মজনুর রহমান আকাশ, মেহেরপুরঃ
কোরবানীর ঈদকে সামনে রেখে গরু মোটাতাজাকরণে ব্যস্ত সময় পার করছেন মেহেরপুরের খামারীরা| সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত ব্যস্ত গরুর পরিচর্যায়| কৃত্রিম উপায়ে গরু মোটাতাজাকরণ বেশ ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ায় সম্পূর্ণ প্রাকৃতিক খাবার ব্যবহার করছেন তারা| তবে ভারত থেকে গরু আমদানীর আশংকায় চিন্তিত খামারীরা| এদিকে ক্রেতাদেরও পরীক্ষা নিরীক্ষা করে পশু ক্রয় ও কোরবানী করার পরামর্শ প্রাণী বিশেষজ্ঞদের|
মেহেরপুর জেলা প্রাণি সম্পদ বিভাগের হিসেব মতে, জেলায় কোরবানীর ঈদকে সামনে রেখে বাণিজ্যিক ও পারিবারিক ২৬ হাজার ৭৭৫ টি খামারে এক লাখ ৭২ হাজার গরু মহিষ ছাগল ও ভেড়া প্রস্তুত রাখা হয়েছে| জেলায় প্রয়োজন ৯০ হাজার পশু| জেলার প্রয়োজন মিটিয়ে বাইরের জেলায় রপ্তানী করা হবে| বছর জুড়ে গরুর দাম বেশি থাকায় কোরবানীর সময় কাঙ্খিত মুল্য পাবেন বলে আশা খামারীদের|
ধানের বিচালী, কাঁচা ঘাস, খৈল, গমের ভুষি, ছোলা, ভাত, চালের কুঁড়া ইত্যাদি খাইয়ে গরু মোটাতাজা করেছেন এসব খামারীরা| কতিপয় অসাধু খামারীর কারণে প্রকৃত খামারীরা যাতে ক্ষতিগ্রস্ত না হয় সেদিকে নজর রাখতে এবং অসাধু খামারীকে চিহ্নিতের দাবি জানিয়েছেন তারা| এছাড়াও খামারীদের দাবি, কোরবানীর ঈদকে সামনে রেখে কোন ক্রমেই যাতে বৈধ ও অবৈধ পথে ভারতীয় গরু আমদানী না করা হয়| তাহলে কাঙ্খিত মূল্য পাবেন না খামারীরা| এতে করে ক্ষতিগ্রস্ত খামারী ও পশু পালনকারীরা গরু পালনে উৎসাহ হারাবে|
গাংনীর বালিয়াঘাট মা এগ্রো ফার্মের ¯^ত্ত্বাধিকারী হাজী আবু নাঈম জানান, তার খামারে ৬০ টি গরু মোটা তাজা করণ করা হচ্ছে| এর মধ্যে রয়েছে ৪০টি হরিয়ান ও ২০টি নেপালী জাতের গরু| সম্পূর্ণ দেশীয় খাবার খাওয়াচ্ছেন তিনি| খরচও কম| অন্যান্যবার অনেক খামারী হরমণ জাতিয় ওষুধ ব্যবহার করে মোটাতাজা করণ করায় বেশ কয়েকটি গরু মারা যায়| আবার বিক্রি করতে না পারায় গরুগুলি ফেরত আনতে বাধ্য হয়েছেন| এজন্য দেশীয় প্রযুক্তিতে গরু পালন করা হচ্ছে| তবে ভারত থেকে পশু আমদানী না করা হলে কাঙ্খিত মুল্য পাবেন বলেও আশাবাদ তিনি|
গাংনীর মালসাদহ গ্রামের গরুর খামারী ইনামুল হক জানান, তার খামারে ১৮টি নেপালী ও ১২টি হরিয়ান জাতের গরু আছে| ক্ষতিকারক ইঞ্জেকশন ও ট্যাবলেট ব্যবহার করে গরু মোটাতাজা করলে ঝুঁকি থাকে| অনেক সময় গরু মারাও যায়| ফলে ঝুঁকি না নিয়ে দেশীয় পদ্ধতিতেই গরু মোটাতাজা করা হচ্ছে| তবে শহর কেন্দ্রীক মানুষের মাঝে গরু মোটাতাজা করণে স্টরয়েড ও হরমন ব্যবহার করা হচ্ছে এমন অপপ্রচারে চিন্তিত তারা|
পারিবারিকভাবে গরু মোটা তাজাকরণ করছেন সহড়াবাড়িয়ার কালু| তিনি বাড়িতে ৫টি হরিয়ান জাতের গরু পালছেন| এবারও ঢাকায় নিবেন গরু| তিনি জানান, গরুর খাবার ও ওষুধসহ পালন খরচ প্রতি বছরই বাড়ছে| কিন্তু সে তুলনায় গরুর দাম বৃদ্ধি পায়নি| বাড়িতে ব্যাপারীরা আসছেন কিন্তু দাম বলছেন অনেক কম| ব্যাপারীরা যে দাম হাকছেন তাতে খরচের অর্ধেকটাও উঠবে না| তার পরও লাভের আশা করছেন তিনি| তবে ভারত থেকে পশু আমদানী না করার পরামর্শও দেন তিনি|
কুঞ্জনগরের গরুর বেপারী শফিউদ্দীন জানান, তিনি গতবার ২১০টি গরু ঢাকায় নিয়েছিলেন| এবার অন্তত ৩০০ গরু ঢাকার হাটে তুলবেন| ইতোমধ্যে গ্রামে গ্রামে ঘুরে গরু পছন্দ করছেন| সকল খামারী ও পারিবারিকভাবে পশু পালন করছেন করছেন প্রাকৃতিক উপায়ে ও দেশীয় খাবার দিয়ে| ফলে এবার কোন ঝুঁকি নেই খামারী ও ব্যবসায়িদের|
জেলা প্রাণী সম্পদ অফিসার তোফাজ্জল হোসেন, ঈদকে সামনে রেখে কোন ক্রমেই যাতে সীমান্ত দিয়ে ভারতীয় গরু না আসতে পারে সেই লক্ষ্যে সব ধরনের ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে| এছাড়াও হাটে স্টরয়েড ও হরমন ব্যবহারে মোটাতাজাকরণ গরু না তুলতে পারে সেজন্য হাটগুলোতে মোবাইল কোর্টসহ প্রাণী সম্পদ কর্মকর্তাদের একাধিক টিম থাকবে|