদেশি ক্লাবের হয়ে খেলা ফুটবলারদের নিয়ে গড়া। ফুটবলই যেন তাদের জন্য ছড়িয়ে থাকা মানুষদের আবার একটি পতাকার নিচে একত্র হওয়ার সবচেয়ে বড় মাধ্যম হয়ে উঠেছে।

খেলা

“ভাই, ক্রিকেটের অনেক বড় ক্ষতি করে দিলেন”- ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রীর ‘দুই’ হস্তক্ষেপে মুখ খুললেন বুলবুল

টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপকে কেন্দ্র করে ভারতীয় ক্রিকেট কন্ট্রোল বোর্ডের (বিসিসিআই) সঙ্গে সম্পর্কের অবনতি হয় বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি)। মূলত চলতি বছরের জানুয়ারিতে মোস্তাফিজুর রহমানকে আইপিএল থেকে বিসিসিআই বাদ দিলে দুই দেশেরে সম্পর্কের চরম অবনতি ঘটে। এর প্রতিবাদে শেষ পর্যন্ত আর বিশ্বকাপ খেলতে ভারতে যায়নি বাংলাদেশ দল। দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক পুনর্গঠনের লক্ষ্যে সম্প্রতি বিসিসিআইকে এক চিঠি দেয় বিসিবি। […]

নিউজ ডেস্ক

১৩ এপ্রিল ২০২৬, ২১:০৮

টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপকে কেন্দ্র করে ভারতীয় ক্রিকেট কন্ট্রোল বোর্ডের (বিসিসিআই) সঙ্গে সম্পর্কের অবনতি হয় বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি)। মূলত চলতি বছরের জানুয়ারিতে মোস্তাফিজুর রহমানকে আইপিএল থেকে বিসিসিআই বাদ দিলে দুই দেশেরে সম্পর্কের চরম অবনতি ঘটে। এর প্রতিবাদে শেষ পর্যন্ত আর বিশ্বকাপ খেলতে ভারতে যায়নি বাংলাদেশ দল।

দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক পুনর্গঠনের লক্ষ্যে সম্প্রতি বিসিসিআইকে এক চিঠি দেয় বিসিবি। ধারণা করা হয়েছিল দুই দেশের ক্রিকেট বোর্ডের সম্পর্ক উন্নয়নে এই চিঠি পাঠানো হয়েছে। তবে এবার জানা গেলো বিসিবির পক্ষ থেকে চিঠিটি পাঠিয়েছেন বর্তমান সরকারের যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক।

দেশের একটি সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে সদ্য সাবেক বিসিবি প্রধান আমিনুল ইসলাম বুলবুল বলেন, ‘তাকে (যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হককে) একটা কথা বলবো, আপনি ভাই ক্রিকেটের অনেক বড় ক্ষতি করে দিলেন।

ওনার দুটি হস্তক্ষেপের কথা বলতে পারি, প্রথম দিনই উনি সরাসরি প্রধান নির্বাহীকে ফোন করলেন সাংবাদিকদের ভেতরে ঢুকতে দিতে। আরেকটা হলো, কয়েক দিন আগে দেখেছেন বিসিবি একটা চিঠি দিয়েছে বিসিসিআইকে। এটা উনি সিইওর সঙ্গে বসে করেছেন, আমি শুধু কপিতে ছিলাম।

এই যে সিস্টেমটাকে নষ্ট করে ফেলছে, এর দায় কে নেবে। আমি তো চলে যাবো, হয়তো আর কোনো দিনও আসবো না। কিন্তু আপনারা তো এখানে থাকবেন, আপনাদের এই ক্রিকেটটাকে তো বাঁচাতে হবে।’

সম্প্রতি ভেঙে দেওয়া হয় আমিনুল ইসলাম বুলবুলের নেতৃত্বাধীন বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) পরিচালনা পর্ষদ। জাতীয় দলের সাবেক অধিনায়ক তামিম ইকবালকে প্রধান করে ১১ সদস্যের অ্যাডহক কমিটি গঠন করেছে জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ (এনএসসি)। তবে এখনও নিজেকে বিসিবির বৈধ সভাপতি দাবি করেছেন বুলবুল।

তিনি বলেন, ‘আনুষ্ঠানিকভাবে আমিই এখনো বিসিবি সভাপতি। যারা বোর্ড ভেঙেছে, তারা তা করতে পারে না, এখতিয়ারে নেই।’

খেলা

তামিমের নেতৃত্বাধীন কমিটি ‘অবৈধ’, আইসিসির হস্তক্ষেপ চাইলেন বুলবুল

জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের (এনএসসি) তদন্ত প্রতিবেদনকে ভিত্তিহীন ও আইনসম্মত নয় বলে প্রত্যাখ্যান করেছেন আমিনুল ইসলাম বুলবুল। একই সঙ্গে তামিম ইকবালের নেতৃত্বে গঠিত অ্যাডহক কমিটিকে ‘অসাংবিধানিক’ উল্লেখ করে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিলের (আইসিসি) দৃষ্টি আকর্ষণের আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) এনএসসি বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) বর্তমান পরিচালনা পর্ষদ ভেঙে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়ার পর এক বিবৃতিতে নিজের […]

নিউজ ডেস্ক

০৮ এপ্রিল ২০২৬, ১০:২১

জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের (এনএসসি) তদন্ত প্রতিবেদনকে ভিত্তিহীন ও আইনসম্মত নয় বলে প্রত্যাখ্যান করেছেন আমিনুল ইসলাম বুলবুল। একই সঙ্গে তামিম ইকবালের নেতৃত্বে গঠিত অ্যাডহক কমিটিকে ‘অসাংবিধানিক’ উল্লেখ করে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিলের (আইসিসি) দৃষ্টি আকর্ষণের আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।

মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) এনএসসি বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) বর্তমান পরিচালনা পর্ষদ ভেঙে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়ার পর এক বিবৃতিতে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করেন বুলবুল। তার দাবি, ৫ এপ্রিল প্রকাশিত তদন্ত প্রতিবেদনটি আইনগতভাবে টেকসই নয় এবং এতে যথাযথ প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হয়নি।

২০২৫ সালের ৬ অক্টোবর অনুষ্ঠিত বিসিবি নির্বাচনকে বৈধ ও স্বচ্ছ বলেই উল্লেখ করেছেন তিনি। বুলবুল জানান, ওই নির্বাচনের জন্য ৬ সেপ্টেম্বর একটি তিন সদস্যের নির্বাচন কমিশন গঠন করা হয়।

এতে প্রধান নির্বাচন কমিশনার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ হোসেন। কমিশনের অন্য সদস্য ছিলেন অতিরিক্ত আইজিপি ও সিআইডি প্রধান সিবগাত উল্লাহ এবং এনএসসির নির্বাহী পরিচালক।
নির্বাচনকে ঘিরে ১৫টি ক্লাব ও তামিম ইকবালের কাউন্সিলরশিপ নিয়ে ওঠা আপত্তিগুলোও আগেই নিষ্পত্তি হয়েছে বলে জানান বুলবুল। তার ভাষ্য অনুযায়ী, গত বছরের ২৪ ও ২৫ সেপ্টেম্বর আধা-বিচারিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে এসব বিরোধের সমাধান করা হয়।

এনএসসির এই তদন্তকে এখতিয়ারবহির্ভূত আখ্যা দিয়ে বুলবুল বলেন, আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের নীতিমালা অনুযায়ী বোর্ড পরিচালনায় সরকারি হস্তক্ষেপ গ্রহণযোগ্য নয়। যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রীর উদ্যোগে পরিচালিত এই তদন্তকে তিনি রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলেও মন্তব্য করেন।

অ্যাডহক কমিটি গঠনের সিদ্ধান্তকে ‘সাংবিধানিক অভ্যুত্থান’ হিসেবে উল্লেখ করে তিনি স্পষ্ট করেন, এই কমিটির কোনো বৈধতা নেই এবং তারা এটিকে স্বীকৃতি দিচ্ছেন না।

বিবৃতির শেষাংশে বুলবুল সতর্ক করে বলেন, এমন হস্তক্ষেপ অব্যাহত থাকলে বাংলাদেশের ক্রিকেট আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নেতিবাচক প্রভাবের মুখে পড়তে পারে। এতে বিনিয়োগকারী ও বৈশ্বিক অংশীদারদের আস্থাও ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। পাশাপাশি তরুণ ক্রিকেটারদের ভবিষ্যৎ নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন তিনি।

হাইকোর্টের চূড়ান্ত রায় না হওয়া পর্যন্ত নিজেকেই বিসিবির একমাত্র বৈধ সভাপতি হিসেবে দাবি করে আইসিসির জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন বুলবুল।

‘২০২৫ সালের ৬ অক্টোবর নিরপেক্ষ তিন সদস্যের নির্বাচন কমিশনের অধীনে অনুষ্ঠিত নির্বাচনের বৈধতা কোনো সরকারি সংস্থা পরবর্তীতে প্রশ্নবিদ্ধ করতে পারে না। হাইকোর্ট অন্য কোনো রায় না দেওয়া পর্যন্ত আমিই বিসিবির একমাত্র বৈধ সভাপতি হিসেবে দায়িত্বে আছি।’

ক্রিকেট

‘বলেছে, এক কোটি টাকা দিলে নাম কেস থেকে উঠিয়ে দেবে’

নিজের বিরুদ্ধে করা মামলায় নাম প্রত্যাহারের বিনিময়ে এক কোটি টাকা দাবি করা হয়েছিল বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশের ক্রিকেট দলের সাবেক অধিনায়ক ও বিশ্বসেরা অলরাউন্ডার সাকিব আল হাসান। সংবাদমাধ্যম প্রথম আলোতে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে দেশের রাজনীতি, মামলা, জাতীয় দলে ফেরা এবং নিজের বর্তমান জীবন নিয়ে খোলামেলা আলোচনায় তিনি এমন দাবি করেন। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ […]

‘বলেছে, এক কোটি টাকা দিলে নাম কেস থেকে উঠিয়ে দেবে’

‘বলেছে, এক কোটি টাকা দিলে নাম কেস থেকে উঠিয়ে দেবে’

নিউজ ডেস্ক

১৪ মে ২০২৬, ০৯:৫৯

নিজের বিরুদ্ধে করা মামলায় নাম প্রত্যাহারের বিনিময়ে এক কোটি টাকা দাবি করা হয়েছিল বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশের ক্রিকেট দলের সাবেক অধিনায়ক ও বিশ্বসেরা অলরাউন্ডার সাকিব আল হাসান। সংবাদমাধ্যম প্রথম আলোতে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে দেশের রাজনীতি, মামলা, জাতীয় দলে ফেরা এবং নিজের বর্তমান জীবন নিয়ে খোলামেলা আলোচনায় তিনি এমন দাবি করেন।

২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর দলটির নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে জুলাই অভ্যুত্থানে হত্যাকাণ্ডের অভিযোগে সারা দেশে মামলা হয়েছে। বাদ নেই ক্রিকেটার ও দলটির সাবেক সংসদ সদস্য সাকিব আল হাসানও।

তবে সাকিবের দাবি একটি মহল থেকে অর্থের বিনিময়ে মামলা থেকে রেহাই দেওয়ার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।



এ বিষয়ে সাক্ষাৎকারে তিনি জানিয়েছেন, একটি পক্ষ তার কাছে প্রস্তাব দিয়েছিল— নির্দিষ্ট পরিমাণ অর্থ দিলে মামলার তালিকা থেকে তার নাম সরিয়ে দেওয়া হবে। তবে তিনি মনে করেন, যারা এই প্রস্তাব দিয়েছে তারা নিজেরাও জানে না যে মামলা হওয়ার পর শুধু বাদীপক্ষ চাইলে নাম সরিয়ে ফেলা সম্ভব নয়।


সাক্ষাৎকারে এ ক্রিকেটার বলেন, ‘বলেছে, এক কোটি টাকা দিলে আমার নাম কেস থেকে উঠিয়ে দেবে। কিন্তু যারা বলছে, তাদের ধারণা নেই যে কেস হয়ে যাওয়ার পর চাইলেই নাম উঠানো যায় না। শেষ পর্যন্ত পুলিশের তদন্তেই ঠিক হবে আমার সম্পৃক্ততা ছিল কি না।’

কারা এই প্রস্তাব দিয়েছিল— এমন প্রশ্নে সাকিব জানান, এফআইআরে বাদীপক্ষের যোগাযোগের জন্য যার নাম ছিল, তিনি কয়েকজনের মাধ্যমে বিষয়টি পৌঁছে দেন। তবে কার মাধ্যমে যোগাযোগ হয়েছে, সে বিষয়ে বিস্তারিত বলতে চাননি তিনি।

প্রস্তাব পেয়ে কী জবাব দিয়েছিলেন এমন প্রশ্নে সাকিব বলেন, ‘এসব টাকা দিয়ে কেন করতে হবে ভাই? টাকা দেওয়া মানে তো হচ্ছে আমার সমস্যা আছে, আমি চাচ্ছি যে আমাকে এখান থেকে বাঁচিয়ে দেওয়া হোক। হতে পারে তারা ভেবেছে আমার কাছে অনেক বেশি টাকা, চাইলেই হলো।’

দেশে ফেরা নিয়ে নিজের অবস্থানও ব্যাখ্যা করেছেন সাবেক এই অলরাউন্ডার। তার ভাষ্য, দেশে ফিরতে আইনগত কোনো বাধা নেই, তবে তিনি নিরাপত্তা ও দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের বিষয়টিকে গুরুত্বপূর্ণ মনে করছেন।

সাকিব বলেন, ‘আমি চাই স্বাভাবিক একটা নিরাপত্তা এবং দেশত্যাগের নিষেধাজ্ঞা উঠে যাক। এ দুটি বিষয় আমার জন্য খুব গুরুত্বপূর্ণ। দেশত্যাগের নিষেধাজ্ঞা না ওঠানো পর্যন্ত আমার পক্ষে যাওয়া সম্ভব নয়।’

তিনি আরও বলেন, গ্রেপ্তার হওয়ার ভয় তার নেই। তবে অপ্রত্যাশিত পরিস্থিতি বা ব্যক্তিগত আক্রমণের ঝুঁকি নিয়ে শঙ্কা রয়েছে। ‘মব হতে পারে, ব্যক্তিগত শত্রুতা থেকেও কিছু হতে পারে। অন্তত এমন একটা জায়গা তো থাকা উচিত, যেখানে বিপদ হলে কেউ দায়িত্ব নেবে,’ বলেন তিনি।

জাতীয় দলে না খেলতে পারার বিষয়েও আক্ষেপ আছে জানিয়ে সাকিব বলেন, তিনি এখনো আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ফেরার মতো অবস্থায় আছেন বলে বিশ্বাস করেন। বিশেষ করে ওয়ানডে ক্রিকেটে এখনো অবদান রাখার সুযোগ দেখছেন তিনি।

২০২৭ বিশ্বকাপকে সামনে রেখে নিজের পরিকল্পনার কথাও জানান সাকিব। তিনি বলেন, ‘সুযোগ পেলে আবার নিজেকে প্রস্তুত করতে চাই। এক-দুটি সিরিজ খেললে তখন বোঝা যাবে আমি কোথায় আছি, দলও বুঝতে পারবে।’

রাজনীতিতে যোগ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েও অনুশোচনা নেই বলে জানান সাবেক এই অধিনায়ক। তার ভাষায়, ‘আজকে যেটা ঠিক মনে হয় না, পাঁচ বা দশ বছর পরে হয়তো সেটাই ঠিক মনে হবে। মানুষ বারবার ভুলে যায় যে, আমি একটি নির্দিষ্ট এলাকা থেকে সংসদ সদস্য হয়েছিলাম। এলাকার মানুষ আমাকে ভোট দিয়েছেন দেখেই আমি জিতেছি। তারা যদি ভোট না দিতেন, আমি জিততাম না। সারা দেশের মানুষ তো আমাকে ভোট দেননি।’

সাক্ষাৎকারে বাংলাদেশের রাজনীতি নিয়েও নিজের দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরেন সাকিব। তিনি বলেন, দেশের মানুষ রাজনীতিকে খারাপ হিসেবে দেখে, কারণ অনেকেই সেবা করার বদলে সুবিধা নিতে রাজনীতিতে আসেন। তবে রাজনীতির মাধ্যমেই পরিবর্তন সম্ভব বলে বিশ্বাস করেন তিনি।