বৃহস্পতিবার, ২৭ আগস্ট ২০২৬

পরীক্ষামূলক সংস্করণ

রাজনীতি

‘তারেক রহমানের নাম উচ্চারণ করতে অজু করবেন’ এমন মন্তব্যে বুলুর দুঃখ প্রকাশ

বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান বরকত উল্লাহ বুলুর সাম্প্রতিক মন্তব্য ঘিরে শুরু হওয়া বিতর্কের ঝড় কিছুতেই থামছে না। তারেক রহমানের নাম উচ্চারণের আগে ওজু করা উচিত— এমন মন্তব্যের জন্য তীব্র সমালোচনার মুখে পড়ে শেষমেশ দুঃখ প্রকাশ করতে বাধ্য হয়েছেন তিনি। বুধবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে দুঃখ প্রকাশ করেন এবং স্বীকার করেন যে, তার বক্তব্য […]

‘তারেক রহমানের নাম উচ্চারণ করতে অজু করবেন’ এমন মন্তব্যে বুলুর দুঃখ প্রকাশ

ছবি : সংগৃহীত

নিউজ ডেস্ক

২৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৫, ১১:৩৫

বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান বরকত উল্লাহ বুলুর সাম্প্রতিক মন্তব্য ঘিরে শুরু হওয়া বিতর্কের ঝড় কিছুতেই থামছে না। তারেক রহমানের নাম উচ্চারণের আগে ওজু করা উচিত— এমন মন্তব্যের জন্য তীব্র সমালোচনার মুখে পড়ে শেষমেশ দুঃখ প্রকাশ করতে বাধ্য হয়েছেন তিনি। বুধবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে দুঃখ প্রকাশ করেন এবং স্বীকার করেন যে, তার বক্তব্য অযৌক্তিক ও অনভিপ্রেত ছিল।

বরকত উল্লাহ বুলু তার বিবৃতিতে বলেন, কুমিল্লা মহানগর বিএনপির সম্মেলন ও কাউন্সিলে উদ্বোধনী বক্তব্য দেওয়ার সময় ‘তারেক রহমানের নাম উচ্চারণ করতে হলে ওজু করবেন’— এই মন্তব্যটি অজান্তে বলে ফেলেছি। এটি মোটেও শোভনীয় হয়নি এবং আমার এই বক্তব্যের কারণে যদি কেউ কষ্ট পেয়ে থাকেন, আমি আন্তরিকভাবে দুঃখিত।

কিন্তু বিশ্লেষকরা বলছেন, বুলুর এ বক্তব্য কোনো হঠাৎ করে বলা কথা ছিল না, বরং বিএনপির অভ্যন্তরীণ চাটুকারিতার চরম বহিঃপ্রকাশ। দলের নেতৃত্বের প্রতি অন্ধ আনুগত্য ও উপাসনার মতো ভাবধারা তৈরির কৌশল হিসেবেই তিনি এমন মন্তব্য করেছেন, যা রাজনীতির স্বাভাবিক প্রক্রিয়ার জন্য একেবারেই অগ্রহণযোগ্য।

গত মঙ্গলবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে কুমিল্লা টাউন হল মাঠে বিএনপির দ্বিবার্ষিক সম্মেলনে বরকত উল্লাহ বুলু বলেছিলেন, কিছু ‘অর্বাচীন নাবালক উপদেষ্টারা’ বলে থাকে— জিয়াউর রহমান নেতা হলে তারেক রহমান কেন নেতা হবেন? আমি তাদের বলতে চাই— তারেক রহমান শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের উত্তরসূরি, দেশের বৃহত্তম রাজনৈতিক দলের চেয়ারপারসনের ছেলে এবং অবিসংবাদিত নেতা। তার নাম উচ্চারণ করতে হলে ওজু করে আসুন।

এমন মন্তব্যের পরপরই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, এটা ছিল নিছক তোষামোদির এক জঘন্য উদাহরণ, যা একজন দায়িত্বশীল নেতার কাছ থেকে আশা করা যায় না। বিএনপির অনেক নেতাও এর সঙ্গে একমত নন।

দলের ভেতর থেকেই প্রশ্ন উঠেছে— একজন রাজনৈতিক নেতা কি কোনো ধর্মীয় অবতার যে তার নাম উচ্চারণের আগে পবিত্রতা অর্জন করতে হবে? বরকত উল্লাহ বুলুর বক্তব্য দলের সংস্কারপন্থী ও বাস্তববাদী নেতাদের মধ্যে ব্যাপক অস্বস্তির সৃষ্টি করেছে।

এই বিতর্কের কারণে বিএনপির অভ্যন্তরীণ সংকট আরও প্রকট হয়েছে। একদিকে দলটিকে আধুনিক, গণতান্ত্রিক ও সংস্কারপন্থী ধারা বজায় রাখতে হচ্ছে, অন্যদিকে এ ধরনের চরম আনুগত্যমূলক বক্তব্য দলের ভাবমূর্তিতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।

অনেকেই মনে করছেন, তারেক রহমানকে রাজনীতির বাস্তবমুখী কৌশল থেকে সরিয়ে ‘দেবত্ব’ আরোপ করার এই প্রচেষ্টা বিএনপির দীর্ঘমেয়াদী স্বার্থের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর হতে পারে। এমনকি দলের ভেতর থেকেই প্রশ্ন উঠতে পারে— একজন রাজনৈতিক নেতার জন্য এমন অন্ধ আনুগত্য কি গণতন্ত্রের জন্য সহায়ক, নাকি এটি একনায়কতন্ত্রের পূর্বাভাস?

বিশ্লেষকদের মতে, এই বিতর্ক শুধু বিএনপির অভ্যন্তরীণ সংকটকেই উসকে দেবে না, বরং এর রাজনৈতিক অবস্থানকেও দুর্বল করে দেবে। বরকত উল্লাহ বুলুর দুঃখ প্রকাশ হয়তো আপাতত বিতর্ক প্রশমিত করবে, কিন্তু এটি স্পষ্ট যে, বিএনপির ভেতরকার চাটুকারিতার সংস্কৃতি এবং বাস্তববাদী রাজনীতির মধ্যে একটি বড় ফাটল তৈরি হয়েছে।

দলের অভ্যন্তরীণ গণতন্ত্র এবং ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব নিয়ে বিএনপিকে এখনই চিন্তা করা উচিত, নতুবা এই ধরনের চরম তোষণাত্মক মনোভাব দলকে আরও পিছিয়ে দেবে। বরকত উল্লাহ বুলুর এই মন্তব্য তারেক রহমানের জনপ্রিয়তাকে বাড়িয়েছে, নাকি তাকে আরও বিতর্কিত করেছে— সেটাই এখন বড় প্রশ্ন।

৩০ অক্টোবর ২০২৫
poll_title
জাতীয় নির্বাচনের আগে গণভোট প্রশ্নে আপনার মতামত কী?

মোট ভোট: ১৪৫১৫

রাজনীতি

‘আমাকে সংসদে অপমান করা হয়েছে, অপমান হজম না হওয়া পর্যন্ত সংসদে যাচ্ছি না : এমপি মনিরুল হক

সংসদে বক্তব্য দেওয়ার সময় ‘অপমানিত’ হওয়ার অভিযোগে টানা ১১ দিন ধরে সংসদ অধিবেশন বর্জন করছেন কুমিল্লা-৬ আসনের বিএনপির সংসদ সদস্য মো. মনিরুল হক চৌধুরী। গত ১৪ জুন ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামালের এক রুলিং ও সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে ১৫ থেকে ২৫ জুন পর্যন্ত তিনি সংসদে যাননি। মনিরুল হক চৌধুরী বলেন, ‘আমাকে সংসদে অপমান করা হয়েছে। স্পিকার ফোন […]

‘আমাকে সংসদে অপমান করা হয়েছে, অপমান হজম না হওয়া পর্যন্ত সংসদে যাচ্ছি না : এমপি মনিরুল হক

ছবি সংগৃহীত

নিউজ ডেস্ক

২৯ জুন ২০২৬, ১১:০২

সংসদে বক্তব্য দেওয়ার সময় ‘অপমানিত’ হওয়ার অভিযোগে টানা ১১ দিন ধরে সংসদ অধিবেশন বর্জন করছেন কুমিল্লা-৬ আসনের বিএনপির সংসদ সদস্য মো. মনিরুল হক চৌধুরী। গত ১৪ জুন ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামালের এক রুলিং ও সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে ১৫ থেকে ২৫ জুন পর্যন্ত তিনি সংসদে যাননি।

মনিরুল হক চৌধুরী বলেন, ‘আমাকে সংসদে অপমান করা হয়েছে। স্পিকার ফোন করে সংসদে ফিরতে বললেও আমি এই অপমান এখনো হজম করতে পারছি না। যেদিন পারব, সেদিনই সংসদে যাব।’

গত ১৪ জুন, বাজেট আলোচনায় মনিরুল হক চৌধুরী বিরোধীদলীয় উপনেতা সৈয়দ আবদুল্লাহ মো. তাহেরের বোরকা পরিহিত স্ত্রীর অতীতের একটি প্রসঙ্গ টানেন। একই সাথে সংসদে বোরকা পরা জামায়াতের নারী এমপিদের ইঙ্গিত করে কিছু মন্তব্য করেন। এতে সরকারি দলের এমপিরা হাসলেও বিরোধী দলের সদস্যরা তীব্র প্রতিবাদ জানান।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামাল ব্যক্তিগত স্বাধীনতা ও পোশাক নিয়ে কথা বলতে নিষেধ করেন এবং মনিরুল হক চৌধুরীর বক্তব্যের বিতর্কিত অংশটুকু সংসদের কার্যবিবরণী থেকে বাদ (এক্সপাঞ্জ) করার ঘোষণা দেন।

এরপর মনিরুল হক চৌধুরী দুঃখপ্রকাশ করে আত্মপক্ষ সমর্থনে পুনরায় কথা বলার জন্য ফ্লোর চাইলে ডেপুটি স্পিকার তা নাকচ করে দেন। পরবর্তীতে পানিসম্পদমন্ত্রী মো. শহীদউদ্দিন চৌধুরী এ্যানি এবং সরকারি দলের চিফ হুইপ মো. নূরুল ইসলাম বিষয়টি হালকা করার চেষ্টা করে মনিরুল হক চৌধুরীকে কথা বলার সুযোগ দেওয়ার অনুরোধ করলেও ডেপুটি স্পিকার তার সিদ্ধান্তে অনড় থাকেন।

এই ঘটনার পর থেকেই ক্ষোভে সংসদ বয়কট করে চলেছেন এই সংসদ সদস্য।

১৩ নভেম্বর ২০২৫
poll_title
আপনি কি জাতীয় নির্বাচনের দিনেই গণভোট আয়োজনের সিদ্ধান্তকে সমর্থন করেন?

মোট ভোট: ৭৩৮৯

রাজনীতি

ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক হতে হবে মর্যাদা ও ন্যায়ের ভিত্তিতে,কোনো ব্যক্তি বা দলের স্বার্থে নয়: সারজিস আলম

ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের স্বাভাবিক ও পারস্পরিক সম্পর্ক থাকা দরকার। তবে সেই সম্পর্ক হতে হবে মর্যাদা, ন্যায়, সমতা ও পারস্পরিক সার্বভৌমত্বের প্রতি শ্রদ্ধার ভিত্তিতে বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সংগঠক (উত্তরাঞ্চল) সারজিস আলম। শনিবার (২২ আগস্ট) বিকেলে কক্সবাজার সাংস্কৃতিক কেন্দ্রের হলরুমে এনসিপির কক্সবাজার জেলা সাংগঠনিক সমন্বয় সভা ও রাজনৈতিক কর্মশালায় তিনি এ মন্তব্য […]

ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক হতে হবে মর্যাদা ও ন্যায়ের ভিত্তিতে,কোনো ব্যক্তি বা দলের স্বার্থে নয়: সারজিস আলম

ছবি সংগৃহীত

নিউজ ডেস্ক

২৩ আগস্ট ২০২৬, ১৭:০৮

ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের স্বাভাবিক ও পারস্পরিক সম্পর্ক থাকা দরকার। তবে সেই সম্পর্ক হতে হবে মর্যাদা, ন্যায়, সমতা ও পারস্পরিক সার্বভৌমত্বের প্রতি শ্রদ্ধার ভিত্তিতে বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সংগঠক (উত্তরাঞ্চল) সারজিস আলম।

শনিবার (২২ আগস্ট) বিকেলে কক্সবাজার সাংস্কৃতিক কেন্দ্রের হলরুমে এনসিপির কক্সবাজার জেলা সাংগঠনিক সমন্বয় সভা ও রাজনৈতিক কর্মশালায় তিনি এ মন্তব্য করেন।

বাংলাদেশের গণহত্যার ঘটনায় অভিযুক্ত ও মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত শেখ হাসিনাকে ভারত আশ্রয় দিয়ে রেখেছে জানিয়ে সারজিস বলেন, বাংলাদেশের পক্ষ থেকে তাকে ফিরিয়ে দিয়ে বিচারিক প্রক্রিয়ায় সহযোগিতা করার আহ্বান জানানো হয়েছে। একইভাবে হাদি হত্যাকাণ্ডের আসামিদেরও ফিরিয়ে দিতে হবে।

ভারতের গোয়েন্দা সংস্থা রিসার্চ অ্যান্ড অ্যানালাইসিস উইং প্রধানের আকস্মিক সফর এবং বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর চীন সফরের পর ভারতের পক্ষ থেকে দেওয়া বিভিন্ন বক্তব্য নিয়ে প্রশ্ন তুলে এনসিপির এই নেতা বলেন, বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে এখনই ভারতে যেতে হবে পরে গেলে ক্ষতি হবে-এ ধরনের বক্তব্য কোনো স্বাধীন ও সার্বভৌম রাষ্ট্রের প্রতি মর্যাদাপূর্ণ আচরণের প্রকাশ নয়।

এটা ভারতের ‘আধিপত্যবাদের স্টেটমেন্ট’ বলে মনে হয়েছে। বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সম্প্রতি যে দুটি শক্ত অবস্থানসম্পন্ন বিবৃতি দিয়েছে, তা সাধুবাদ জানাই। তবে, এসব অবস্থান শুধু বক্তব্যে সীমাবদ্ধ না রেখে বাস্তব কর্মকাণ্ডেও প্রতিফলিত হওয়া উচিত।

এসময় বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক হতে হবে দুই দেশের জনগণ ও দুই রাষ্ট্রের পারস্পরিক মর্যাদা, সমতা, ন্যায় এবং সার্বভৌমত্বের ভিত্তিতে, কোনো ব্যক্তি বা দলের স্বার্থে নয় বলেও উল্লেখ করেন সারজিস।

অনুষ্ঠানে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) যুগ্ম আহ্বায়ক সারোয়ার তুষার, কেন্দ্রীয় যুগ্ম সদস্য সচিব এসএম সুজা উদ্দিন, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের অন্যতম নেতা রিফাত রশিদ, আবু বাকের মজুমদারসহ এনসিপির কক্সবাজারের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক হতে হবে দুই দেশের জনগণ ও দুই রাষ্ট্রের পারস্পরিক মর্যাদা, সমতা, ন্যায় এবং সার্বভৌমত্বের ভিত্তিতে, কোনো ব্যক্তি বা দলের স্বার্থে নয় বলেও উল্লেখ করেন সারজিস।

১৩ নভেম্বর ২০২৫
poll_title
আপনি কি জাতীয় নির্বাচনের দিনেই গণভোট আয়োজনের সিদ্ধান্তকে সমর্থন করেন?

মোট ভোট: ৭৩৮৯

রাজনীতি

“ওসব কিছুই চাই না, আমি বড় ক্লান্ত, একেবারে অবসর চাই- শুধু ঘুমাবো” : মির্জা ফখরুল

“আমি বড় ক্লান্ত… আমার এখন অবসর দরকার।” চব্বিশের ৫ আগস্ট-পূর্ববর্তী ১৭ বছর অগ্নিগর্ভ বাংলাদেশে সামনে থেকে নেতৃত্ব দেওয়া নেতা মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের মুখে এমন উচ্চারণ শুনে মুহূর্তের জন্য থমকে যেতে হয়। রাজনীতির উত্তাল ময়দানে দীর্ঘদিনের দৃঢ় ও সংযত এই নেতার কণ্ঠে ক্লান্তির এমন স্বীকারোক্তি শুধু ব্যক্তিগত অনুভূতি নয়; বরং রাজনৈতিক মহলেও নতুন প্রশ্নের জন্ম […]

নিউজ ডেস্ক

০১ জুন ২০২৬, ২০:০৬

“আমি বড় ক্লান্ত… আমার এখন অবসর দরকার।”

চব্বিশের ৫ আগস্ট-পূর্ববর্তী ১৭ বছর অগ্নিগর্ভ বাংলাদেশে সামনে থেকে নেতৃত্ব দেওয়া নেতা মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের মুখে এমন উচ্চারণ শুনে মুহূর্তের জন্য থমকে যেতে হয়। রাজনীতির উত্তাল ময়দানে দীর্ঘদিনের দৃঢ় ও সংযত এই নেতার কণ্ঠে ক্লান্তির এমন স্বীকারোক্তি শুধু ব্যক্তিগত অনুভূতি নয়; বরং রাজনৈতিক মহলেও নতুন প্রশ্নের জন্ম দিতে পারে।

গত ২৩ এপ্রিল স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ে গিয়েছিলাম তাঁর সঙ্গে দেখা করতে। বাইরে ছিল মানুষের ভিড়। প্রায় নিশ্চিত হয়েই ফিরে আসছিলাম—আজ আর দেখা হবে না। ঠিক তখনই তাঁর দীর্ঘদিনের সহকারী কৃষিবিদ ইউনুস আলী ডাক দিলেন।

মন্ত্রীর কক্ষে ঢুকেই চোখে পড়ল ভিন্ন এক মির্জা ফখরুলকে। রাজনীতির কঠিন বাস্তবতার সঙ্গে লড়াইয়ে অভ্যস্ত মানুষটিকে সেদিন অস্বাভাবিক ক্লান্ত লাগছিল। চোখে ঘুমঘুম ভাব, মুখে অবসাদের রেখা।

অন্যদের বিদায় দেওয়ার পর বললাম, “আমার কোনো তদবির নেই, অনেক দিন দেখা হয় না—তাই শুধু সাক্ষাৎ করতে এলাম।”

শরীরের খোঁজ নিতেই তিনি ধীরে উত্তর দিলেন—

“আমি বড় ক্লান্ত… আমার এখন অবসর দরকার।”

কথাটি শুনে কিছুটা বিস্মিত হয়েই বললাম, “দেশের মানুষ আপনাকে এই মন্ত্রণালয়ের পর বঙ্গভবনে দেখতে চায়।”

তিনি হালকা হাসলেন। তারপর বললেন—

“ওসব কিছুই চাই না। একেবারে অবসর চাই… শুধু ঘুমাবো।”

এই কয়েকটি বাক্য যেন দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনের এক অনুচ্চারিত ক্লান্তির ভাষা হয়ে উঠেছিল।

এরপর কথোপকথন গড়ায় স্মৃতির ভেতর। ২০০৮ সালে লন্ডন থেকে ফেরার পর প্রথম কোনো সাংবাদিক হিসেবে আমাকে সাক্ষাৎকার দিয়েছিলেন তিনি।

তার কিছুদিন পর কাউন্সিলে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিবের দায়িত্ব পেয়ে জাতীয় রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দুতে তাঁর উত্থান ঘটে। স্মৃতিচারণে উঠে আসে বেগম খালেদা জিয়া, প্রয়াত সাদেক হোসেন খোকা ও ইশরাক হোসেন প্রসঙ্গও।

১৩ নভেম্বর ২০২৫
poll_title
আপনি কি জাতীয় নির্বাচনের দিনেই গণভোট আয়োজনের সিদ্ধান্তকে সমর্থন করেন?

মোট ভোট: ৭৩৮৯