যুক্তরাষ্ট্র যদি সত্যিই কিউবায় কোনো প্রকার আগ্রাসী হামলা চালায়, তাহলে ‘রক্তস্নান’ ঘটবে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন কিউবার প্রেসিডেন্ট মিগুয়েল দিয়াজ-কানেল। গতকাল সোমবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এই হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তিনি।
সোমবারসামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে পোস্ট করা এক বার্তায় প্রেসিডেন্ট মিগুয়েল বলেন, “কিউবা কখনও যুক্তরাষ্ট্র বা অন্য কোনো দেশের জন্য হুমকি হয়ে দেখা দেয়নি, ভবিষ্যতেও এমন আশঙ্কা নেই। তবে যুক্তরাষ্ট্র যদি কিউবায় আগ্রাসী হামলা চলায়— তাহলে তার পরিণতি হবে অকল্পনীয় এবং রীতিমতো রক্তস্নান ঘটবে।”
২০২৫ সালে দ্বিতীয় মেয়াদে ক্ষমতায় আসার পর থেকে আমেরিকার ক্যারিবীয় অঞ্চলের দ্বীপরাষ্ট্র ও কমিউনিস্ট শাসিত কিউবার প্রতি চরম বিরূপ ভূমিকায় নেমেছেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ও তার নেতৃত্বাধীন প্রশাসন।
দু’ মাস আগে দেশটির ওপর জ্বালানি নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছেন তিনি। এই নিষেধাজ্ঞার অর্থ— কোনো দেশ যদি কিউবাকে জ্বালানি তেল সরবরাহ করে— তাহলে সেই দেশের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করা হবে।
ভেনেজুয়েলা থেকে হ্রাসকৃত মূল্যে জ্বালানি তেল কিনত কিউবা। এই তেল ছিল দেশটির ‘লাইফলাইন’। জ্বালানি নিষেধাজ্ঞা জারি করার আগে ভেনেজুয়েলা থেকে আসা তেলের চালান বন্ধ করে দিয়েছেন ট্রাম্প। ফলে গত দু’মাস ধরে জ্বালানি সংকট চরম রূপ নিয়েছে এই কমিউনিস্ট দেশটিতে।
সম্প্রতি মার্কিন সংবাদমাধ্যম এক্সিওস এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, রাশিয়া ও ইরানের কাছ থেকে থেকে ৩০০ সামরিক ড্রোন কিনছে কিউবা। সূত্রের বরাত দিয়ে প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, গুয়ান্তানামা উপসাগরে মার্কিন সামরিক সামরিক ঘাঁটি এবং কিউবার সীমান্তবর্তী অঙ্গরাজ্য ফ্লোরিডায় মার্কিন সামরিক বাহিনীর যুদ্ধজাহাজে হামলার জন্য কেনা হয়েছে এসব ড্রোন।
এক্সিওসে এই খবর প্রকাশের পর রোববার কিউবার গোয়েন্দা সংস্থা জি২ এবং দেশটির বেশ কয়েক জন গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তির ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করে যুক্তরাষ্ট্রের ট্রেজারি মন্ত্রণালয়। নিষেধাজ্ঞাপ্রাপ্তদের তালিকায় কিউবার যোগাযোগমন্ত্রী, জ্বালানিমন্ত্রী, বিচার বিষয়ক মন্ত্রী, সামরিক বাহিনীর অন্তত ৩ জন জেনারেল এবং কিউবার কমিউনিস্ট পার্টির বেশ কয়েকজন জ্যেষ্ঠ নেতা আছেন।
সেই নিষেধাজ্ঞা জারির পরের দিন এই হুঁশিয়ারি দিয়েছেন প্রেসিডেন্ট মিগুয়েল দিয়াজ-কানেল। এ ব্যাপারে আরও বিস্তারিত জানতে কিউবার জাতিসংঘ দূত এরনেস্তো সোবেরন গুজমানের সঙ্গে যোগাযোগ করেছিল এএফপি। তিনি বলেছেন, “যদি কেউ কিউবাতে আগ্রাসন চালানোর চেষ্টা করে, কিংবা অবশ্যই প্রতিরোধ করবে। এতে কোনো সন্দেহ নেই।”
“গত শতকের ষাটের দশকে যুক্তরাষ্ট্র কিউবায় আগ্রাসন চালানোর চেষ্টা করেছিল এবং পরাজিত হয়েছিল। অবশ্য সবাই এখন বলতেই পারে যে সেই দিন আর নেই। এখনকার পরিস্থিতি ভিন্ন। হ্যাঁ, আমরাও স্বীকার করি যে এখনকার পরিস্থিতি ভিন্ন।”
“কিন্তু পরিস্থিতি যতই ভিন্ন হোক, কিউবার জনগণের মনোভাব এখনও পরিবর্তন আসেনি।”
সূত্র : এএফপি
তুরস্ক, সৌদি ও পাকিস্তানসহ অন্যান্য দেশ নিয়ে ইসলামি সেনাবাহিনী গড়ার উদ্যোগ নিয়েছে ইরান। আপনি কি এই আর্মি গঠনের পক্ষে?