দুর্নীতি দমনে গণভোট বাস্তবায়নের প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দিয়ে জাতীয় সংসদে বক্তব্য দিয়েছেন বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম। একই সঙ্গে ৫ আগস্টের পর কিছু রাজনৈতিক নেতার অস্বাভাবিক সম্পদ বৃদ্ধি নিয়ে প্রশ্ন তোলেন তিনি। এছাড়া জুলাই গণঅভ্যুত্থান জাদুঘর দ্রুত উন্মুক্ত করা এবং জুলাই ফাউন্ডেশনের জন্য বিশেষ বরাদ্দ দেওয়ারও দাবি জানান।
রোববার (২৮ জুন) জাতীয় সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর সাধারণ আলোচনায় অংশ নিয়ে এসব কথা বলেন নাহিদ ইসলাম। অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল।
নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘দুর্নীতিকে সত্যিকার অর্থে রোধ করতে হলে গণভোট বাস্তবায়ন করতে হবে। গণভোটের রায়ের ভিত্তিতে সংস্কার এবং জুলাই সনদ বাস্তবায়ন ছাড়া সুশাসন প্রতিষ্ঠা সম্ভব নয়।’
এ সময় সরকারদলীয় এক সংসদ সদস্যের বক্তব্যেরও সমালোচনা করেন তিনি। নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘কেউ বলেছেন, আগে অনেকে রিকশায় চলতেন, এখন গাড়িতে চলেন। আজ মাসের ২৮ তারিখ। নিরাপত্তার কারণে আমি একটি রেন্ট-এ-কারের গাড়ি ব্যবহার করি, কিন্তু মাস শেষ হয়ে এলেও এখনো সেই গাড়ির ভাড়া পরিশোধ করতে পারিনি।’
তিনি আরও বলেন, ‘আওয়ামী লীগ আমলে সরকারদলীয় অনেক নেতার সম্পদ জেলে থাকা অবস্থাতেই কয়েক গুণ বেড়েছে। এই আমলে তা কতটা বাড়বে, সেটি সময়ই বলে দেবে। ৫ আগস্টের পর যাদের জীবনযাত্রায় পরিবর্তন এসেছে, তাদের সম্পর্কে প্রতিবেশীরাই সবচেয়ে ভালো জানেন।’
জুলাই গণঅভ্যুত্থানের স্মৃতি সংরক্ষণ প্রসঙ্গে নাহিদ ইসলাম বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থান অধিদফতরের নিজস্ব দায়িত্ব থাকলেও পুনর্বাসন ও মানসিক সহায়তার মতো গুরুত্বপূর্ণ কাজগুলো জুলাই ফাউন্ডেশনের মাধ্যমে আরও কার্যকরভাবে পরিচালনা করা সম্ভব। এজন্য তিনি অর্থমন্ত্রীর কাছে ফাউন্ডেশনটির জন্য বিশেষ বরাদ্দ দেওয়ার আহ্বান জানান।
তিনি আরও বলেন, ‘শোনা যাচ্ছে, সরকারের একটি অংশ জুলাই গণঅভ্যুত্থান জাদুঘর খুলে দেওয়ার বিষয়ে বাধা দিচ্ছে। আমরা আশা করি এ তথ্য সঠিক নয়। আগামী ৫ আগস্টের মধ্যেই জাদুঘরটি সর্বসাধারণের জন্য উন্মুক্ত করা হবে—এটাই আমাদের প্রত্যাশা।’