বৃহস্পতিবার, ২০ আগস্ট ২০২৬

পরীক্ষামূলক সংস্করণ

সারাদেশ

দুই বছর অনুপস্থিত থেকেও অধ্যক্ষ পদের বেতন পাচ্ছেন আ.লীগ নেতা

একটানা প্রায় দুই বছর অনুপস্থিত থেকেও অধ্যক্ষ পদের বেতন ভাতা পাচ্ছেন লালমনিরহাট জেলা আওয়ামী লীগের শিক্ষা ও গবেষণা সম্পাদক শরওয়ার আলম। তিনি আদিতমারী উপজেলার মহিষখোচা বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজের অধ্যক্ষ হিসেবে কর্মরত আছেন। অভিযোগে জানা গেছে, আওয়ামী লীগ নেতা শরওয়ার আলম উপজেলার মহিষখোচা বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজে জালিয়াতির মাধ্যমে তিনটিতে তৃতীয় বিভাগ নিয়েও […]

দুই বছর অনুপস্থিত থেকেও অধ্যক্ষ পদের বেতন পাচ্ছেন আ.লীগ নেতা

দুই বছর অনুপস্থিত থেকেও অধ্যক্ষ পদের বেতন পাচ্ছেন আ.লীগ নেতা

নিউজ ডেস্ক

২৬ এপ্রিল ২০২৬, ১১:০১

একটানা প্রায় দুই বছর অনুপস্থিত থেকেও অধ্যক্ষ পদের বেতন ভাতা পাচ্ছেন লালমনিরহাট জেলা আওয়ামী লীগের শিক্ষা ও গবেষণা সম্পাদক শরওয়ার আলম। তিনি আদিতমারী উপজেলার মহিষখোচা বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজের অধ্যক্ষ হিসেবে কর্মরত আছেন।

অভিযোগে জানা গেছে, আওয়ামী লীগ নেতা শরওয়ার আলম উপজেলার মহিষখোচা বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজে জালিয়াতির মাধ্যমে তিনটিতে তৃতীয় বিভাগ নিয়েও ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিষয়ের প্রভাষক পদে গত ১৯৯৭ সালের ১৮ অক্টোবর নিয়োগ পান। পরে প্রতিষ্ঠাতা অধ্যক্ষ শহিদুর রহমান অবসর গ্রহণ করলে দলীয় প্রভাবে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের দায়িত্ব নেন তিনি।

এরপর ক্ষমতার দাপটে পূর্বপদে ইস্তফা না দিয়ে ১২ বছরের স্থানে মাত্র ১০ বছরের অভিজ্ঞতায় ২০১২ সালের ১৯ জানুয়ারি অধ্যক্ষ পদ বাগিয়ে নেন শরওয়ার আলম। শিক্ষক অভিভাবকসহ স্থানীয়রা তার জাল-জালিয়াতির প্রমাণসহ অভিযোগ করেও তাকে সরাতে পারেননি। দলীয় প্রভাবে প্রতিষ্ঠানের নামে লাখ লাখ টাকা সরকারি বরাদ্দ নিয়ে আত্মসাৎ করেন বলেও অভিযোগ আছে।

গত ২০২৪ সালের জুলাই মাসে আওয়ামী লীগ সরকার বিরোধী আন্দোলন শুরু হলে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যাতায়াত বন্ধ করে দেন ওই আওয়ামী নেতা। আজ অবধি প্রতিষ্ঠানের হাজিরা খাতায় অনুপস্থিত রয়েছেন তিনি। এভাবে টানা প্রায় দুই বছর প্রতিষ্ঠানে অনুপস্থিত থেকেও বেতন ভাতা পাচ্ছেন জুলাই আন্দোলনে হত্যা মামলার আসামি এ অধ্যক্ষ। যা নিয়ে নানা সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।

গত ২০২৪ সালের ২৮ আগস্ট তার নিয়োগের জাল-জালিয়াতি নিয়ে আদিতমারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বরাবরে লিখিত অভিযোগ করেন শিক্ষক শিক্ষার্থী ও স্থানীয় অভিভাবকরা। অভিযোগটি আমলে নিয়ে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। কমিটি তদন্ত করে সত্যতা পেয়ে তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ করেন। যার পরিপ্রেক্ষিতে তৎকালীন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নুর ই আলম সিদ্দিকী তাকে গত ২০২৪ সালের ২৮ আগস্ট সাময়িক বরখাস্ত করেন।

এ আদেশ স্বাভাবিকভাবে ৩ মাস পরে বাতিল হলে তিনি সম্পূর্ণ বেতন পাচ্ছেন। তবে অভিযোগ উঠেছে, বেতনের একটি বড় অংশ কর্তৃপক্ষকে উৎকোচ দিয়ে অনুস্থিত অধ্যক্ষ বেতন ভাতা নিচ্ছেন।

তার অনুপস্থিতে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ পদে দায়িত্ব পালন করছেন সহকারী অধ্যাপক আবুল হোসেন। এদিকে তার বিরুদ্ধে প্রতিষ্ঠানের ৭ বছর অনুপস্থিত সমাজকর্মের সহকারী অধ্যাপক ৪ বছরের সাজাপ্রাপ্ত আসামি (বর্তমানে গ্রেপ্তার) আবু হেনা মোস্তফা জামানকে বেতন ভাতা প্রদান, প্রতিষ্ঠানের ইট খোয়া নিজের বাড়িতে পাচার, প্রতিষ্ঠানে ফ্যান চুরি মামলা আপোষের নামে চোরের কাছ থেকে অর্ধ লাখ টাকা আত্মসাৎ এবং প্রতিষ্ঠানে অনিয়মিতসহ নানান অভিযোগ উঠেছে।

অধ্যক্ষ শরওয়ার আলম প্রতিষ্ঠানে দুই বছর অনুপস্থিত থেকেও বেতন ভাতাসহ সব সুবিধা ভোগ করায় বর্তমান ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষসহ প্রতিষ্ঠানটির শিক্ষক কর্মচারীরা অনেকেই অনিয়মিত। যার কারণে ঐতিহ্যবাহী এ প্রতিষ্ঠানে শিক্ষার পরিবেশ মুখ থুবড়ে পড়ছে। শিক্ষার পরিবেশ ফেরাতে কঠোর নজরদারিসহ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি শিক্ষার্থী অভিভাবকসহ স্থানীয়দের।

শিক্ষার্থী মাজেদুল বলেন, অধ্যক্ষ শরওয়ার আলম জুলাই আন্দোলন থেকে প্রতিষ্ঠানে আসেন না। পুকুর পাড় নির্মাণের নামে ১৩ লাখ টাকা আত্মসাৎ করে পালিয়েছেন। তিনি না এসে বেতন পাওয়ায় বাকি শিক্ষকদের অনেকেই না এসে বেতন তুলতে শুরু করেছেন। এখন দুই একটি ক্লাস ছাড়া আর ক্লাস হচ্ছে না।

অভিভাবক নজরুল ইসলাম বলেন, কেউ না এসে বেতন পাচ্ছেন আর একজন ভারপ্রাপ্ত দায়িত্ব পেয়ে প্রতিষ্ঠানের পরিত্যক্ত ভবনের বারান্দার ইট খোয়া বাড়িতে নিয়েছেন। চুরির মামলা আপসের নামে টাকা নিয়ে আত্মসাৎ করেছেন। সবাই এসব নিয়ে ব্যস্ত, পড়ালেখার দিকে কারও নজর নেই। ঐতিহ্যবাহী এ প্রতিষ্ঠানটি শেষ হয়ে যাচ্ছে।

প্রতিষ্ঠানটির বিদ্যালয় শাখার সহকারী প্রধান শিক্ষক (ভারপ্রাপ্ত) তমিজার রহমান বলেন, অধ্যক্ষ স্যার জুলাই আন্দোলনের শুরু থেকে প্রতিষ্ঠানে অনুপস্থিত। অন্য প্রতিষ্ঠানে মব সৃষ্টি হলেও এখানে এমন কোনো ঘটনাই ঘটেনি। তবে শুনেছি, তদন্ত কমিটি তার নিয়োগ জালিয়াতির প্রমাণ পাওয়ায় লজ্জায় ও ভয়ে তিনি প্রতিষ্ঠানে আসেন না। তার সঙ্গে কোনো ধরনের যোগাযোগ নেই।

কলেজ শাখার সহকারী অধ্যাপক এটিএম আতাউর রহমান বলেন, আওয়ামী ক্ষমতার দাপটে জাল-জালিয়াতি করে প্রভাষক ও পরে ইস্তেফা না দিয়ে ১০ বছরের অভিজ্ঞতায় অধ্যক্ষ পদে বাগিয়ে নেন শরওয়ার আলম। টানা প্রায় দুই বছর অনুপস্থিত থেকেও রহস্যজনকভাবে বেতন ভাতা পাচ্ছেন তিনি। তার এই কাণ্ড দেখে অনেকেই এখন এ প্রতিষ্ঠানে অনিয়মিত। যে যার মতো আসেন আর চলে যান। ফলে শিক্ষার্থীদের পাঠদান ব্যাহত হচ্ছে। শুনেছি, পলাতক অধ্যক্ষ পুনরায় যোগদানের চেষ্টা করছেন।

ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ আবুল হোসেন বলেন, ইউএনও স্যার প্রতিষ্ঠানের সভাপতি তার নির্দেশে অনুপস্থিত অধ্যক্ষ শরওয়ার আলমকে বেতন ভাতা দিতে হচ্ছে। তিনি প্রতিষ্ঠানে না এসেও বেতন পাবেন আর আমি অতিরিক্ত দায়িত্ব কেন পালন করব? সরকার তাকে যেহেতু বেতন দিচ্ছে তো তাকে কর্মস্থলে ফেরালেই হয়। আমারও ইচ্ছে নেই অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করতে। আমি যে পদে বেতন ভোগ করি সে পদের ক্লাস নিয়ে চলে যাব। তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ অস্বীকার করেছেন তিনি।

প্রতিষ্ঠানটির পরিচালনা কমিটির সভাপতি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) বিধান কান্তি হালদার বলেন, ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ বেতন ভাতার শীট প্রস্তুত করে দেন আমি অনুমোদন করি মাত্র। এতে কোনো ধরনের লেনদেনের সুযোগ নেই। তিনি যদি ভারপ্রাপ্ত দায়িত্বে পালনে অনিচ্ছুক হন তবে লিখিত জানালে আমরা অন্য কাউকে দায়িত্ব দেব। পলাতক অধ্যক্ষ পুনরায় যোগদান করতে একটা লিখিত আবেদন করেছেন। আমরা তা খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করব।

সারাদেশ

৮ কেজি গাঁজাসহ ইসলামী যুব আন্দোলনের নেতা গ্রেফতার

দুমকি প্রতিনিধি: পটুয়াখালীর দুমকি উপজেলার লেবুখালী পাগলার মোড় টোলপ্লাজা এলাকায় র‍্যাব-৮ এর অভিযানে ৮ কেজি ৪০০ গ্রাম গাঁজাসহ ইসলামী যুব আন্দোলনের এক নেতাকে গ্রেফতার করা হয়েছে। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে মাদক চক্রের আরও এক সদস্যকে আটক করা হয়। র‍্যাব ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার গোপন সংবাদের ভিত্তিতে র‍্যাব-৮, সিপিসি-১ পটুয়াখালী ক্যাম্পের […]

নিউজ ডেস্ক

০৬ জুন ২০২৬, ১৪:২২

দুমকি প্রতিনিধি:

পটুয়াখালীর দুমকি উপজেলার লেবুখালী পাগলার মোড় টোলপ্লাজা এলাকায় র‍্যাব-৮ এর অভিযানে ৮ কেজি ৪০০ গ্রাম গাঁজাসহ ইসলামী যুব আন্দোলনের এক নেতাকে গ্রেফতার করা হয়েছে। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে মাদক চক্রের আরও এক সদস্যকে আটক করা হয়।

র‍্যাব ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার গোপন সংবাদের ভিত্তিতে র‍্যাব-৮, সিপিসি-১ পটুয়াখালী ক্যাম্পের একটি দল জানতে পারে যে সাকুরা পরিবহনের একটি দূরপাল্লার বাসে করে বিপুল পরিমাণ গাঁজা বিক্রয়ের উদ্দেশ্যে পটুয়াখালীর দিকে আনা হচ্ছে। এমন তথ্যের ভিত্তিতে ওয়ারেন্ট অফিসার ডিএডি ওয়াজ উদ্দীনের নেতৃত্বে র‍্যাব সদস্যরা দুমকি থানাধীন লেবুখালী পাগলার মোড় টোলপ্লাজা এলাকায় অবস্থান নেন।

পরে সন্দেহভাজন বাসটি টোলপ্লাজায় পৌঁছালে র‍্যাব সদস্যরা সেটি থামিয়ে তল্লাশি চালান। এ সময় বাসের এক যাত্রী, দুমকি উপজেলা শাখা ইসলামী যুব আন্দোলনের প্রচার সম্পাদক মো. সুমন হাওলাদার (৩৩)-কে আটক করা হয়। তল্লাশিকালে তার কাছ থেকে ৮ কেজি ৪০০ গ্রাম গাঁজা উদ্ধার করা হয়।

গ্রেফতারকৃত সুমন হাওলাদার দুমকি উপজেলার মুরাদিয়া ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের মৃত শাহজাহান হাওলাদারের ছেলে।

র‍্যাব জানায়, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সুমন তার এক সহযোগীর তথ্য দেন। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে তাৎক্ষণিক অভিযান চালিয়ে লেবুখালী ইউনিয়নের কার্তিকপাশা মোড় এলাকা থেকে মাদক চক্রের আরেক সদস্য মো. জামাল মৃধা (৩৪)-কে গ্রেফতার করা হয়। জামাল ওই এলাকার আনোয়ার মৃধার ছেলে।

অভিযান শেষে জব্দকৃত মাদকদ্রব্যসহ গ্রেফতার দুই আসামিকে দুমকি থানায় হস্তান্তর করা হয়। এ ঘটনায় র‍্যাবের পক্ষ থেকে একটি এজাহার দায়ের করা হয়েছে।

দুমকি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সেলিম উদ্দিন জানান, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮ এর সংশ্লিষ্ট ধারায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। মামলা নং-০২ (জিআর নং-৩৮, তারিখ: ০৫ জুন ২০২৬)। আইনি প্রক্রিয়া শেষে গ্রেফতারকৃতদের আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে।

সারাদেশ

শিশু রামিসাকে ধর্ষণ-হত্যার আগে যা সেবন করেন ঘাতক সোহেল, চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ

রাজধানীর মিরপুরের পল্লবীতে আট বছরের শিশু রামিসা ধর্ষণের পর গলা কেটে হত্যার ঘটনায় করা মামলায় ঘাতক সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দিচ্ছে পুলিশ। একইসঙ্গে রামিসাকে ধর্ষণ-হত্যার আগে ইয়াবা সেবন করেছিলেন বলে জবানবন্দিতে জানিয়েছেন আসামি। রোববার (২৪ মে) সকালে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পল্লবী থানার উপ-পরিদর্শক অহিদুজ্জামান এ তথ্য নিছিত করেন। তিনি বলেন, […]

শিশু রামিসাকে ধর্ষণ-হত্যার আগে যা সেবন করেন ঘাতক সোহেল, চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ

শিশু রামিসাকে ধর্ষণ-হত্যার আগে যা সেবন করেন ঘাতক সোহেল, চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ

নিউজ ডেস্ক

২৪ মে ২০২৬, ১১:২১

রাজধানীর মিরপুরের পল্লবীতে আট বছরের শিশু রামিসা ধর্ষণের পর গলা কেটে হত্যার ঘটনায় করা মামলায় ঘাতক সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দিচ্ছে পুলিশ। একইসঙ্গে রামিসাকে ধর্ষণ-হত্যার আগে ইয়াবা সেবন করেছিলেন বলে জবানবন্দিতে জানিয়েছেন আসামি।

রোববার (২৪ মে) সকালে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পল্লবী থানার উপ-পরিদর্শক অহিদুজ্জামান এ তথ্য নিছিত করেন। তিনি বলেন, শনিবার ডিএনএ টেস্ট রিপোর্ট পেয়েছি। কিছু কাজ বাকি আছে, কাজ চলছে। আজই আদালতে দুজনের বিরুদ্ধে চার্জশিট জমা দেব।

পুলিশ জানায়, অভিযুক্তকে ২০ মে গ্রেপ্তার করা হয়। তিনি আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আমিনুল ইসলাম জুনায়েদ জবানবন্দি রেকর্ড করেন এবং পরে অভিযুক্তকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

তদন্ত কর্মকর্তারা জানান, অভিযুক্ত ব্যক্তি শিশু রামিসাকে কৌশলে একটি কক্ষে নিয়ে গিয়ে অপরাধ সংঘটিত করেন। ঘটনার পর তিনি প্রমাণ নষ্ট করার চেষ্টা করেন এবং পরে পালিয়ে যান।

মামলার এজাহারে বলা হয়, পপুলার মডেল হাই স্কুলের দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী রামিসাকে ঘরে নিয়ে ধর্ষণ করে সোহেল। পরে তিনি শিশুটির গলা কেটে মরদেহ কয়েক টুকরো করেন। শিশুটির চিৎকার শুনে পরিবারের সদস্য ও প্রতিবেশীরা যখন দ্রুত সেখানে যায়।

কিন্তু এর আগেই, সোহেল রামিসার মরদেহ বিছানার নিচে লুকিয়ে রাখে। পরে টয়লেটের ভেতরে একটি বালতি থেকে মাথা উদ্ধার করা হয়।

এ ঘটনায় বুধবার ভুক্তভোগীর বাবা আব্দুল হান্নান মোল্লা বাদী হয়ে পল্লবী থানায় মামলা দায়ের করেন।

পরে এ মামলায় গত বুধবার ২০ মে গ্রেপ্তার আসামি সোহেল রানা আদালতে দোষ স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছেন। ঘটনার আগে ইয়াবা সেবন করেছিলেন বলে জবানবন্দিতে উল্লেখ করেন এই ঘাতক।

জবানবন্দিতে সোহেল জানায়, ১৯ মে সকাল সাড়ে ৯ টার দিকে রামিসা ঘর থেকে বের হলে তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তার তাকে রুমের ভেতরে নিয়ে যায়। এরপর বাথরুমে নিয়ে ছোট্ট রামিসাকে ধর্ষণ করে সোহেল। এতে জ্ঞান হারায় শিশুটি। এর মধ্যে তার মা দরজায় কড়া নাড়তে থাকেন। এসময় সোহেল তাকে গলা কেটে হত্যা করে। মরদেহ গুম করার জন্য তার মাথা ধারালো ছুরি দিয়ে কেটে গলা থেকে আলাদা করে। দুই হাত কাঁধ থেকে আংশিক বিচ্ছিন্ন করে মরদেহ বাথরুম থেকে শয়নকক্ষে এনে খাটের নিচে রাখে। এছাড়া ছুরি দিয়ে যৌনাঙ্গ ক্ষতবিক্ষত করে। ঘটনার সময় তার স্ত্রী একই রুমে ছিলেন। পরে জানালার গ্রিল কেটে পালিয়ে যায় সে। মাদক সেবন করে বিকৃত যৌনকর্মে লিপ্ত হওয়া এই আসামি আদালতকে জানান, ভুক্তভোগীর পরিবারের সঙ্গে পূর্ব কোন শত্রুতা ছিল না।

সারাদেশ

আমি সরকারি চাকরি করি,তোমরা আমার চাকরিটা খাইয়ো না, আমি মারা যাব,তোমরা আমার কোনো ক্ষতি কইরো না

কুমিল্লা সরকারি মহিলা কলেজের ইংরেজি বিভাগের শিক্ষক মোহাম্মদ মহসিনের বদলিকে কেন্দ্র করে শিক্ষার্থীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। শনিবার (২৫ জুলাই) কলেজ ক্যাম্পাসে আয়োজিত মানববন্ধনে আবেগঘন এক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। এ সময় শিক্ষার্থীদের সামনে কান্নায় ভেঙে পড়েন শিক্ষক মহসিন। উপস্থিত শিক্ষার্থী ও প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, তিনি শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে বলেন, আমি সরকারি চাকরি করি, তোমরা আমার চাকরিডা […]

আমি সরকারি চাকরি করি,তোমরা আমার চাকরিটা খাইয়ো না, আমি মারা যাব,তোমরা আমার কোনো ক্ষতি কইরো না

ছবি সংগৃহীত

নিউজ ডেস্ক

২৫ জুলাই ২০২৬, ২১:২০

কুমিল্লা সরকারি মহিলা কলেজের ইংরেজি বিভাগের শিক্ষক মোহাম্মদ মহসিনের বদলিকে কেন্দ্র করে শিক্ষার্থীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ দেখা দিয়েছে।

শনিবার (২৫ জুলাই) কলেজ ক্যাম্পাসে আয়োজিত মানববন্ধনে আবেগঘন এক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। এ সময় শিক্ষার্থীদের সামনে কান্নায় ভেঙে পড়েন শিক্ষক মহসিন। উপস্থিত শিক্ষার্থী ও প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, তিনি শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে বলেন, আমি সরকারি চাকরি করি, তোমরা আমার চাকরিডা খাইয়ো না। তোমরা আমার কোনো ক্ষতি কইরো না। একপর্যায়ে তিনি শিক্ষার্থীদের পা ধরে শান্ত থাকার অনুরোধ জানান।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, মানববন্ধনের সময় শিক্ষার্থীরা বদলির আদেশ প্রত্যাহারের দাবিতে বিভিন্ন স্লোগান দেন। এ সময় মোহাম্মদ মহসিন আন্দোলন থেকে দূরে থাকার আহ্বান জানিয়ে বলেন, এটা আমার বদলির অংশ। আমি এ বিষয়ে কোনো বক্তব্য দেবো না। এরপর তিনি আবেগ নিয়ন্ত্রণ করতে না পেরে কান্নায় ভেঙে পড়েন।

এক শিক্ষার্থী বলেন, আমরা আমাদের শিক্ষকদের কোনো ক্ষতি হতে দেব না। স্যার সরকারি চাকরিজীবী। চাকরি নিয়ে শঙ্কা থেকেই তিনি আমাদের সামনে কান্না করেছেন। সামান্য বৃষ্টির পানিকে ইস্যু করে একসঙ্গে সাতজন শিক্ষককে বদলি করার কোনো যৌক্তিকতা নেই।

আরেক শিক্ষার্থী বলেন, এই মানববন্ধনকে কেন্দ্র করে যদি শিক্ষকদের ওপর কোনো ধরনের চাপ সৃষ্টি করা হয়, তাহলে আন্দোলন শুধু মহিলা কলেজে সীমাবদ্ধ থাকবে না, প্রয়োজন হলে সারা দেশে ছড়িয়ে দেওয়া হবে।

উল্লেখ্য, সম্প্রতি বৃষ্টির পানি কলেজ ক্যাম্পাসে প্রবেশের ঘটনাকে কেন্দ্র করে কুমিল্লা সরকারি মহিলা কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষসহ সাতজন শিক্ষককে বদলির আদেশ দেওয়া হয়। এরপর থেকেই শিক্ষার্থীরা ওই সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ জানিয়ে বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করছেন এবং বদলির আদেশ পুনর্বিবেচনার দাবি জানিয়ে আসছেন।