রবিউল আলম, কুমিল্লা প্রতিনিধি
কুমিল্লায় স্কুলছাত্র ইথান আহমেদ (১২) গুলিবিদ্ধের আলোচিত ঘটনায় জেলা পুলিশের বিশেষ অভিযানে ৪ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এ সময় তাদের কাছ থেকে একটি বিদেশি পিস্তল ও ৬ রাউন্ড তাজা গুলি উদ্ধার করা হয়।
পুলিশ জানায়, গত ২৪ জুন (বুধবার) রাতে কাটাবিল এলাকায় মাদক ব্যবসাকে কেন্দ্র করে স্থানীয় ‘অপু গ্রুপ’ ও ‘সাব্বির গ্রুপ’-এর মধ্যে উত্তেজনা শুরু হয়। এরই জের ধরে ২৫ জুন (বৃহস্পতিবার) দুপুরে দুই পক্ষের মধ্যে সশস্ত্র সংঘর্ষ ও গুলিবিনিময় ঘটে।
এ সময় রফিক উদ্দিন মেমোরিয়াল উচ্চ বিদ্যালয়ের ষষ্ঠ শ্রেণির শিক্ষার্থী ইথান আহমেদ পথ দিয়ে যাওয়ার সময় দুর্ভাগ্যবশত গুলিবিদ্ধ হয়।
১২ ঘণ্টার মধ্যে মূল অস্ত্রধারী গ্রেফতার
ঘটনার পরপরই কুমিল্লা জেলার পুলিশ সুপারের সরাসরি হস্তক্ষেপে অপরাধীদের গ্রেফতারে মাঠে নামে পুলিশ। জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) ও থানা পুলিশের যৌথ তৎপরতায় ঘটনার ১২ ঘণ্টার মধ্যে কোতোয়ালি থানা এলাকা থেকে মূল অভিযুক্ত জামসেদ হোসেন শ্রাবন (২২)-কে গ্রেফতার করা হয়।
শ্রাবন স্থানীয় জামাল হোসেনের ছেলে। গ্রেফতারের সময় তার কাছ থেকে ১টি বিদেশি পিস্তল ও ৬ রাউন্ড তাজা বুলেট উদ্ধার করা হয়।
শ্রাবনকে গ্রেফতারের পর তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে দেশের বিভিন্ন স্থানে ধারাবাহিক অভিযান চালায় পুলিশ। অভিযানে ঘটনার সাথে জড়িত আরও তিন আসামিকে গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতারকৃতরা হলেন:
আসিফ (২৬): পিতা- মৃত শাহজাহান মিয়া
আশিক (৩৫): পিতা- মৃত সুলতান
ইমন (১৯): পিতা- ইকবাল
পুলিশ জানিয়েছে, গ্রেফতারকৃত সকলের বাড়ি কুমিল্লার কোতোয়ালি থানা এলাকায়।
এই বিষয়ে জেলা পুলিশ সুপার বলেন সমাজে নিরাপত্তা বিঘ্নকারী এবং মাদক ও অস্ত্রের সাথে জড়িত কোনো অপরাধীকে কুমিল্লার মাটিতে ছাড় দেওয়া হবে না।
স্কুলছাত্র ইথানের ওপর যারা গুলি চালিয়েছে, তাদের আমরা দ্রুততম সময়ে আইনের আওতায় এনেছি। অস্ত্র ও মাদক নির্মূলে জেলা পুলিশের এই কঠোর অবস্থান এবং চিরুনি অভিযান অব্যাহত থাকবে।
ঘটনার সাথে জড়িত বাকি আসামিদের গ্রেফতার এবং অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারে জেলা পুলিশের অভিযান চলমান রয়েছে।