বৃহস্পতিবার, ০৮ অক্টোবর ২০২৬

পরীক্ষামূলক সংস্করণ

সারাদেশ

পীর হত্যা: সাবেক শিবির নেতাকে প্রধান আসামি করে ৪ জনের নামে মামলা

কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলায় ফিলিপনগরে দরবার শরীফে হামলা চালিয়ে আবদুর রহমান ওরফে পীর শামীম জাহাঙ্গীরকে হত্যার অভিযোগে হত্যা মামলা হয়েছে। গতকাল সোমবার রাত সাড়ে ১০টায় নিহত পীরের বড় ভাই অবসরপ্রাপ্ত স্কুল শিক্ষক ফজলুর রহমান বাদী হয়ে দৌলতপুর থানায় মামলা দায়ের করেন। এ সময় তার সাথে দুই ভাই গোলাম রহমান এবং হাবিবুর রহমান উপস্থিত ছিলেন। মামলার এজাহারভুক্ত […]

পীর হত্যা: সাবেক শিবির নেতাকে প্রধান আসামি করে ৪ জনের নামে মামলা

পীর হত্যা: সাবেক শিবির নেতাকে প্রধান আসামি করে ৪ জনের নামে মামলা

নিউজ ডেস্ক

১৫ এপ্রিল ২০২৬, ১০:৩৩

কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলায় ফিলিপনগরে দরবার শরীফে হামলা চালিয়ে আবদুর রহমান ওরফে পীর শামীম জাহাঙ্গীরকে হত্যার অভিযোগে হত্যা মামলা হয়েছে। গতকাল সোমবার রাত সাড়ে ১০টায় নিহত পীরের বড় ভাই অবসরপ্রাপ্ত স্কুল শিক্ষক ফজলুর রহমান বাদী হয়ে দৌলতপুর থানায় মামলা দায়ের করেন। এ সময় তার সাথে দুই ভাই গোলাম রহমান এবং হাবিবুর রহমান উপস্থিত ছিলেন।

মামলার এজাহারভুক্ত চার আসামি হলেন, ফিলিপনগর ইউনিয়নের ইসলামপুর গ্রামের কালাম দফাদারের ছেলে কুষ্টিয়া জেলা ছাত্রশিবিরের সাবেক সভাপতি ও দৌলতপুর উপজেলা জামায়াতের কর্মপরিষদের সদস্য মুহাম্মদ খাজা আহমেদ (৩৮), একই ইউনিয়নের হোসেনাবাদ বিশ্বাসপাড়া গ্রামের মৃত এরশাদ আলীর ছেলে খেলাফত মজলিসের দৌলতপুর উপজেলা সভাপতি মো. আসাদুজ্জামান (৩৫), পশ্চিম-দক্ষিণ ফিলিপনগর গ্রামের গাজী মিস্ত্রির ছেলে স্থানীয় জামায়াত কর্মী রাজীব মিস্ত্রি (৪৫) ও স্থানীয় একটি মাদ্রাসার শিক্ষক ইসলামপুর পূর্বপাড়া গ্রামের মো. শিহাব।

স্থানীয়দের তথ্য মতে, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে রাজীবকে জামায়াতের পক্ষে প্রচার-প্রচারণায় দেখা গেছে। তিনি সাবেক শিবির নেতা খাজার অনুসারী।

মামলার এজাহারে অবসর প্রাপ্ত স্কুল শিক্ষক ফজলুর রহমান উল্লেখ করেছেন, তার ছোট ভাই মো. আবদুর রহমানের (৫৭) ফিলিপনগরে নিজ বাড়িতে দরবার শরিফ আছে। শনিবার বেলা পৌনে ৩টার দিকে তার ভাই বাড়িতে অবস্থিত দরবারে অবস্থান করছিলেন। এ সময় আসামি মুহাম্মদ খাজা আহমেদের হুকুমে এজাহারভুক্ত আসামিরা অজ্ঞাতনামা ১৮০ থেকে ২০০ জন সংঘবদ্ধ হয়ে হাতে লোহার রড, হাঁসুয়া, দা, ছুরি, কুড়াল, বাঁশের লাঠি ও কাঠের বাটাম নিয়ে দরবার শরিফে অনধিকার প্রবেশ করে। দরবারের দরজা-জানালা ভাঙচুর করে। ৩ নম্বর আসামি রাজীবসহ অজ্ঞাতনামা আসামিরা দরবার শরিফের দ্বিতীয় তলায় প্রবেশ করে জোবায়ের (৩১) নামের একজনকে লোহার রড দিয়ে এলোপাতাড়ি মারধর করেন। এরপর আসামি রাজীব মিস্ত্রি লোহার রড দিয়ে আবদুর রহমানের কোমর বরাবর এবং হত্যার উদ্দেশ্যে মাথায় আঘাত করেন। অজ্ঞাতনামা আসামিরা আবদুর রহমানকে এলোপাতাড়িভাবে ধারালো অস্ত্র দিয়ে হত্যার উদ্দেশ্যে মাথার ওপর, ডান চোয়ালের কাছে, ঠোঁটের মধ্যে, থুঁতনিতে, পিঠের বাঁ পাশে ও ডান পায়ের হাঁটুর পেছনে কুপিয়ে গুরুতর রক্তাক্ত জখম করেন এবং বাঁশের লাঠি ও কাঠের বাটাম দিয়ে শরীরের বিভিন্ন স্থানে এলোপাতাড়িভাবে মারধর করেন। আবদুর রহমানের চিৎকারে দরবার শরিফের পরিচালিকা জামিরন দৌঁড়ে যান। ২ নম্বর আসামি আসাদুজ্জামান তাকেও হত্যার উদ্দেশ্যে মাথায় কোপ মারিতে গেলে কোপটি বাঁ হাত দিয়ে ঠেকালে বাঁ হাতের কবজির ওপরের অংশের মাংস কেটে রক্তাক্ত জখম হয়।

এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে, আসামিরা দরবার শরিফ ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করে আনুমানিক ২০ লাখ টাকার ক্ষতি সাধন করে। অজ্ঞাতনামা আসামিরা আবদুর রহমানের দরবার শরিফে থাকা স্টিলের আলমারি ভেঙে ৫ লাখ টাকা এবং ৪ ভরি স্বর্ণালংকার চুরি করে।

মামলার বিষয়ে জেলা শিবিরের সাবেক সভাপতি ও দৌলতপুর উপজেলা জামায়াতের কর্মপরিষদের সদস্য খাজা আহমেদ ঘটনার সঙ্গে সম্পৃক্ততা অস্বীকার করে বলেন, এই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে আমার গোপনে বা প্রকাশ্য কোন ধরণের দায়বদ্ধতা নেই। আমাকে জড়ানোর মূল উদ্দেশ্য আমি এই এলাকার চেয়ারম্যান ক্যান্ডিডেট। আমি যেন এই এলাকার মানুষের কাছ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ি, আমি যেন এই ফিলিপনগর থেকে দূরে চলে যাই, এটাই হচ্ছে মূল টার্গেট। এটার সাথে আমার কোন সম্পৃক্ততা নেই। এখানে রাজনৈতিক ফায়দা হাসিলের জন্য আমাকে এই ঘটনায় জড়ানো হয়েছে। প্রশাসনকে বুঝিয়েছে আমি এটার মদদদাতা।

খাজা আহমেদ বলেন, এখানে উভয় সংকট তৈরি করার চেষ্টা করছে। আমি আগে পরে কোথাও ছিলাম না। সেদিন যে হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে ওইখানে সেদিন হামলা করার কথা ছিল না। আমি যতটুকু জানতাম দুপুর ২টার সময় আবেদের ঘাট নামক স্থানে স্থানীয় সবাই বসে প্রশাসনের মাধ্যমে কীভাবে সমাধান করা যায় সেই সিদ্ধান্ত নেয়ার কথা ছিল। সেখানে আমাকে যেতে বলা হয়েছিল, আমি বলেছি আমি যাব না। কিন্তু তারা সেখানে না বসে লাঠি-সোটা নিয়ে দরবারে গিয়ে হামলা করে।

তিনি বলেন, আমি ওই হামলার সময় সশরীরে কোনভাবেই সেখানে ছিলাম না। সেখানে থাকার কোন প্রশ্নই আসে না। যখন ওই ঘটনা ঘটেছে তখন আমি প্রশাসনের সাথে ফোনে কথা বলছিলাম। ওই ঘটনার পরে তাকে হাসপাতালে নেওয়া হয়। তাৎক্ষণিক আমি আমি হাসপাতালে যাই। কারণ, সে আমার বংশের। হাসপাতালে তাকে মৃত ঘোষণা করলে কাগজপত্র রেডি করে আমি থানায় যাই। আমি নিজে তার লাশ মর্গে পাঠাই। কুষ্টিয়া এসে আমিই লাশ রিসিভ করি।

মামলার বিষয়ে তিনি বলেন, রাজনৈতিক স্বার্থ হাসিলের জন্য পরিকল্পিতভাবে এমন করা হয়েছে । আমাকে জড়ানোর সাথে সাথে বিভিন্ন ডকুমেন্ট অনলাইন থেকে গায়েব করে ফেলা হয়েছে। আমি সেগুলো উদ্ধারের চেষ্টা করছি। কারা কারা নেতৃত্ব দিয়েছে, কে ছুরি হাতে ছিল, কে রামদা হাতে ছিল, কে লাঠি হাতে ছিল সব বেরিয়ে আসবে। এ ঘটনার আগে কোথায় মিটিং হয়েছিল ৪০ মিনিটের সেই তথ্য আমার কাছে দ্রুত চলে আসবে।

আমি আবারও বলছি, রাজনৈতিক স্বার্থের জন্য উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে আমার নামে এই মামলা করা হয়েছে।

মামলার আরেক আসামি খেলাফত মজলিসের উপজেলা আমির মাওলানা আসাদুজ্জামান আসাদের সাথে যোগাযোগ করার জন্য একাধিকবার ফোন দিলেও তার ব্যবহৃত মোবাইল নম্বর বন্ধ পাওয়া যায়।

এদিকে আবদুর রহমান ওরফে শামীম জাহাঙ্গীরের দরবারে হামলা, ভাঙচুর ও হত্যার ঘটনায় অংশ নেওয়া অনেককে শনাক্ত করার কথা জানিয়েছে পুলিশ। দরবারে হামলার ঘটনার পর হামলাকারীরা অনেকেই এলাকা ছেড়ে গা ঢাকা দিয়েছেন।

দৌলতপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আরিফুর রহমান বলেন, হত্যা মামলায় এখনও পর্যন্ত কোন আসামি আটক নেই। সোমবার রাতে নিহতের ভাই বাদী হয়ে মামলা করেছেন। আমরা তদন্ত ও সকল কিছু পর্যালোচনা করছি। আসামি ধরতে আমাদের অভিযান অব্যহত আছে।

দৌলতপুর উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর বিবৃতি :

পীর আব্দুর রহমান ওরফে শামীম জাহাঙ্গীর হত্যার ঘটনায় সাবেক শিবির কর্মী ও দৌলতপুর উপজেলা জামায়াতের কর্মপরিষদের সদস্যকে জড়িয়ে কিছু গণমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদকে ‘মিথ্যা, ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত’ উল্লেখ করে বিবৃতি দিয়েছে দৌলতপুর উপজেলা জামায়াতে ইসলামী। এ ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে দৌলতপুর উপজেলা জামায়াতে ইসলামী।

মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) রাত ৮ টায় গণমাধ্যমে পাঠানো এক যৌথ বিবৃতিতে প্রতিবাদ জানান দৌলতপুর উপজেলা জামায়াতের আমীর মাওলানা মো. বেলাল উদ্দীন এবং সেক্রেটারি ডা. মো. আব্দুল্লাহ আল নোমান।

বিবৃতিতে বলা হয়, ফিলিপনগরের ঘটনা কোনো রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের অংশ নয়। এমনকি এর সঙ্গে জড়িত কেউ রাজনৈতিক দলের নেতা বা কর্মী নয়। বিষয়টি স্থানীয়ভাবে আকস্মিকভাবে ঘটেছে। এটি রাজনৈতিক কোন পরিকল্পনার অংশ নয়। তবুও বিষয়টিতে একটি রাজনৈতিক মহলের ইন্ধনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীকে জড়িয়ে মিথ্যা প্রচার চালানো হচ্ছে বলে আমরা মনে করছি।

জামায়াত নেতৃবৃন্দ বলেন, এই হত্যাকাণ্ডের সাথে বাংলাদেশ জামাতে ইসলামীর কোন নেতা বা কর্মী জড়িত নেই। একই সাথে সঠিক তদন্ত করে দোষীদের আইনের আওতায় এনে শাস্তি দাবী করছি।

তারা ঘটনার সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত অপরাধীদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান। পাশাপাশি, বিভ্রান্তিকর ও রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত সংবাদ প্রকাশে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে সংশ্লিষ্ট গণমাধ্যমকে সংবাদ প্রত্যাহার ও সংশোধনের আহ্বান জানান।

প্রসঙ্গত, কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে গত শনিবার দুপুর আড়াইটার দিকে ইসলাম ধর্ম বিকৃতির অভিযোগে দৌলতপুর উপজেলার ফিলিপনগর ইউনিয়নে শামীম জাহাঙ্গীর নামের এক পীরের আস্তানায় ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করেছে স্থানীয় মুসল্লি ও এলাকাবাসী। এ সময় পীর শামীম জাহাঙ্গীর ও তার অনুসারীদের বেধড়ক মারধর করেন তারা। এই ঘটনায় পীর শামীমকে আহত অবস্থায় দৌলতপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বিকাল ৪টায় মারা যান তিনি।

রোববার দুপুরে কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে ময়না তদন্ত সম্পন্ন করে সাড়ে পাঁচটার দিকে ফিলিপনগর এলাকার পশ্চিম-দক্ষিণ কবরস্থানে দাফন সম্পন্ন করা হয়।

সারাদেশ

আমি সরকারি চাকরি করি,তোমরা আমার চাকরিটা খাইয়ো না, আমি মারা যাব,তোমরা আমার কোনো ক্ষতি কইরো না

কুমিল্লা সরকারি মহিলা কলেজের ইংরেজি বিভাগের শিক্ষক মোহাম্মদ মহসিনের বদলিকে কেন্দ্র করে শিক্ষার্থীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। শনিবার (২৫ জুলাই) কলেজ ক্যাম্পাসে আয়োজিত মানববন্ধনে আবেগঘন এক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। এ সময় শিক্ষার্থীদের সামনে কান্নায় ভেঙে পড়েন শিক্ষক মহসিন। উপস্থিত শিক্ষার্থী ও প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, তিনি শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে বলেন, আমি সরকারি চাকরি করি, তোমরা আমার চাকরিডা […]

আমি সরকারি চাকরি করি,তোমরা আমার চাকরিটা খাইয়ো না, আমি মারা যাব,তোমরা আমার কোনো ক্ষতি কইরো না

ছবি সংগৃহীত

নিউজ ডেস্ক

২৫ জুলাই ২০২৬, ২১:২০

কুমিল্লা সরকারি মহিলা কলেজের ইংরেজি বিভাগের শিক্ষক মোহাম্মদ মহসিনের বদলিকে কেন্দ্র করে শিক্ষার্থীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ দেখা দিয়েছে।

শনিবার (২৫ জুলাই) কলেজ ক্যাম্পাসে আয়োজিত মানববন্ধনে আবেগঘন এক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। এ সময় শিক্ষার্থীদের সামনে কান্নায় ভেঙে পড়েন শিক্ষক মহসিন। উপস্থিত শিক্ষার্থী ও প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, তিনি শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে বলেন, আমি সরকারি চাকরি করি, তোমরা আমার চাকরিডা খাইয়ো না। তোমরা আমার কোনো ক্ষতি কইরো না। একপর্যায়ে তিনি শিক্ষার্থীদের পা ধরে শান্ত থাকার অনুরোধ জানান।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, মানববন্ধনের সময় শিক্ষার্থীরা বদলির আদেশ প্রত্যাহারের দাবিতে বিভিন্ন স্লোগান দেন। এ সময় মোহাম্মদ মহসিন আন্দোলন থেকে দূরে থাকার আহ্বান জানিয়ে বলেন, এটা আমার বদলির অংশ। আমি এ বিষয়ে কোনো বক্তব্য দেবো না। এরপর তিনি আবেগ নিয়ন্ত্রণ করতে না পেরে কান্নায় ভেঙে পড়েন।

এক শিক্ষার্থী বলেন, আমরা আমাদের শিক্ষকদের কোনো ক্ষতি হতে দেব না। স্যার সরকারি চাকরিজীবী। চাকরি নিয়ে শঙ্কা থেকেই তিনি আমাদের সামনে কান্না করেছেন। সামান্য বৃষ্টির পানিকে ইস্যু করে একসঙ্গে সাতজন শিক্ষককে বদলি করার কোনো যৌক্তিকতা নেই।

আরেক শিক্ষার্থী বলেন, এই মানববন্ধনকে কেন্দ্র করে যদি শিক্ষকদের ওপর কোনো ধরনের চাপ সৃষ্টি করা হয়, তাহলে আন্দোলন শুধু মহিলা কলেজে সীমাবদ্ধ থাকবে না, প্রয়োজন হলে সারা দেশে ছড়িয়ে দেওয়া হবে।

উল্লেখ্য, সম্প্রতি বৃষ্টির পানি কলেজ ক্যাম্পাসে প্রবেশের ঘটনাকে কেন্দ্র করে কুমিল্লা সরকারি মহিলা কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষসহ সাতজন শিক্ষককে বদলির আদেশ দেওয়া হয়। এরপর থেকেই শিক্ষার্থীরা ওই সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ জানিয়ে বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করছেন এবং বদলির আদেশ পুনর্বিবেচনার দাবি জানিয়ে আসছেন।

সারাদেশ

শাহজাদপুরে প্রবাসীর বাড়ি নির্মাণে বাঁধা, চাঁদা দাবির অভিযোগ

মাসুম হোসেন অন্তু, শাহজাদপুর সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি: সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুরে প্রবাসীর বাড়ি নির্মাণে বাঁধার ঘটনা ঘটেছে। পড়ে চাঁদা দাবির অভিযোগ করেন ভুক্তভোগী পরিবার। ঘটনাটি ঘটেছে শাহজাদপুর পৌর শহরের বাড়াবিল শিমুলপাড়া মহল্লার প্রবাসী মোঃ তারেক রহমানের বাড়িতে। তারেক রহমান ওই গ্রামের মোঃ দেরাজ প্রামানিকের ছেলে। অভিযুক্তরা তাদের প্রতিবেশী আনসার প্রামাণিক ও তার তিন ছেলে রোশনাই, আল মাহমুদ ও […]

শাহজাদপুরে প্রবাসীর বাড়ি নির্মাণে বাঁধা, চাঁদা দাবির অভিযোগ

ছবি সংগৃহীত

প্রতিনিধি ডেস্ক

২৯ জুলাই ২০২৬, ২২:০৮

মাসুম হোসেন অন্তু, শাহজাদপুর সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি: সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুরে প্রবাসীর বাড়ি নির্মাণে বাঁধার ঘটনা ঘটেছে। পড়ে চাঁদা দাবির অভিযোগ করেন ভুক্তভোগী পরিবার।

ঘটনাটি ঘটেছে শাহজাদপুর পৌর শহরের বাড়াবিল শিমুলপাড়া মহল্লার প্রবাসী মোঃ তারেক রহমানের বাড়িতে। তারেক রহমান ওই গ্রামের মোঃ দেরাজ প্রামানিকের ছেলে। অভিযুক্তরা তাদের প্রতিবেশী আনসার প্রামাণিক ও তার তিন ছেলে রোশনাই, আল মাহমুদ ও আলম।

আজ বুধবার দুপুরে সরেজমিনে ভুক্তভোগী প্রবাসী তারেক রহমানের বাড়িতে গেলে তারা অভিযোগ করে বলেন। বাড়ির কাজ করার জন্য ইট ও রড নিয়ে আসার সময় অভিযুক্তরা বাঁধা দেয়। এসময় তারা আমাদের জায়গা দিয়ে বাড়ির পেছনে অবস্থিত জলাশয়ে যাওয়ার রাস্তা দাবি করেন।

পরে এলাকাবাসীর উপস্থিতিতে বাড়ীর পূর্ব পাশের দেয়াল ভেঙে তাদের রাস্তা দেওয়া হয়। আজ তাদের বাড়ির সামনে দিয়ে শ্রমিকরা আসার সময় তারা বাধা দেয় ও গালাগালি করলে শ্রমিকরা ফিরে যায়। পরে আমরা বিষয়টি জানতে গেলে আমাদের সাথেও দুর্ব্যবহার করে এবং অসুস্থ দেরাজ প্রামানিককে ধাক্কা দেয়।

এসময় তারা আরো বলেন, আনসার প্রামাণিক ও তার ছেলেরা এখন বাড়ির মাঝ দিয়ে রাস্তা চায়। নাহলে তারা আমাদের বাঁড়ি করতে দিবে না। এছাড়া লোক মারফত আমাদের কাছে ১ লাখ টাকা দাবি করেছে, টাকা দিলে আর বাধা দিবে না।

এই ঘটনায় আনসার প্রামাণিক ও তার ছেলে আল মাহমুদ ও রোশনাই বলেন, আমাদের জায়গা দিয়ে রাস্তা হয়েছে তাদের বাড়ি দিয়েও রাস্তা দেয়ার কথা ছিল এবং সেই মোতাবেক খুঁটি লাগানো ছিল। এখন বাড়ির মাঝখান দিয়ে রাস্তা না দিলে আমরা যেতে দেবো না।

সারাদেশ

আইফোনের জন্য কুবি শিক্ষকের ছেলে অপ্রতীমকে হত্যা, আটক ১

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. নাহিদা বেগমের নিখোঁজ ছেলে ইশিয়াত শাহরিয়ার অপ্রতীমের (১৩) মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এ ঘটনায় জড়িত সন্দেহে তুহিন নামে এক যুবককে আটক করেছে পুলিশ। শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) দুপুরে সদর দক্ষিণ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রকিবুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করেন। পুলিশ জানায়, দুপুর ১টার দিকে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের কাছাকাছি […]

আইফোনের জন্য কুবি শিক্ষকের ছেলে অপ্রতীমকে হত্যা, আটক ১

ছবি সংগৃহীত

নিউজ ডেস্ক

১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৬:৩৪

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. নাহিদা বেগমের নিখোঁজ ছেলে ইশিয়াত শাহরিয়ার অপ্রতীমের (১৩) মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এ ঘটনায় জড়িত সন্দেহে তুহিন নামে এক যুবককে আটক করেছে পুলিশ।

শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) দুপুরে সদর দক্ষিণ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রকিবুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

পুলিশ জানায়, দুপুর ১টার দিকে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের কাছাকাছি ম্যাজিক প্যারাডাইস পার্কসংলগ্ন একটি জঙ্গল থেকে অপ্রতীমের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। তার মাথায় গুরুতর আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে।

পরিবার সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে বাসা থেকে বের হওয়ার পর অপ্রতীম আর ফেরেনি। পরিবারের অজান্তে সে তার মায়ের একটি আইফোন নিয়ে বের হয়েছিল। দীর্ঘ সময় খোঁজ করেও সন্ধান না পাওয়ায় সদর দক্ষিণ মডেল থানায় নিখোঁজের সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়। পরে তার মা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছেলের নিখোঁজের তথ্য জানালে বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংবাদিক সংগঠন ও শিক্ষার্থীরাও বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেন।

এর মধ্যে শনিবার দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের অদূরের জঙ্গলে পাঞ্জাবি পরা অপ্রতীমের মরদেহ পড়ে থাকতে দেখে স্থানীয়রা পুলিশকে খবর দেন।

পরিবারের দাবি, মায়ের আইফোনটি ছিনিয়ে নেওয়ার উদ্দেশ্যেই অপ্রতীমকে হত্যা করা হয়ে থাকতে পারে। তবে হত্যার প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হতে তদন্ত করছে পুলিশ।

সদর দক্ষিণ মডেল থানার ওসি রকিবুল ইসলাম বলেন, ‘মোবাইল ফোনের জন্যই এ হত্যাকাণ্ড ঘটেছে বলে আমরা অনেকটা নিশ্চিত।’ আটক তুহিনকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। অপ্রতীমের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে।