নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজার উপজেলার ব্রাহ্মন্দী ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ওসমান গণি-কে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। বুধবার মধ্যরাতে উপজেলার দুপ্তারা ইউনিয়নের পাঁচগাঁও কবরস্থান এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। নিহত ওসমান গণি বড় বিনাইরচর গ্রামের মৃত আব্দুল আব্দুর রশিদের ছেলে।
ঘটনার পর দুপ্তারা ইউনিয়নের স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্য সচিব রমজান মিয়া-সহ তিনজনকে আটক করেছে পুলিশ। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন মো. আলাউদ্দিন।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, পাঁচগাঁও এলাকায় বেশ কয়েকদিন ধরে মাটি কেনাবেচার ব্যবসা করছিলেন ওসমান গণি। বুধবার রাত ১২টার দিকে মাটি তোলার একটি ভেকু ডেবে গেলে খবর পেয়ে মোটরসাইকেলে করে কয়েকজন সহযোগীসহ ঘটনাস্থলে যান তিনি।
এ সময় ২০ থেকে ২৫ জনের একটি মুখোশধারী সশস্ত্র গ্রুপ তাকে ঘিরে ফেলে। দুর্বৃত্তরা উপস্থিত সবাইকে হাত উঁচু করে দাঁড়িয়ে থাকতে বললেও ওসমান গণির ওপর এলোপাতাড়ি হামলা চালায়। তার মাথা, গলা ও ঘাড়ে ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করা হয়। গুরুতর আহত অবস্থায় তিনি ঘটনাস্থলেই অজ্ঞান হয়ে পড়েন।
পরে স্বজনরা তাকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল-এ নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
ব্রাহ্মন্দী ইউনিয়ন বিএনপির ১ নম্বর ওয়ার্ড সভাপতি ইসমাইল মিয়া জানান, মাটি তোলাকে কেন্দ্র করে দুপ্তারা ইউনিয়নের স্বেচ্ছাসেবক দলের এক নেতার সঙ্গে ওসমান গণির বিরোধ চলছিল। ব্রাহ্মন্দী ইউনিয়নের লোক হয়ে দুপ্তারা এলাকায় মাটি উত্তোলন করায় তার কাছে পাঁচ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয়। এ নিয়ে মঙ্গলবার উভয়ের মধ্যে বাগ্বিতণ্ডাও হয়েছিল বলে দাবি করেন তিনি।
আড়াইহাজার থানার ওসি মো. আলাউদ্দিন জানান, নিহতের মরদেহ মর্গে রাখা হয়েছে এবং মামলার প্রস্তুতি চলছে। এ ঘটনায় রমজান মিয়াসহ তিনজনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করা হয়েছে।
আঞ্চলিক মহাসড়কে বিক্ষোভ
ওসমান গণির হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদে বৃহস্পতিবার সকালে বিক্ষোভে ফেটে পড়েন স্থানীয়রা। ভুলতা-বিশনন্দী আঞ্চলিক মহাসড়কের বড় বিনাইরচর এলাকায় টায়ার জ্বালিয়ে সড়ক অবরোধ করেন বিক্ষুব্ধ জনতা।
এ সময় কয়েকটি অটোরিকশা ভাঙচুরের ঘটনাও ঘটে। সকাল সাতটা থেকে মহাসড়কটিতে যান চলাচল বন্ধ রয়েছে।