সাব্বির হোসেন, লালমনিরহাট প্রতিনিধি
বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট নিম্নচাপের প্রভাবে টানা চার দিনের প্রবল বৃষ্টিতে লালমনিরহাট জেলার পাঁচটি উপজেলার বিস্তীর্ণ রোপা আমন ধানের খেত মাটিতে নুয়ে পড়েছে। ফলন ঘরে তোলার ঠিক আগমুহূর্তে আধাপাকা ধান নষ্ট হয়ে যাওয়ার আশঙ্কায় বর্তমানে জেলার আমনচাষিরা চরম দুশ্চিন্তাগ্রস্ত হয়ে পড়েছেন।
জেলার বিভিন্ন উপজেলায় হলুদাভ হয়ে আসা ধানের শীষ বৃষ্টির কারণে মাটিতে লেপ্টে গেছে। বিঘার পর বিঘা জমির ধান শুয়ে পড়ায় ফলন ও গুণগত মান মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা করছেন কৃষকেরা।
হাতীবান্ধা উপজেলার টংভাঙ্গা ইউনিয়নের কৃষক তপু সিংহ জানান, তিনি এক একর জমিতে আমনের আবাদ করেছিলেন। আগামী ১৫ দিনের মধ্যে ফসল কাটার কথা ছিল। তিনি উদ্বেগের সঙ্গে বলেন, “অনেক কষ্ট করে আবাদ করেছি। এখন কাটার সময় এলো, তখনই টানা বৃষ্টিতে ধান মাটিতে পড়ে গেছে। জমিতে পানি জমে শীষ ভিজে নষ্ট হচ্ছে, ফলন অর্ধেকে নেমে আসতে পারে।”
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর (ডিএই) সূত্রে জানা যায়, মোট আবাদ চলতি মৌসুমে জেলায় ৮৬ হাজার ৬৪৫ হেক্টর জমিতে আমনের আবাদ হয়েছে। বৃষ্টিতে সব উপজেলার কিছু এলাকায় আমন ধান নুয়ে পড়েছে। তবে ক্ষয়ক্ষতির সঠিক পরিমাণ নিরূপণের কাজ চলছে।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক ড. সাইখুল আরেফিন কৃষকদের পাশে থাকার আশ্বাস দিয়েছেন। তিনি বলেন, “ক্ষতির সঠিক পরিমাণ নিরূপণের কাজ চলছে এবং কৃষকদের পাশে থেকে প্রয়োজনীয় পরামর্শ ও সহায়তা দেওয়া হচ্ছে।”
তিনি ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শও দিয়েছেন, “যেসব ধান নুয়ে পড়েছে, সেগুলো গোছা করে বেঁধে দিলে কিছুটা হলেও ক্ষতি কমানো সম্ভব।”
এই প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের ফলে ফলন ঘরে তোলার শেষ মুহূর্তে কৃষকদের স্বপ্ন ভঙ্গ হওয়ার উপক্রম হয়েছে। কৃষি বিভাগ দ্রুত ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণ ও কার্যকর সহায়তা নিয়ে কৃষকদের পাশে দাঁড়াবে—এমনটাই প্রত্যাশা করছেন লালমনিরহাটের আমনচাষিরা।