মঙ্গলবার, ১৬ জুন ২০২৬

পরীক্ষামূলক সংস্করণ

আন্তর্জাতিক

ইরান চুক্তিতে বেকায়দায় নেতানিয়াহু

ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ অবসানের লক্ষ্যে একটি প্রাথমিক চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে এবং খুব শিগগিরই এর পূর্ণাঙ্গ বিবরণ প্রকাশ করা হবে বলে জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সোমবার ফ্রান্সে অনুষ্ঠিত জি-৭ সম্মেলনের ফাঁকে ফরাসি প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল ম্যাক্রঁর সঙ্গে আলোচনার সময় ট্রাম্প এ ঘোষণা দেন। মার্কিন প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, চুক্তির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশ হলো— জেনেভায় […]

ইরান চুক্তিতে বেকায়দায় নেতানিয়াহু

ছবি সংগৃহীত

নিউজ ডেস্ক

১৬ জুন ২০২৬, ২০:১৫

ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ অবসানের লক্ষ্যে একটি প্রাথমিক চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে এবং খুব শিগগিরই এর পূর্ণাঙ্গ বিবরণ প্রকাশ করা হবে বলে জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।

সোমবার ফ্রান্সে অনুষ্ঠিত জি-৭ সম্মেলনের ফাঁকে ফরাসি প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল ম্যাক্রঁর সঙ্গে আলোচনার সময় ট্রাম্প এ ঘোষণা দেন।

মার্কিন প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, চুক্তির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশ হলো— জেনেভায় আনুষ্ঠানিক স্বাক্ষরের দিন, অর্থাৎ শুক্রবার থেকেই কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি পুনরায় উন্মুক্ত করা হবে।

তবে এই চুক্তি এবং এর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট যুদ্ধবিরতির ঘোষণা ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর জন্য বড় ধরনের রাজনৈতিক সংকট তৈরি করেছে বলে বিশ্লেষকদের অভিমত।

রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, এই সমঝোতা নেতানিয়াহুর দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক অবস্থানের তিনটি মৌলিক ভিত্তিকে নড়বড়ে করে দিয়েছে এবং তাকে নতুন এক নিরাপত্তা ও কূটনৈতিক বাস্তবতার মুখোমুখি দাঁড় করিয়েছে।

প্রশ্ন উঠেছে— যিনি নিজেকে ওয়াশিংটনের অন্যতম প্রভাবশালী কৌশলগত অংশীদার এবং মার্কিন নীতিনির্ধারকদের ঘনিষ্ঠ সহযোগী হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছিলেন, তাকে পাশ কাটিয়ে কীভাবে যুক্তরাষ্ট্র সরাসরি ইরানের সঙ্গে সমঝোতায় পৌঁছাল? আরও বড় প্রশ্ন হলো— কেন তার প্রধান মিত্রই এমন একটি পদক্ষেপ নিল যা কার্যত তাকে অস্বস্তিকর অবস্থানে ফেলে দিয়েছে?

নেতানিয়াহু দীর্ঘদিন ধরে ইরানকে ইসরাইলের নিরাপত্তার সবচেয়ে বড় হুমকি হিসেবে তুলে ধরেছেন। অথচ বর্তমান পরিস্থিতিতে এমন ধারণা তৈরি হয়েছে যে, এই সংঘাত-পরবর্তী বাস্তবতায় ইরান আগের তুলনায় আরও শক্তিশালী অবস্থানে পৌঁছেছে।

এর পাশাপাশি, লেবাননে হেজবুল্লাহর বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান বন্ধের জন্য ওয়াশিংটন ও তেহরানের পক্ষ থেকে যে চাপ তৈরি হয়েছে, তা নেতানিয়াহুর বহুদিনের গড়ে তোলা ‘মিস্টার সিকিউরিটি’ ভাবমূর্তির ওপরও বড় আঘাত হিসেবে দেখা হচ্ছে। বিশেষ করে সাধারণ নির্বাচনের মাত্র কয়েক মাস আগে এই পরিস্থিতি তার জন্য রাজনৈতিকভাবে অত্যন্ত বিব্রতকর।

নেতানিয়াহুর সামনে এখন কার্যত কোনো সহজ সমাধান নেই।

সোমবার ইসরাইলি পার্লামেন্ট নেসেটে বিরোধীদলীয় নেতা ইয়ার লাপিদ মন্তব্য করেন, ‘তার সামনে এখন মাত্র দুটি পথ খোলা আছে— হয় আমাদের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ মিত্রের সঙ্গে সরাসরি ও গভীর সংঘাতে জড়ানো, নয়তো ইসরাইলের স্বার্থ বিসর্জন দেওয়া।’

সম্প্রতি ডোনাল্ড ট্রাম্পও প্রকাশ্যে বলেন যে, রোববার বৈরুতে হামলার নির্দেশ দিয়ে নেতানিয়াহু বিচক্ষণতার পরিচয় দেননি।

ট্রাম্পের এই মন্তব্য ইসরাইলের বিরোধী রাজনৈতিক শক্তি এবং গণমাধ্যমের হাতে নতুন অস্ত্র তুলে দিয়েছে। অক্টোবরের নির্বাচনের আগে তারা বিষয়টিকে জোরালোভাবে কাজে লাগানোর চেষ্টা করছে।

শুধু বিরোধীরাই নয়, নেতানিয়াহুর নিজ দল লিকুদ পার্টি এবং জোট সরকারের কট্টরপন্থী মন্ত্রীদের মধ্যেও অসন্তোষ স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।

বিশেষ করে তেহরানের এই দাবি যে, যুদ্ধবিরতির আওতায় লেবাননসহ সব ফ্রন্টে সামরিক অভিযান বন্ধ থাকবে— তা ইসরাইলের ডানপন্থী মহলে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করেছে।

জাতীয় নিরাপত্তা মন্ত্রী ইতামার বেন-গাভির সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লিখেছেন, ‘ট্রাম্পের চুক্তি আমাদের ওপর বাধ্যতামূলক নয়। আমরা এমন কোনো চুক্তির অংশ নই, যা আমাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পারে না।’

মোসাদের সাবেক কর্মকর্তা ও ইরান বিশেষজ্ঞ সিমা শাইনও চুক্তি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন।

তার ভাষায়, ‘আমেরিকানরা কেন এই শর্ত মেনে নিল, তা বোঝা কঠিন।’

তিনি আরও বলেন, ‘লেবাননের ভবিষ্যৎ নির্ধারণে ইরানকে প্রভাবশালী অবস্থান দেওয়ার অর্থ হলো হিজবুল্লাহকে সহায়তা অব্যাহত রাখার সুযোগ তৈরি করা এবং লেবাননের রাজনীতিতে তাদের প্রভাব ধরে রাখতে সহায়তা করা।’

এদিকে নেতানিয়াহু নিজেও এখন অনেকটাই নীরব।

সাধারণত নিজেকে বিজয়ী হিসেবে উপস্থাপন করতে অভ্যস্ত এই নেতার নীরবতাকে বিশ্লেষকরা তার বর্তমান সংকটেরই প্রতিফলন হিসেবে দেখছেন।

গাজায় হামাস-নেতৃত্বাধীন হামলার পর নেতানিয়াহুর কৌশল ছিল আরও আক্রমণাত্মক অবস্থান গ্রহণ করা— অর্থাৎ হুমকি তৈরি হওয়ার আগেই তা নির্মূল করার চেষ্টা।

কিন্তু বাস্তবতা ভিন্ন চিত্র তুলে ধরছে।

ইসরাইলি বাহিনী গাজার বিশাল অংশ ধ্বংস করে এবং গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী ৭৩ হাজারের বেশি মানুষ নিহত হওয়ার পরও হামাস এখনও প্রায় অর্ধেক এলাকা নিয়ন্ত্রণ করছে এবং নিজেদের সাংগঠনিক সক্ষমতা পুনর্গঠন করছে।

অন্যদিকে, আট মাস আগে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হলেও গাজার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের প্রস্তাবিত শান্তি উদ্যোগ এখনও অনিশ্চয়তার মধ্যে রয়েছে।

নেতানিয়াহুর নতুন নিরাপত্তা কৌশল ইসরাইলি বাহিনীকে গাজা, লেবানন এবং সিরিয়ার বিভিন্ন এলাকায় দীর্ঘমেয়াদি উপস্থিতি বজায় রাখতে বাধ্য করেছে।

যদিও দেশের অনেক নাগরিক এই নীতিকে সমর্থন করেন, তবুও এর পেছনে কার্যকর কোনো কূটনৈতিক রূপরেখা এখনো দৃশ্যমান নয়।

একই সঙ্গে দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধ ইসরাইলের সামরিক সম্পদ ও রিজার্ভ বাহিনীর ওপর ব্যাপক চাপ সৃষ্টি করেছে।

ইরান ও হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে একের পর এক অভিযান চালিয়েও ইসরাইল তার প্রধান প্রতিপক্ষদের পুরোপুরি নিষ্ক্রিয় করতে পারেনি।

বরং অনেক বিশ্লেষকের মতে, এই সংঘাত ইরানের অভ্যন্তরে আরও কঠোরপন্থী নেতৃত্বের উত্থানকে উৎসাহিত করেছে। পাশাপাশি হরমুজ প্রণালিতে তেহরানের কৌশলগত প্রভাবও বৃদ্ধি পেয়েছে।

আরও তাৎপর্যপূর্ণ বিষয় হলো— এখন এমন ধারণাও তৈরি হয়েছে যে, ইসরাইলের প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী ইরান পরোক্ষভাবে ইসরাইলের সবচেয়ে বড় মিত্র যুক্তরাষ্ট্রের নীতিতেও প্রভাব বিস্তার করতে সক্ষম হয়েছে।

ইনস্টিটিউট ফর ন্যাশনাল সিকিউরিটি স্টাডিজের জ্যেষ্ঠ ইরান গবেষক ড্যানি সিট্রিনোভিচ মনে করেন, ‘এই পরিস্থিতি ইসরাইলের ইরান-কেন্দ্রিক কৌশল পুনর্মূল্যায়নের প্রয়োজনীয়তা স্পষ্ট করে তুলেছে। তাদের আরও বাস্তববাদী ও সংযত অগ্রাধিকার নির্ধারণ করতে হবে।’

তিনি সতর্ক করে দিয়ে বলেন, ‘ওয়াশিংটন যদি মনে করে কোনো সামরিক পদক্ষেপ এই চুক্তিকে ভণ্ডুল করার চেষ্টা, তাহলে তার প্রতিক্রিয়া অত্যন্ত কঠোর হতে পারে।’

সিট্রিনোভিচ আরও উল্লেখ করেন, ‘ওবামা প্রশাসনের সময় নেতানিয়াহু যেভাবে হোয়াইট হাউসকে পাশ কাটিয়ে কংগ্রেস ও মার্কিন জনমতকে কাজে লাগাতেন, বর্তমান বাস্তবতায় সেই পথ প্রায় বন্ধ হয়ে গেছে।’

দীর্ঘদিন ধরেই নেতানিয়াহু দাবি করে আসছেন যে, তার রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা ও নিরাপত্তা নীতি আঞ্চলিক হুমকি মোকাবিলায় ইসরাইলের সবচেয়ে কার্যকর হাতিয়ার।

ইরানের শাসনব্যবস্থায় বড় ধরনের পরিবর্তন ঘটলে হয়তো তার এই রাজনৈতিক অবস্থান আরও শক্তিশালী হতো।

কিন্তু বাস্তবে ঘটেছে উল্টোটা।

ফলে আজ নেতানিয়াহু এমন এক পরিস্থিতির মুখোমুখি, যেখানে তাকে কোনো শত্রুর সঙ্গে নয়, বরং তার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ মিত্রের সঙ্গেই সংঘাত কিংবা আপসের কঠিন সিদ্ধান্তের মধ্যে একটি বেছে নিতে হতে পারে।

সূত্র: বিবিসি

২০ জুন ২০২৫
poll_title
তুরস্ক, সৌদি ও পাকিস্তানসহ অন্যান্য দেশ নিয়ে ইসলামি সেনাবাহিনী গড়ার উদ্যোগ নিয়েছে ইরান। আপনি কি এই আর্মি গঠনের পক্ষে?

তুরস্ক, সৌদি ও পাকিস্তানসহ অন্যান্য দেশ নিয়ে ইসলামি সেনাবাহিনী গড়ার উদ্যোগ নিয়েছে ইরান। আপনি কি এই আর্মি গঠনের পক্ষে?

মোট ভোট: ৪৯৬৪

আন্তর্জাতিক

‘আমরা কাতার নই, ওদের নরক দেখিয়ে ছাড়ব’: ইসরায়েলকে কড়া হুঁশিয়ারি দিল পাকিস্তান

সম্প্রতি ইরানে পাকিস্তান দূতাবাসের কাছে ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ হামলার খবরে ফুঁসে উঠেছে ইসলামাবাদ। সরকার-সংশ্লিষ্ট পাকিস্তান স্ট্র্যাটেজিক ফোরাম এক বিবৃতিতে বলেছে, ‘ইসরায়েল মনে রাখবে, পাকিস্তান কাতার নয়। আমাদের কূটনীতিকদের ক্ষতি হলে আমরা কঠোর জবাব দেব।’ শুক্রবার (২৭ মার্চ) পাকিস্তানের সংবাদমাধ্যমগুলোতে প্রকাশিত প্রতিবেদনে জানা গেছে এ খবর। এর আগে বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) ইজরায়েল ও আমেরিকার যৌথ আক্রমণে ক্ষতিগ্রস্ত […]

নিউজ ডেস্ক

২৭ মার্চ ২০২৬, ২১:০০

সম্প্রতি ইরানে পাকিস্তান দূতাবাসের কাছে ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ হামলার খবরে ফুঁসে উঠেছে ইসলামাবাদ। সরকার-সংশ্লিষ্ট পাকিস্তান স্ট্র্যাটেজিক ফোরাম এক বিবৃতিতে বলেছে, ‘ইসরায়েল মনে রাখবে, পাকিস্তান কাতার নয়। আমাদের কূটনীতিকদের ক্ষতি হলে আমরা কঠোর জবাব দেব।’

শুক্রবার (২৭ মার্চ) পাকিস্তানের সংবাদমাধ্যমগুলোতে প্রকাশিত প্রতিবেদনে জানা গেছে এ খবর।

এর আগে বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) ইজরায়েল ও আমেরিকার যৌথ আক্রমণে ক্ষতিগ্রস্ত হয় তেহরানের আশেপাশের অনেক এলাকা। এতে কেঁপে ওঠে পাকিস্তানের দূতাবাসের পাশাপাশি রাষ্ট্রদূতের বাসভবনও। এর পরিপ্রেক্ষিতে ইসরায়েলকে এমন হুঁশিয়ারি দিল ইসলামাবাদ ।

জানা গেছে, দূতাবাস বা পাকিস্তানি কূটনীতিকদের কোনো ক্ষতি হয়নি। কিন্তু বিস্ফোরণে আশপাশের ভবনগুলো কেঁপে ওঠে। এদিকে মধ্যপ্রাচ্যের এই যুদ্ধ ২৮ দিনে গড়িয়েছে। বিভিন্ন স্থানে হামলা-পাল্টা হামলা চলছে।

এই পরিস্থিতিতে ইসলামাবাদ একদিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে আলোচনায় ভূমিকা রাখতে চাচ্ছে। পাকিস্তান জানিয়েছে, দুই পক্ষ চাইলে তারা আলোচনার আয়োজন করতেও প্রস্তুত।

এদিকে ইরানের সঙ্গে চলমান উত্তেজনার মধ্যেই দেশটির বিদ্যুৎ গ্রিডে হামলার পরিকল্পনা আবারও স্থগিত করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। নতুন করে নির্ধারিত সময়সীমা অনুযায়ী, এই হামলার সম্ভাব্য সময়সীমা ১০ দিনের জন্য স্থগিত করে আগামী ৬ এপ্রিল পর্যন্ত করা হয়েছে।

২০ জুন ২০২৫
poll_title
তুরস্ক, সৌদি ও পাকিস্তানসহ অন্যান্য দেশ নিয়ে ইসলামি সেনাবাহিনী গড়ার উদ্যোগ নিয়েছে ইরান। আপনি কি এই আর্মি গঠনের পক্ষে?

তুরস্ক, সৌদি ও পাকিস্তানসহ অন্যান্য দেশ নিয়ে ইসলামি সেনাবাহিনী গড়ার উদ্যোগ নিয়েছে ইরান। আপনি কি এই আর্মি গঠনের পক্ষে?

মোট ভোট: ৪৯৬৪

আন্তর্জাতিক

নিখোঁজ পাইলটকে উদ্ধারে ইরানের সাথে মার্কিন স্পেশাল ফোর্সের তুমুল লড়াই

ইরানে মার্কিন যুদ্ধবিমান ভূপাতিত হওয়ার পর নিখোঁজ এক ক্রু’কে খুঁজতে তল্লাশি চালিয়ে যাচ্ছে মার্কিন বাহিনী। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য টেলিগ্রাফের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ওই ক্রু’কে উদ্ধারে যুক্তরাষ্ট্রের স্পেশাল ফোর্সের সেনারা শুক্রবার রাতে ইরানে প্রবেশ করেছে। তবে টেলিগ্রাফের প্রতিবেদনে ইরানে মার্কিন স্পেশাল ফোর্সের প্রবেশ নিয়ে বিস্তারিত কিছু বলা হয়নি। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কর্মকর্তাদের উদ্ধৃতি দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিবেদনে […]

নিউজ ডেস্ক

০৪ এপ্রিল ২০২৬, ১১:৪৯

ইরানে মার্কিন যুদ্ধবিমান ভূপাতিত হওয়ার পর নিখোঁজ এক ক্রু’কে খুঁজতে তল্লাশি চালিয়ে যাচ্ছে মার্কিন বাহিনী। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য টেলিগ্রাফের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ওই ক্রু’কে উদ্ধারে যুক্তরাষ্ট্রের স্পেশাল ফোর্সের সেনারা শুক্রবার রাতে ইরানে প্রবেশ করেছে।

তবে টেলিগ্রাফের প্রতিবেদনে ইরানে মার্কিন স্পেশাল ফোর্সের প্রবেশ নিয়ে বিস্তারিত কিছু বলা হয়নি। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কর্মকর্তাদের উদ্ধৃতি দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইতোমধ্যে এই অভিযানে একজন ক্রুকে উদ্ধার করা হয়েছে। তবে যুদ্ধবিমানটির দ্বিতীয় ক্রু সদস্যের জন্য এখনও অনুসন্ধান চলছে।

যুক্তরাষ্ট্র বিমানবাহিনীর প্যারারেস্কিউ জাম্পারদের এক সাবেক কমান্ডার জানান, ইরানে নিখোঁজ মার্কিন যুদ্ধবিমানের ক্রু সদস্যকে খুঁজে পেতে বিশেষজ্ঞ মার্কিন যুদ্ধকালীন অনুসন্ধান ও উদ্ধার ইউনিটগুলো ব্ল্যাকহক হেলিকপ্টার ব্যবহার করে এলাকা চষে বেড়াবে।

তিনি বলেন, যদি উদ্ধার লক্ষ্যমাত্রা এমন এলাকায় থাকে যেখানে হেলিকপ্টার পৌঁছাতে পারে না, তাহলে এসি-১৩০ গানশিপ থেকে স্কোয়াডের সদস্যরা নেমে স্থলপথে উদ্ধার অভিযান চালাবে।

অন্যদিকে ইরানও নিখোঁজ মার্কিন ক্রু’কে পেতে রুদ্ধশ্বাস অভিযান চালাচ্ছে। দেশটি যুক্তরাষ্ট্রের পাইলটকে পাওয়ার জন্য পুরস্কারও ঘোষণা করেছে।

২০ জুন ২০২৫
poll_title
তুরস্ক, সৌদি ও পাকিস্তানসহ অন্যান্য দেশ নিয়ে ইসলামি সেনাবাহিনী গড়ার উদ্যোগ নিয়েছে ইরান। আপনি কি এই আর্মি গঠনের পক্ষে?

তুরস্ক, সৌদি ও পাকিস্তানসহ অন্যান্য দেশ নিয়ে ইসলামি সেনাবাহিনী গড়ার উদ্যোগ নিয়েছে ইরান। আপনি কি এই আর্মি গঠনের পক্ষে?

মোট ভোট: ৪৯৬৪

আন্তর্জাতিক

পারমাণবিক বোমার চেয়েও কার্যকর অস্ত্র পেয়ে গেছে ইরান !

তেহরানের তথাকথিত পারমাণবিক অস্ত্র অর্জনের লক্ষ্যের পেছনে সবসময় দুটি উদ্দেশ্য ছিল বলে মনে করা হয়: প্রথমত, ইসরায়েলকে হুমকি দেওয়া; দ্বিতীয়ত, যুক্তরাষ্ট্র ও বিশ্বকে সতর্ক করা যে ইরানে আক্রমণ করলে এমন মূল্য চোকাতে হবে যা কোনো শত্রু বহন করতে চাইবে না। যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের যৌথ যুদ্ধে ইসরায়েলের ওপর হুমকি কিছুটা কমলেও হরমুজ প্রণালির ওপর তেহরানের অবিচল নিয়ন্ত্রণ প্রমাণ […]

নিউজ ডেস্ক

০৭ এপ্রিল ২০২৬, ১২:০২

তেহরানের তথাকথিত পারমাণবিক অস্ত্র অর্জনের লক্ষ্যের পেছনে সবসময় দুটি উদ্দেশ্য ছিল বলে মনে করা হয়: প্রথমত, ইসরায়েলকে হুমকি দেওয়া; দ্বিতীয়ত, যুক্তরাষ্ট্র ও বিশ্বকে সতর্ক করা যে ইরানে আক্রমণ করলে এমন মূল্য চোকাতে হবে যা কোনো শত্রু বহন করতে চাইবে না।

যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের যৌথ যুদ্ধে ইসরায়েলের ওপর হুমকি কিছুটা কমলেও হরমুজ প্রণালির ওপর তেহরানের অবিচল নিয়ন্ত্রণ প্রমাণ করে যে, বিশ্বকে চরম সমস্যায় ফেলতে ইরানের কোনো পারমাণবিক অস্ত্রের প্রয়োজন নেই।

এই জলপথটি দ্রুত যুদ্ধের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। ইরানি সামরিক বাহিনী এবং তাদের ছায়াশক্তিরা এ অঞ্চলে ট্যাংকারগুলোতে আক্রমণ করছে এবং একটি টোল বা মাশুল ব্যবস্থার মাধ্যমে জাহাজ চলাচলে বাধা দিচ্ছে।

ওয়াশিংটনভিত্তিক থিংকট্যাংক কার্নেগি এনডাউমেন্ট ফর ইন্টারন্যাশনাল পিস-এর ভাইস প্রেসিডেন্ট মারওয়ান মুয়াশার বলেন, ‘ইরান আবিষ্কার করেছে যে, হরমুজ প্রণালি নিয়ন্ত্রণ করা তাদের জন্য পারমাণবিক বোমা থাকার চেয়েও বেশি কার্যকর।’

ট্রাম্পের ক্ষোভ ও হতাশা
গত রোববার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অত্যন্ত কড়া এবং অশ্লীল ভাষা ব্যবহার করে তার ক্ষোভ উগরে দেন। বিশ্বের মোট তেলের এক-পঞ্চমাংশ যে পথ দিয়ে যায়, সেই জলপথটি ফের খোলার জন্য সামরিক প্রচেষ্টার ব্যর্থতায় তিনি ইরানকে উদ্দেশ্য করে বলেন, ‘প্রণালি খুলে দাও… নয়তো তোমরা নরকে বাস করবে—শুধু দেখে যাও!’

অথচ কয়েকদিন আগেই ট্রাম্প ভোটারদের সমর্থন পেতে এবং মিত্রদের আশ্বস্ত করতে ইতিবাচক সুর বজায় রেখেছিলেন। তখন তিনি বলেছিলেন, ‘হরমুজ প্রণালি স্বাভাবিকভাবেই খুলে যাবে। কারণ ইরানের তেল বিক্রি করতেই হবে, সেটাই তাদের পুনর্গঠনের একমাত্র পথ।’

ট্রাম্প আরও জানিয়েছিলেন, ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’ সমাপ্তির পথে এবং আগামী দুই-তিন সপ্তাহের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র তাদের ওপর চরম আঘাত হানবে।

হরমুজে নতুন ব্যবস্থা
যদিও ট্রাম্প প্রশাসন কখনোই স্পষ্টভাবে বলেনি, এই যুদ্ধের মূল কারণ হরমুজ প্রণালিকে মুক্ত রাখা, কিন্তু বিশ্ব অর্থনীতিতে এর প্রভাব হোয়াইট হাউজকে দিশেহারা করে তুলেছে। এমনকি ট্রাম্প ও তার মন্ত্রিসভা এমন ইঙ্গিতও দিয়েছে যে, প্রণালিটি না খুলেই যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধ শেষ করার কথা বিবেচনা করতে পারে।

ইরান সম্ভবত এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানাবে। বিশ্লেষকরা এই জলপথের নিয়ন্ত্রণ ছেড়ে দেওয়ার পেছনে ইরানের কোনো বিশেষ স্বার্থ দেখছেন না। কার্নেগি বিশ্লেষক করিম সাজাদপুর বলেন, তারা এখন প্রকাশ্যেই এই নিয়ন্ত্রণকে আনুষ্ঠানিক করার কথা বলছে, যেন এটি তাদের নিজস্ব ‘পানামা খাল’ হতে যাচ্ছে। তিনি আরও যোগ করেন, এটি কেবল যুক্তরাষ্ট্রের জন্য নয়, বরং পুরো বিশ্বের জন্যই অগ্রহণযোগ্য।

সাজাদপুর ও মুয়াশার জানান, ইরান এখন কেবল সামরিক সক্ষমতার যুদ্ধের বদলে ‘রাজনৈতিক সহনশীলতা ও টিকে থাকার’ যুদ্ধে মনোযোগ দিয়েছে। ইরান দাবি করেছে, যে কোনো চুক্তির অংশ হিসেবে তাদের ক্ষতিগ্রস্ত স্থাপনা পুনর্নির্মাণের জন্য কয়েক হাজার কোটি ডলার দিতে হবে।

বিশ্লেষকদের মতে, জ্বালানি বাণিজ্যে মার্কিন ডলারের বদলে অন্য মুদ্রার ব্যবহার বৃদ্ধির ঝুঁকি তৈরি হয়েছে, যা চীনের প্রতি বিশেষ আনুকূল্য প্রদর্শনের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের আর্থিক সক্ষমতাকে দুর্বল করে দিচ্ছে। রিপোর্ট অনুযায়ী, ইরান নিরাপদ যাতায়াতের জন্য প্রতিটি ট্যাংকার থেকে ২০ লাখ ডলার পর্যন্ত টোল আদায় করছে, যা থেকে তাদের দৈনিক আয় কোটি কোটি ডলারে পৌঁছেছে।

গত সপ্তাহে ইরানি নেতারা একটি পরিকল্পনা অনুমোদন করেছেন যেখানে স্থায়ীভাবে টোল আদায়ের কথা বলা হয়েছে এবং যুক্তরাষ্ট্র বা ইসরায়েল সংশ্লিষ্ট যে কোনো জাহাজের যাতায়াত নিষিদ্ধ করা হয়েছে। তারা একে রাজস্বের উৎস এবং ইরানের সার্বভৌমত্বের আনুষ্ঠানিক বহিঃপ্রকাশ হিসেবে দেখছে। বিপরীতে, ইরান মার্কিন শত্রুদের (যেমন চীন) বিশেষ সুবিধা দিচ্ছে। বিশ্লেষকরা বলছেন, রাশিয়া ও চীন স্যাটেলাইট ইমেজের মাধ্যমে ইরানকে যুদ্ধে সহায়তা করছে।

ইরানি আইনপ্রণেতা মোহাম্মদরেজা রেজাই কুচি বলেন, ‘এটি অত্যন্ত স্বাভাবিক। অন্যান্য করিডোর দিয়ে যাওয়ার সময় যেমন ট্রানজিট ফি দিতে হয়, হরমুজও একটি করিডোর। আমরা এর নিরাপত্তা দিচ্ছি, তাই জাহাজগুলোর ফি দেওয়াটাই স্বাভাবিক।’

ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত
প্রতিদিন প্রায় দুই কোটি ব্যারেল অপরিশোধিত তেল ও পেট্রোলিয়াম পণ্য এই প্রণালি দিয়ে যায়, যা বিশ্বের মোট তেল ব্যবহারের ২০ থেকে ২৫ শতাংশ। সৌদি আরব ও ইরাকের মতো পারস্য উপসাগরীয় দেশগুলোর অধিকাংশ তেল রপ্তানি এই পথেই হয়।

ব্রিটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইভেত কুপার ৪১টি দেশের এক বৈঠকে বলেন, ‘আমরা দেখছি ইরান বিশ্ব অর্থনীতিকে জিম্মি করার জন্য একটি আন্তর্জাতিক নৌপথ দখল করেছে।’ তিনি জানান, ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’ শুরুর পর থেকে ইরান জাহাজে ২৫টিরও বেশি আক্রমণ করেছে এবং প্রায় দুই হাজার জাহাজে ২০ হাজার নাবিক আটকা পড়েছেন।

কার্নেগির গবেষক নিকোল গ্রাজিউস্কি বলেন, যুদ্ধের ক্ষয়ক্ষতি সত্ত্বেও ইরান এক বছরের মধ্যে তাদের ব্যালিস্টিক মিসাইল প্রোগ্রাম ফের গুছিয়ে নিতে পারবে। আর ড্রোন বা ইউএভির ক্ষেত্রে এটি আরও সহজ, কারণ এগুলো ছোট বা বেসামরিক স্থাপনাতেও তৈরি করা সম্ভব।

মারওয়ান মুয়াশার সতর্ক করে বলেন, আরব বিশ্বের নিরাপত্তার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের ওপর নির্ভর করার পুরোনো কৌশল এখন আর বিশ্বাসযোগ্য নয়। তিনি আরও বলেন, ‘যদি ট্রাম্প প্রণালিটি না খুলে যুদ্ধ ত্যাগ করেন, তবে অন্য কেউ শক্তি প্রয়োগ করে তা খোলার চেষ্টা করবে না। কারণ সেই রাষ্ট্রগুলোর সেই সক্ষমতা বা সদিচ্ছা নেই।’

সূত্র: দ্য ওয়াশিংটন টাইমস

২০ জুন ২০২৫
poll_title
তুরস্ক, সৌদি ও পাকিস্তানসহ অন্যান্য দেশ নিয়ে ইসলামি সেনাবাহিনী গড়ার উদ্যোগ নিয়েছে ইরান। আপনি কি এই আর্মি গঠনের পক্ষে?

তুরস্ক, সৌদি ও পাকিস্তানসহ অন্যান্য দেশ নিয়ে ইসলামি সেনাবাহিনী গড়ার উদ্যোগ নিয়েছে ইরান। আপনি কি এই আর্মি গঠনের পক্ষে?

মোট ভোট: ৪৯৬৪