ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) ও হল সংসদ নির্বাচন ঘিরে অনিয়ম ও অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনাগুলোর দায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন এবং নির্বাচন কমিশনের ব্যর্থতার ওপর চাপিয়েছেন ছাত্রদল প্যানেলের সহ-সভাপতি (ভিপি) পদপ্রার্থী আবিদুল ইসলাম খান। তিনি অভিযোগ করেন, এসব ঘটনায় এখনো কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।
মঙ্গলবার (৯ সেপ্টেম্বর) দুপুরে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে আবিদুল বলেন, “আমরা দেখেছি অমর একুশে হলে যে ঘটনা ঘটেছে, তার জন্য দায়িত্বপ্রাপ্ত নির্বাচনী কর্মকর্তাকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। কিন্তু সামগ্রিকভাবে অনিয়ম ঠেকাতে কমিশন এবং প্রশাসন ব্যর্থতার পরিচয় দিয়েছে।”
তিনি আরও জানান, রোকেয়া হলসহ বিভিন্ন হলে তার কাছে কারচুপির অভিযোগ এসেছে। তিনি সাংবাদিকদের সেসব অভিযোগ যাচাই করার আহ্বান জানান। তার ভাষায়, “শিক্ষার্থীরা যদি ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত হন, তবে এই নির্বাচন গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে প্রশ্নবিদ্ধ করবে।”
প্রসঙ্গত, দীর্ঘ ছয় বছর পর অনুষ্ঠিত হচ্ছে ডাকসু ও হল সংসদ নির্বাচন। সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের আটটি কেন্দ্রে ৮১০টি বুথে ভোটগ্রহণ চলছে। এবারের নির্বাচনে মোট ৩৯ হাজার ৮৭৪ জন শিক্ষার্থী ভোটার— এর মধ্যে ছাত্র ২০ হাজার ৯১৫ জন এবং ছাত্রী ১৮ হাজার ৯৫৯ জন।
ডাকসুর ২৮টি পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন ৪৭১ জন প্রার্থী। এর মধ্যে সহ-সভাপতি (ভিপি) পদে আছেন ৪৫ জন, সাধারণ সম্পাদক (জিএস) পদে ১৯ জন এবং সহ-সাধারণ সম্পাদক (এজিএস) পদে ২৫ জন প্রার্থী। নারী প্রার্থী রয়েছেন ৬২ জন। পাশাপাশি ১৮টি হলে মোট ২৩৪ পদে লড়ছেন আরও ১,০৩৫ জন প্রার্থী।
বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন দাবি করছে, নির্বাচন শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন করতে সব ধরনের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। তবে বিরোধী প্রার্থীরা বলছেন, প্রশাসনের ব্যর্থতা ও অনিয়মের কারণে শিক্ষার্থীদের আস্থা ক্ষুণ্ন হচ্ছে।