রবিবার, ৩১ মে ২০২৬

পরীক্ষামূলক সংস্করণ

সারাদেশ

নাটোরে মাছ উৎপাদনের প্রত্যাশিত লক্ষ্যমাত্রা প্রায় ৮৩ হাজার মেট্রিক টন

মনিরুল ইসলাম (নাটোর জেলা প্রতিনিধি): চলতি মৌসুমে নাটোর জেলায় পুকুর ও প্রাকৃতিক উৎস খাল-বিল, নদী-নদী থেকে মাছ উৎপাদনের প্রত্যাশিত লক্ষ্যমাত্রা ৮৩ হাজার ২০১ দশমিক ৮ মেট্রিক টন নির্ধারণ করা হয়েছে। যার মোট আর্থিক মূল্য গড়ে প্রায় চার হাজার ৮১ কোটি ১৩ লাখ ৪৬ হাজার টাকা। এরমধ্যে পুকুরে প্রত্যাশিত  লক্ষ্যমাত্রা ৭৮ হাজার ৬৩৮ মেট্রিক টন। যার […]

নিউজ ডেস্ক

২২ নভেম্বর ২০২৪, ১৬:৫০

মনিরুল ইসলাম (নাটোর জেলা প্রতিনিধি):
চলতি মৌসুমে নাটোর জেলায় পুকুর ও প্রাকৃতিক উৎস খাল-বিল, নদী-নদী থেকে মাছ উৎপাদনের প্রত্যাশিত লক্ষ্যমাত্রা ৮৩ হাজার ২০১ দশমিক ৮ মেট্রিক টন নির্ধারণ করা হয়েছে। যার মোট আর্থিক মূল্য গড়ে প্রায় চার হাজার ৮১ কোটি ১৩ লাখ ৪৬ হাজার টাকা। এরমধ্যে পুকুরে প্রত্যাশিত  লক্ষ্যমাত্রা ৭৮ হাজার ৬৩৮ মেট্রিক টন। যার সম্ভাব্য মূল্য প্রায় ৩ হাজার ৯৩৪ কোটি ৯০ লাখ টাকা।
খাল-বিলে প্রত্যাশিত লক্ষ্যমাত্রা তিন হাজার ৬৩১ দশমিক ২ মেট্রিক টন। যার সম্ভাব্য মূল্য প্রায় ১০৮ কোটি ৯৩ লাখ ছয় হাজার টাকা এবং নদ নদীতে প্রত্যাশিত লক্ষ্যমাত্রা ৯৩২ দশমিক ছয় মেট্রিক টন, যার সম্ভাব্য মূল্য প্রায় ৩৭ কোটি ৩০ লাখ ৪০ হাজার টাকা।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, প্রতিদিন গড়ে বিভিন্ন মাছের আড়ৎসহ পুকুর থেকে প্রায় আড়াই ‘শ ট্রাক রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন জেলায়  যাচ্ছে। এছাড়া উৎপাদিত মাছ জেলার বৃহৎ জনগোষ্ঠীর খাদ্যে আমিষের চাহিদা পূরণ হচ্ছে। পাশাপাশি লাভবান হচ্ছে জেলার সাতটি উপজেলার অন্তত ৪৩ হাজার ৯২৯ জন মাছ উৎপাদনকারী ও মৎসজীবিসহ সংশ্লিষ্টরা।
অপর দিকে এ জেলায় মোট উদ্বৃত্ত মাছ উৎপাদন হয় ৩৪ হাজার ১৭৩ মেট্রিক টন। যার বাজার মূল্য প্রায় ৩৪১ কোটি ৭৩ লাখ টাকা। ফলে রাজশাহী বিভাগের মধ্যে সবচেয়ে বেশি উদ্বৃত্ত মাছ উৎপাদনকারী জেলার তালিকায় রয়েছে নাটোর জেলা।
নাটোর জেলা মৎস অফিস সূত্রে জানা যায়, জেলায় মোট পুকুরের সংখা ৩১ হাজার ৩২০টি, মৎস চাষীর সংখা ২৫ হাজার ৮৫০ জন ুবং মৎসজীবির সংখ্যা ১৮ হাজার ৭৯ জন। প্রতিজনের বা মাথাপিছু প্রতিদিন গড়ে প্রায় ৬০ গ্রাম হিসাবে জেলার ১৮ লাখ ৫৯ হাজার ৯২১ জন মানুষের মাছের খাদ্য চাহিদা ৪০ হাজার ৭৩২ মেট্রিক টন। বছরে মোট চাহিদা মিটিয়ে উদ্বৃত্ত থাকে ৩৪ হাজার ১৭৩ মেট্রিক টন মাছ। যার আর্থিক মূল্য ৩৪১ কোটি ৭৩ লাখ টাকা।
চলতি মৌসুমে জেলায় মাছ উৎপাদনের প্রত্যাশিত লক্ষ্যমাত্রা পুকুরে ৭৮ হাজার ৬৩৮ মেট্রিক টন। এরমধ্যে নাটোর সদর উপজেলায় ১২ হাজার ৪৯৬ মেট্রিক টন, নলডাঙ্গায় ৯ হাজার ৪৮১ মেট্রিক টন, সিংড়ায় ২৩ হাজার ৮৬২ মেট্রিক টন, গুরুদাসপুরে ১৬ হাজার ১৯০ মেট্রিক টন, বড়াইগ্রামে ৮ হাজার চার’শ ৬৮ মেট্রিক টন, লালপুরে পাঁচ হাজার ৪৩৫ মেট্রিক টন ও বাগাতিপাড়ায় ২ হাজার ৬৫৫ মেট্রিক টন।
গত বছর নাটোরের ৭ উপজেলায় মাছ উৎপাদন হয়েছিল ৭৮ হাজার ১৮২ মেট্রিক টন। এর মধ্যে সদর উপজেলায় ১২ হাজার ৪৫২ মেট্রিক টন, নলডাঙ্গায় আট হাজার ৯৮৮ মেট্রিক টন, সিংড়ায় ২৩ হাজার ৭৬৫ মেট্রিক টন, বড়াইগ্রামে আট হাজার ৪১৪ মেট্রিক টন, গুরুদাসপুরে ১৬ হাজার ৬০ মেট্রিক টন, লালপুরে পাঁচ হাজার ৪১৮ মেট্রিক টন ও বাগাতিপাড়ায় ২ হাজার পাঁচ’শ ৭১ মেট্রিক টন।
অপরদিকে নদ-নদী থেকে মাছ উৎপাদনের প্রত্যাশিত লক্ষ্যমাত্রা ৯৩২ দশমিক ০৬ মেট্রিক টন। এরমধ্যে সদর উপজেলায় ৪৭ দশমিক দুই মেট্রিক টন, নলডাঙ্গায় ৯১ দশমিক পাঁচ, সিংড়ায় ১২১ দশমিক পাঁচ, গুরুদাসপুরে ৪১ দশমিক আট, বড়াইগ্রামে ১৪১ দশমিক ৩ মেট্রিক টন ও লালপুর উপজেলায় ৩৮৪ দশমিক সাত মেট্রিক টন। এ উৎস থেকে প্রাপ্ত মাছের মূল্য প্রায় ১০৮ কোটি ৯৩ লাখ ছয় হাজার টাকা।
নাটোর জেলা মৎস কর্মকর্তা ডা.মোঃ আবুল কালাম আজাদ জানান – রাজশাহী বিভাগের মধ্যে সবচেয়ে বেশি উদ্বৃত্ত মাছ উৎপাদনকারী জেলা হচ্ছে নাটোর। এ জেলায় প্রতিবছর ৩৪ হাজার ১৭৩ মেট্রিক টন বেশি উদ্বৃত্ত মাছ উৎপাদন হয়। এছাড়া প্রাকৃতিক উৎস খাল-বিল নদ-নদী থেকে বছরে প্রায় ২০ হাজার মেট্রিক টন দেশীয় প্রজাতির মাছ উৎপাদন হয়। যা স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় বিক্রির জন্য পাঠানো হয়। শুধু তাই নয়, এ জেলার উৎপাদিত মাছ পাশবর্তী দেশ ভারতেও রপ্তানি হয়। ফলে বছরজুড়ে আর্থিকভাবে লাভবান হচ্ছেন অন্তত ২৫ হাজার ৮৫০ জন মৎসচাষীসহ সংশ্লিষ্টরা।
তিনি আরও বলেন, মাছ উৎপাদনে উদ্বুদ্ধ জেলার প্রতিটি উপজেলায় মৎস্যচাষীদের নিয়মিতভাবে মাছ চাষের উপর বিভিন্ন কলাকৌশল ও উন্নত প্রযুক্তি সম্পর্কে পরামর্শ ও ধারনা দেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি চাষিদের মাছের ন্যায্য মূল্য প্রাপ্তির জন্য মৎস্য বিভাগ থেকে বাজার তদারকিসহ সার্বিকভাবে সহযোগিতা করা হয়।
এছাড়া প্রাকৃতিক উৎস খাল, বিল, নদ-নদীতে মাছ উৎপাদনে বাধাগ্রস্ত যাতে না হয়, সেজন্য অবৈধ কারেন্ট জাল, সব বাধা অপসারণে নিয়মিতভাবে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হয়। এজন্য জেলায় মাছ চাষের পরিধি বৃদ্ধি পাচ্ছে।
জেলায় উৎপাদিত মাছ জাতীয় অর্থনীতিতেও বিশেষ ভূমিকা রাখছে। এই ধারা অব্যাহত থাকলে বাংলাদেশ অর্থনৈতিকভাবে আরও সমৃদ্ধি লাভ করবে বলে এই কর্মকর্তা জানান।

সারাদেশ

‘দুই মাসের মধ্যে ঢাকা ছাড়তে হতে পারে বিপুলসংখ্যক মানুষকে’

বর্তমান বৈশ্বিক যুদ্ধ পরিস্থিতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন সংসদের হুইপ এবিএম আশরাফ উদ্দিন নিজান (এমপি)। তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেছেন, চলমান বৈশ্বিক সংঘাত যদি দ্রুত বন্ধ না হয়, তবে আগামী দুই মাসের মধ্যে ঢাকা শহরের বিপুলসংখ্যক মানুষ নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে স্থানান্তরে বাধ্য হতে পারে। শুক্রবার (৩ এপ্রিল) ঢাকা থেকে লক্ষ্মীপুরের কমলনগর উপজেলায় একটি প্রোগ্রামে […]

‘দুই মাসের মধ্যে ঢাকা ছাড়তে হতে পারে বিপুলসংখ্যক মানুষকে’

ছবি সংগৃহীত

নিউজ ডেস্ক

০৩ এপ্রিল ২০২৬, ২২:০৪

বর্তমান বৈশ্বিক যুদ্ধ পরিস্থিতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন সংসদের হুইপ এবিএম আশরাফ উদ্দিন নিজান (এমপি)। তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেছেন, চলমান বৈশ্বিক সংঘাত যদি দ্রুত বন্ধ না হয়, তবে আগামী দুই মাসের মধ্যে ঢাকা শহরের বিপুলসংখ্যক মানুষ নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে স্থানান্তরে বাধ্য হতে পারে।

শুক্রবার (৩ এপ্রিল) ঢাকা থেকে লক্ষ্মীপুরের কমলনগর উপজেলায় একটি প্রোগ্রামে যাওয়ার পথে কুমিল্লার লাকসাম দক্ষিণ বাইপাস এলাকায় অবস্থিত ধামৈচা জামে মসজিদে জুমার নামাজের পূর্বে সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

হুইপ আশরাফ উদ্দিন নিজান বলেন, বিশ্বজুড়ে চলমান এ অস্থিরতা ও যুদ্ধ পরিস্থিতি কেবল আন্তর্জাতিক নয়, বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ স্থিতিশীলতার ওপরও চরম প্রভাব ফেলতে পারে।

তিনি সতর্ক করে দিয়ে বলেন, বিশ্বব্যাপী এই সংঘাত অব্যাহত থাকলে বাংলাদেশের পরিস্থিতি ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের সময়ের চেয়েও ভয়াবহ আকার ধারণ করতে পারে। আমাদের এখনই সচেতন হতে হবে।

বক্তব্যে তিনি দেশের জনগণকে উদ্ভূত পরিস্থিতি মোকাবিলায় মানসিকভাবে প্রস্তুত এবং আগাম সতর্ক থাকার আহ্বান জানান। একই সঙ্গে সবাইকে ধৈর্য ও সচেতনতার সঙ্গে বর্তমান পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করার পরামর্শ দেন হুইপ।

সারাদেশ

শাহজাদপুরে ২ সন্তানসহ গৃহবধূর বিষপানে আত্মহত্যার চেষ্টা

মাসুম হোসেন অন্তু, শাহজাদপুর প্রতিনিধিঃ স্বামীর উপরে অভিমান করে নিজে কীটনাশক পান করার পর ২ শিশু সন্তানকেও সেই কীটনাশক পান করিয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করেছে পাখি খাতুন (১৮) নামের এক গৃহবধূ। ঘটনাটি ঘটেছে সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর পৌর শহরের পারকোলা উত্তরপাড়া গ্রামে। পাখি খাতুন ওই গ্রামের আলম প্রামাণিকের মেয়ে, শিশু সন্তানরা হলো মুস্তাকিম (৮) ও মাহিম (৪)। ঘটনার […]

শাহজাদপুরে ২ সন্তানসহ গৃহবধূর বিষপানে আত্মহত্যার চেষ্টা

ছবি সংগৃহীত

প্রতিনিধি ডেস্ক

০৮ এপ্রিল ২০২৬, ২৩:৪৫

মাসুম হোসেন অন্তু, শাহজাদপুর প্রতিনিধিঃ

স্বামীর উপরে অভিমান করে নিজে কীটনাশক পান করার পর ২ শিশু সন্তানকেও সেই কীটনাশক পান করিয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করেছে পাখি খাতুন (১৮) নামের এক গৃহবধূ।

ঘটনাটি ঘটেছে সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর পৌর শহরের পারকোলা উত্তরপাড়া গ্রামে। পাখি খাতুন ওই গ্রামের আলম প্রামাণিকের মেয়ে, শিশু সন্তানরা হলো মুস্তাকিম (৮) ও মাহিম (৪)। ঘটনার পরপর স্বজনেরা আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাদের উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়।

সেখানে তাদের অবস্থার অবনতি হলে দ্রুত সিরাজগঞ্জ সদর হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়, বর্তমানে ২টি শিশু ও তাদের মা সেখানেই চিকিৎসাধীন রয়েছে।

পরিবার সূত্রে জানা যায়, প্রায় ১০ বছর পূর্বে উল্লাপাড়া উপজেলার বালসাবাড়ি ইউনিয়নের মধুপুর গ্রামের বাসিন্দা মানিক চাঁদের সাথে তার বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকেই স্বামী তাকে নির্যাতন করতো। এই বিষয়ে একাধিকবার শালিস বৈঠকের মাধ্যমে বিষয়টি সমাধান করা হয়। এর মধ্যেই তাদের ঘর আলো করে মুস্তাকিম ও মাহিম নামের দুই ছেলে সন্তান। পারিবারিক কলহের জের ধরেই স্বামীর সাথে ঝগড়ার পর আজ সকালে বাবার বাড়িতে অবস্থানকালে পাখি খাতুন প্রথমে নিজে কীটনাশক পান করে এবং পরে ২ ছেলেকে কীটনাশক পান করায়। পরে তারা যন্ত্রাণায় চিৎকার করলে স্বজনেরা দ্রুত তাদের উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়।

এই বিষয়ে শাহজাদপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিকেল অফিসার জানান, দুপুর আনুমানিক ১২টার দিকে ৪ বছর ও ৮ বছর বয়সী ২টি শিশু ও তাদের মা’কে আশঙ্কাজনক অবস্থায় জরুরি বিভাগে নিয়ে আসে। পরে ৮ বছর বয়সী মুস্তাকিমকে ওয়াশ করা হয়, কীটনাশক পানের সময় বেশি হ‌ওয়ায় দ্রুত সিরাজগঞ্জ সদর হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।

এই বিষয়ে শাহজাদপুর থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ সাইফুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, কীটনাশক পান করা ২টি শিশু ও তাদের মা’কে উন্নত চিকিৎসার জন্য সিরাজগঞ্জ সদর হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে।

সারাদেশ

শিশু রামিসাকে ধর্ষণ-হত্যার আগে যা সেবন করেন ঘাতক সোহেল, চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ

রাজধানীর মিরপুরের পল্লবীতে আট বছরের শিশু রামিসা ধর্ষণের পর গলা কেটে হত্যার ঘটনায় করা মামলায় ঘাতক সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দিচ্ছে পুলিশ। একইসঙ্গে রামিসাকে ধর্ষণ-হত্যার আগে ইয়াবা সেবন করেছিলেন বলে জবানবন্দিতে জানিয়েছেন আসামি। রোববার (২৪ মে) সকালে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পল্লবী থানার উপ-পরিদর্শক অহিদুজ্জামান এ তথ্য নিছিত করেন। তিনি বলেন, […]

শিশু রামিসাকে ধর্ষণ-হত্যার আগে যা সেবন করেন ঘাতক সোহেল, চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ

শিশু রামিসাকে ধর্ষণ-হত্যার আগে যা সেবন করেন ঘাতক সোহেল, চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ

নিউজ ডেস্ক

২৪ মে ২০২৬, ১১:২১

রাজধানীর মিরপুরের পল্লবীতে আট বছরের শিশু রামিসা ধর্ষণের পর গলা কেটে হত্যার ঘটনায় করা মামলায় ঘাতক সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দিচ্ছে পুলিশ। একইসঙ্গে রামিসাকে ধর্ষণ-হত্যার আগে ইয়াবা সেবন করেছিলেন বলে জবানবন্দিতে জানিয়েছেন আসামি।

রোববার (২৪ মে) সকালে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পল্লবী থানার উপ-পরিদর্শক অহিদুজ্জামান এ তথ্য নিছিত করেন। তিনি বলেন, শনিবার ডিএনএ টেস্ট রিপোর্ট পেয়েছি। কিছু কাজ বাকি আছে, কাজ চলছে। আজই আদালতে দুজনের বিরুদ্ধে চার্জশিট জমা দেব।

পুলিশ জানায়, অভিযুক্তকে ২০ মে গ্রেপ্তার করা হয়। তিনি আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আমিনুল ইসলাম জুনায়েদ জবানবন্দি রেকর্ড করেন এবং পরে অভিযুক্তকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

তদন্ত কর্মকর্তারা জানান, অভিযুক্ত ব্যক্তি শিশু রামিসাকে কৌশলে একটি কক্ষে নিয়ে গিয়ে অপরাধ সংঘটিত করেন। ঘটনার পর তিনি প্রমাণ নষ্ট করার চেষ্টা করেন এবং পরে পালিয়ে যান।

মামলার এজাহারে বলা হয়, পপুলার মডেল হাই স্কুলের দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী রামিসাকে ঘরে নিয়ে ধর্ষণ করে সোহেল। পরে তিনি শিশুটির গলা কেটে মরদেহ কয়েক টুকরো করেন। শিশুটির চিৎকার শুনে পরিবারের সদস্য ও প্রতিবেশীরা যখন দ্রুত সেখানে যায়।

কিন্তু এর আগেই, সোহেল রামিসার মরদেহ বিছানার নিচে লুকিয়ে রাখে। পরে টয়লেটের ভেতরে একটি বালতি থেকে মাথা উদ্ধার করা হয়।

এ ঘটনায় বুধবার ভুক্তভোগীর বাবা আব্দুল হান্নান মোল্লা বাদী হয়ে পল্লবী থানায় মামলা দায়ের করেন।

পরে এ মামলায় গত বুধবার ২০ মে গ্রেপ্তার আসামি সোহেল রানা আদালতে দোষ স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছেন। ঘটনার আগে ইয়াবা সেবন করেছিলেন বলে জবানবন্দিতে উল্লেখ করেন এই ঘাতক।

জবানবন্দিতে সোহেল জানায়, ১৯ মে সকাল সাড়ে ৯ টার দিকে রামিসা ঘর থেকে বের হলে তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তার তাকে রুমের ভেতরে নিয়ে যায়। এরপর বাথরুমে নিয়ে ছোট্ট রামিসাকে ধর্ষণ করে সোহেল। এতে জ্ঞান হারায় শিশুটি। এর মধ্যে তার মা দরজায় কড়া নাড়তে থাকেন। এসময় সোহেল তাকে গলা কেটে হত্যা করে। মরদেহ গুম করার জন্য তার মাথা ধারালো ছুরি দিয়ে কেটে গলা থেকে আলাদা করে। দুই হাত কাঁধ থেকে আংশিক বিচ্ছিন্ন করে মরদেহ বাথরুম থেকে শয়নকক্ষে এনে খাটের নিচে রাখে। এছাড়া ছুরি দিয়ে যৌনাঙ্গ ক্ষতবিক্ষত করে। ঘটনার সময় তার স্ত্রী একই রুমে ছিলেন। পরে জানালার গ্রিল কেটে পালিয়ে যায় সে। মাদক সেবন করে বিকৃত যৌনকর্মে লিপ্ত হওয়া এই আসামি আদালতকে জানান, ভুক্তভোগীর পরিবারের সঙ্গে পূর্ব কোন শত্রুতা ছিল না।