মোঃ সোবেল মিয়া ব্রাহ্মণবাড়িয়া , প্রতিনিধি
ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা বিএনপির পূজামণ্ডপ মনিটরিং কমিটি নিয়ে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। আওয়ামী লীগ বিরোধী আন্দোলন-সংগ্রামে সামনের সারিতে থাকার দাবি করলেও শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে জেলা বিএনপির গঠিত ১০ সদস্যের মনিটরিং কমিটিতে ঠাঁই হয়নি স্বেচ্ছাসেবক দলের কোনো প্রতিনিধির। এ ঘটনায় তৃণমূলকে অবমূল্যায়নের অভিযোগ তুলে দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতারা।
“কেন্দ্রীয় নির্দেশনার পরিপ্রেক্ষিতে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা বিএনপির উদ্যোগে শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে একটি মনিটরিং টিম গঠন করা হয়। বিএনপির কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক (কুমিল্লা বিভাগ) ও শিক্ষা মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি অধ্যক্ষ মোঃ সেলিম ভূঁইয়া এমপি স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে কমিটি অনুমোদন দেওয়া হয়।
অনুমোদিত কমিটিতে আহ্বায়ক হিসেবে জসিম উদ্দিন রিপন এবং সদস্য সচিব হিসেবে আলী আজমকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন – ভিপি লিটন, নিয়ামুল হক, আলমগীর হোসেন, শামীম মোল্লা, ডা. সুপ্রিয় রায়, ইয়াসিন মাহমুদ, সন্তোষ ও সমীর চক্রবর্তী। এই ১০ জনের মধ্যে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী স্বেচ্ছাসেবক দলের কোনো নেতার নাম নেই।
জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতাকর্মীদের অভিযোগ, বিগত ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের আন্দোলন, হরতাল-অবরোধ ও রাজপথের প্রতিটি কর্মসূচিতে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা স্বেচ্ছাসেবক দল সামনের সারিতে থেকে সর্বোচ্চ ত্যাগ স্বীকার করেছে। বহু নেতাকর্মী মামলা-হামলা ও নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। অথচ দুর্গাপূজার মতো একটি গুরুত্বপূর্ণ ও স্পর্শকাতর সময়ে সম্প্রীতি ও নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণের দায়িত্বশীল কমিটিতে তাদেরকে সম্পূর্ণভাবে উপেক্ষা করা হয়েছে।
এ বিষয়ে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক দেলোয়ার হোসেন দিলিপ।
তিনি বলেন, “ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা স্বেচ্ছাসেবক দল বিগত ফ্যাসিস্ট সরকার পতনের আন্দোলনে সামনের সারিতে থেকে সর্বোচ্চ ভূমিকা পালন করেছে। কিন্তু অত্যন্ত দুঃখের বিষয়, দুর্গা উৎসবের এই মনিটরিং কমিটিতে স্বেচ্ছাসেবক দলের কারও নাম রাখা হয়নি। এটা তৃণমূলের জন্য অত্যন্ত অপমানজনক।”
তিনি আরও বলেন, “আমি আমার নেতা, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী স্বেচ্ছাসেবক দলের সাংগঠনিক অভিভাবক তারেক রহমানের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি। কারণ আমরা সর্বদিক থেকে অবহেলিত। তৃণমূলের সঙ্গে অন্যায় করা হচ্ছে। আমরা আমাদের দুঃখ-দুর্দশার কথা সরাসরি আমাদের নেতা তারেক রহমানের কাছে উপস্থাপন করতে চাই।”
জেলা বিএনপির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, “আমাকে যদি আপনাদের পছন্দ নাও হয়, তবে দলের অন্য নেতাকর্মীদের মধ্য থেকে যাকে আপনাদের পছন্দ হয়, তাঁকেই অন্তত দুটি পদে এই কমিটিতে যুক্ত করার জন্য জোর আবেদন জানাচ্ছি। মনে রাখতে হবে, সময়ের কাছে কিন্তু মানুষ বড় অসহায়, বিশেষ করে রাজনীতিবিদরা।”
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, দুর্গাপূজা উপলক্ষে হিন্দু সম্প্রদায়ের নিরাপত্তা ও সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি রক্ষায় দলীয় মনিটরিং টিম অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সেখানে দলের সকল অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের প্রতিনিধিত্ব থাকা সাংগঠনিক ভারসাম্যের জন্য জরুরি।
এখন প্রশ্ন উঠেছে, আন্দোলন-সংগ্রামের সময় প্রয়োজন হলেও গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব বণ্টনের সময় কেন স্বেচ্ছাসেবক দল উপেক্ষিত থাকবে? এই ক্ষোভ নিরসনে জেলা বিএনপি কোনো উদ্যোগ নেবে কিনা, সেদিকেই তাকিয়ে আছেন তৃণমূলের হাজারো নেতাকর্মী।