শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর ২০২৬

পরীক্ষামূলক সংস্করণ

জাতীয়

ক্ষমতার রাজনীতি ও আমলাতান্ত্রিক দুষ্টচক্রে জিম্মি হয়ে পড়েছে রাষ্ট্রসংস্কারের সম্ভাবনা: টিআইবি

জুলাই জাতীয় সনদ স্বাক্ষরের এক বছর পেরিয়ে গেলেও রাষ্ট্রসংস্কারের প্রত্যাশিত ভিত্তি গড়ে ওঠেনি বলে মন্তব্য করেছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)। সংস্থাটির অভিযোগ, ক্ষমতাকেন্দ্রিক রাজনীতি, আমলাতান্ত্রিক বাধা এবং রাজনৈতিক সদিচ্ছার অভাবে রাষ্ট্রসংস্কারের সম্ভাবনা ক্রমেই অনিশ্চিত হয়ে পড়ছে। এতে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের অন্যতম লক্ষ্য জবাবদিহিমূলক সরকারব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার পথ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে এসব […]

ক্ষমতার রাজনীতি ও আমলাতান্ত্রিক দুষ্টচক্রে জিম্মি হয়ে পড়েছে রাষ্ট্রসংস্কারের সম্ভাবনা: টিআইবি

ছবি সংগৃহীত

নিউজ ডেস্ক

১৬ অক্টোবর ২০২৬, ২১:৩৩

জুলাই জাতীয় সনদ স্বাক্ষরের এক বছর পেরিয়ে গেলেও রাষ্ট্রসংস্কারের প্রত্যাশিত ভিত্তি গড়ে ওঠেনি বলে মন্তব্য করেছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)। সংস্থাটির অভিযোগ, ক্ষমতাকেন্দ্রিক রাজনীতি, আমলাতান্ত্রিক বাধা এবং রাজনৈতিক সদিচ্ছার অভাবে রাষ্ট্রসংস্কারের সম্ভাবনা ক্রমেই অনিশ্চিত হয়ে পড়ছে। এতে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের অন্যতম লক্ষ্য জবাবদিহিমূলক সরকারব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার পথ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।

শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে এসব উদ্বেগ তুলে ধরেন টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান।

তিনি বলেন, অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে কৌশলগত পরিকল্পনা ও সাহসী পদক্ষেপের ঘাটতি ছিল। পাশাপাশি আমলাতান্ত্রিক প্রতিরোধের সঙ্গে আপস করার ফলে রাষ্ট্রসংস্কারের কার্যকর ভিত্তি তৈরি করা সম্ভব হয়নি। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর ক্ষমতার রাজনীতির প্রভাবে জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়ন আরও অনিশ্চিত হয়ে উঠেছে।

টিআইবির নির্বাহী পরিচালক বলেন, রাষ্ট্রসংস্কার ও জুলাই সনদ বাস্তবায়নের প্রতিশ্রুতি দিয়ে নির্বাচনে বিজয়ী দলের সংসদ সদস্যরা গণভোটের পক্ষে অবস্থান নিলেও প্রস্তাবিত সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে শপথ নেননি। ফলে সাংবিধানিক সংস্কারের ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।

তার মতে, সংবিধান সংশোধন থেকে শুরু করে গুরুত্বপূর্ণ প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার এখন ক্ষমতাসীন জোটের রাজনৈতিক ইচ্ছা-অনিচ্ছার ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েছে।

জবাবদিহির বদলে নির্বাহী ক্ষমতা বাড়ানোর অভিযোগ

অন্তর্বর্তী সরকারের জারি করা ১৩৩টি অধ্যাদেশের প্রসঙ্গ তুলে ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, বর্তমান সরকার এসব অধ্যাদেশের উল্লেখযোগ্য অংশ আইনে পরিণত করেছে। তবে নির্বাহী বিভাগের ক্ষমতা বাড়ানোর সুযোগ রয়েছে এমন অধ্যাদেশগুলো অনুমোদন পেলেও জবাবদিহি নিশ্চিত করার জন্য গুরুত্বপূর্ণ কিছু অধ্যাদেশ বাতিল কিংবা স্থগিত করা হয়েছে।

টিআইবির অভিযোগ, এমন পদক্ষেপ রাষ্ট্রক্ষমতার ভারসাম্য ও জবাবদিহি প্রতিষ্ঠার পরিবর্তে নির্বাহী বিভাগের কর্তৃত্ব আরও সুসংহত করার ঝুঁকি তৈরি করছে।

বিচার বিভাগ ও দুদক সংস্কার নিয়েও উদ্বেগ

বিচার বিভাগের স্বাধীনতা নিশ্চিত করার উদ্যোগ থেকে সরকার পিছিয়ে যাচ্ছে বলেও অভিযোগ করেছে টিআইবি।

সংস্থাটির নির্বাহী পরিচালক বলেন, সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় এবং বিচারক নিয়োগসংক্রান্ত অধ্যাদেশ রহিত করার মধ্য দিয়ে সরকার রাষ্ট্রসংস্কারের মূল লক্ষ্য থেকে সরে এসেছে।

একইভাবে দুর্নীতি দমন কমিশনকে (দুদক) স্বাধীন ও কার্যকর প্রতিষ্ঠানে পরিণত করার ক্ষেত্রেও প্রত্যাশিত অগ্রগতি হয়নি বলে মন্তব্য করেন তিনি।

ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে ঐকমত্য থাকার পরও দুদক সংশোধন অধ্যাদেশ প্রয়োজনীয় পরিবর্তনসহ আইনে পরিণত করা হয়নি। বরং ২০০৪ সালের আইনি কাঠামোয় ফিরে যাওয়ায় কমিশনের প্রতি জনগণের আস্থা ফিরিয়ে আনার সুযোগ সীমিত হয়ে পড়েছে।

মানবাধিকার ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সংস্কার প্রশ্নে সমালোচনা

জাতীয় মানবাধিকার কমিশনসংক্রান্ত নতুন আইন নিয়েও অসন্তোষ জানিয়েছে টিআইবি। সংস্থাটির দাবি, এই আইন স্বাধীন ও কার্যকর মানবাধিকার কমিশন প্রতিষ্ঠার জনআকাঙ্ক্ষার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। পাশাপাশি আন্তর্জাতিক মানদণ্ডের সঙ্গেও এর বিরোধ রয়েছে।

গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকারসংক্রান্ত অধ্যাদেশ বাতিলের সমালোচনা করে ড. ইফতেখারুজ্জামান অভিযোগ করেন, মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনায় অভিযুক্ত সংস্থাগুলোকে জবাবদিহির আওতায় আনার পরিবর্তে সুরক্ষার সুযোগ তৈরি করা হয়েছে।

র‍্যাব বিলুপ্তির পরিবর্তে নতুন নামে সংস্থাটিকে আরও ক্ষমতাশালী করা হয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

এ ছাড়া স্বাধীন পুলিশ কমিশন গঠনের বিষয়ে রাজনৈতিক ঐকমত্য থাকলেও তা বাস্তবায়নে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ করেন টিআইবির নির্বাহী পরিচালক।

জনপ্রতিনিধিদের সম্পদের হিসাব প্রকাশেও অগ্রগতি নেই

নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার ক্ষেত্রেও সরকারের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে টিআইবি।

সংস্থাটি জানায়, দায়িত্ব গ্রহণের তিন মাসের মধ্যে নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের সম্পদবিবরণী প্রকাশ এবং নিয়মিত হালনাগাদের বিষয়ে রাজনৈতিক ঐকমত্য হয়েছিল। কিন্তু সংসদ সদস্যদের ক্ষেত্রে সেই প্রতিশ্রুতির বাস্তবায়ন দেখা যাচ্ছে না।

দখলবাজি ও দলীয়করণের পুনরাবৃত্তির আশঙ্কা

ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, কর্তৃত্ববাদী শাসনের পতনের পরও দেশে দখলবাজি, চাঁদাবাজি এবং দলীয়করণের মতো পুরোনো চর্চা ফিরে আসার অভিযোগ উঠছে।

তার আশঙ্কা, রাষ্ট্রক্ষমতার অপব্যবহারের এই ধারা অব্যাহত থাকলে জুলাই সনদ বাস্তবায়ন এবং কাঙ্ক্ষিত রাষ্ট্রসংস্কার কার্যত অসম্ভব হয়ে পড়তে পারে।

তিনি প্রশ্ন তোলেন, অতীতে বিচার বিভাগ, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, দুদক ও মানবাধিকার কমিশনসহ গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোকে রাজনৈতিক নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার অভিজ্ঞতা রাজনৈতিক দলগুলো এত দ্রুত ভুলে গেল কীভাবে?

টিআইবির নির্বাহী পরিচালকের মতে, অতীতের কর্তৃত্ববাদী শাসনব্যবস্থার পুনরাবৃত্তি ঠেকাতেই জুলাই জাতীয় সনদ প্রণয়ন করা হয়েছিল। রাজনৈতিক দলগুলো বিভিন্ন বিষয়ে মতপার্থক্য থাকা সত্ত্বেও বৃহত্তর জাতীয় স্বার্থে ঐকমত্যে পৌঁছেছিল।

কিন্তু বর্তমানে ক্ষমতাসীন দল সংসদীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতার ভিত্তিতে একচ্ছত্র ক্ষমতা প্রয়োগের দিকে ঝুঁকছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। একই সঙ্গে বিরোধী জোটও সংস্কারের চেয়ে দলীয় রাজনৈতিক সুবিধা আদায়ে বেশি মনোযোগী বলে মন্তব্য করেন।

বিবৃতিতে টিআইবি জানায়, গণতন্ত্র, সুশাসন, মানবাধিকার ও সামাজিক ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার জন্য রাষ্ট্রসংস্কারের কোনো বিকল্প নেই।

কর্তৃত্ববাদী শাসনের পুনরাবৃত্তি রোধ এবং জুলাই গণঅভ্যুত্থানের প্রত্যাশা বাস্তবায়নে ক্ষমতাসীন ও বিরোধী সব রাজনৈতিক দলকে দলীয় স্বার্থের ঊর্ধ্বে উঠে সদিচ্ছা, দায়িত্বশীলতা ও রাজনৈতিক প্রজ্ঞার পরিচয় দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে সংস্থাটি।

জাতীয়

মোটরসাইকেলসহ সব গাড়ির মালিক-চালকদের জন্য বড় সুখবর

মোটরসাইকেলসহ সব ধরনের মোটরযানের কাগজপত্র ও ড্রাইভিং লাইসেন্স জরিমানা ছাড়াই হালনাগাদের সময়সীমা আগামী ২৯ অক্টোবর পর্যন্ত বাড়িয়েছে সরকার। এ সময়ের মধ্যে শুধু মূল কর ও ফি পরিশোধ করে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র হালনাগাদ করা যাবে। মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ) এক জরুরি বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে। বিআরটিএ জানায়, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কোনো জরিমানা ছাড়াই […]

মোটরসাইকেলসহ সব গাড়ির মালিক-চালকদের জন্য বড় সুখবর

ছবি সংগৃহীত

নিউজ ডেস্ক

০২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৯:২৭

মোটরসাইকেলসহ সব ধরনের মোটরযানের কাগজপত্র ও ড্রাইভিং লাইসেন্স জরিমানা ছাড়াই হালনাগাদের সময়সীমা আগামী ২৯ অক্টোবর পর্যন্ত বাড়িয়েছে সরকার। এ সময়ের মধ্যে শুধু মূল কর ও ফি পরিশোধ করে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র হালনাগাদ করা যাবে।

মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ) এক জরুরি বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে।

বিআরটিএ জানায়, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কোনো জরিমানা ছাড়াই মোটরযানের ফিটনেস, ট্যাক্স-টোকেন ও রুট পারমিটসহ প্রয়োজনীয় কাগজপত্র হালনাগাদ করা যাবে। একই সুবিধা পাওয়া যাবে ড্রাইভিং লাইসেন্স নবায়নের ক্ষেত্রেও।

গ্রাহকদের জন্য এটিকে শেষ সুযোগ উল্লেখ করে আগামী ২৯ অক্টোবরের মধ্যে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ও ড্রাইভিং লাইসেন্স হালনাগাদ করে নেওয়ার অনুরোধ জানিয়েছে সংস্থাটি।

এদিকে, গাড়ি বিক্রির পর দ্রুত মালিকানা পরিবর্তনের বিষয়েও সতর্ক করেছে বিআরটিএ। সড়ক পরিবহন আইন, ২০১৮ অনুযায়ী মোটরযান বিক্রির পর মালিকানা পরিবর্তন বাধ্যতামূলক। কিন্তু অনেক ক্রেতা মালিকানা পরিবর্তন না করেই গাড়ি ব্যবহার করছেন। এতে পুরনো মালিককে বিভিন্ন আইনি ও আর্থিক জটিলতায় পড়তে হচ্ছে।

বিআরটিএ জানিয়েছে, মালিকানা পরিবর্তনের প্রক্রিয়া এখন আরও সহজ করা হয়েছে। অনলাইনে আবেদন করার পর বিক্রেতার বায়োমেট্রিক বা আঙুলের ছাপ যাচাই করে একই দিনেই মালিকানা পরিবর্তনের কার্যক্রম সম্পন্ন করা হচ্ছে। নতুন মালিকও ডিজিটাল রেজিস্ট্রেশন সার্টিফিকেটের জন্য বায়োমেট্রিক দিতে পারছেন।

নির্ধারিত নিয়ম অনুযায়ী দ্রুত মালিকানা পরিবর্তন না করলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও সতর্ক করেছে বিআরটিএ।

অন্যদিকে, সড়ক পরিবহন আইন কঠোরভাবে কার্যকরের অংশ হিসেবে ড্রাইভিং লাইসেন্সের পয়েন্ট কর্তনের কার্যক্রমও শুরু হয়েছে। প্রতিটি ড্রাইভিং লাইসেন্সে ১২টি পয়েন্ট থাকে। আইন লঙ্ঘনের ক্ষেত্রে জরিমানা বা কারাদণ্ডের পাশাপাশি চালকের লাইসেন্স থেকে দোষসূচক পয়েন্টও কেটে নেওয়া হচ্ছে।

জাতীয়

বারিধারায় পাকিস্তানি হাইকমিশনারের বাসভবনে আগুন, আইসিইউতে হাইকমিশনার

রাজধানীর বারিধারায় পাকিস্তান হাইকমিশনারের সরকারি বাসভবনে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় হাইকমিশনার ইমরান হায়দার ও তার স্ত্রী নাইমা ইমরান অসুস্থ হয়ে পড়েন। পরে তাদের চিকিৎসার জন্য গুলশানের কন্টিনেন্টাল হাসপাতালে নেওয়া হয়। বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) ভোরে ৪টা ৫৬ মিনিটে আগুনের সংবাদ পায় ফায়ার সার্ভিস। বিষয়টি নিশ্চিত করে ফায়ার সার্ভিসের সদরদপ্তরের মিডিয়া সেলের কর্মকর্তা আনোয়ারুল ইসলাম দোলন বলেন, আজ বৃহস্পতিবার […]

বারিধারায় পাকিস্তানি হাইকমিশনারের বাসভবনে আগুন, আইসিইউতে হাইকমিশনার

ছবি সংগৃহীত

নিউজ ডেস্ক

০৬ আগস্ট ২০২৬, ২২:২৬

রাজধানীর বারিধারায় পাকিস্তান হাইকমিশনারের সরকারি বাসভবনে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় হাইকমিশনার ইমরান হায়দার ও তার স্ত্রী নাইমা ইমরান অসুস্থ হয়ে পড়েন। পরে তাদের চিকিৎসার জন্য গুলশানের কন্টিনেন্টাল হাসপাতালে নেওয়া হয়।

বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) ভোরে ৪টা ৫৬ মিনিটে আগুনের সংবাদ পায় ফায়ার সার্ভিস।

বিষয়টি নিশ্চিত করে ফায়ার সার্ভিসের সদরদপ্তরের মিডিয়া সেলের কর্মকর্তা আনোয়ারুল ইসলাম দোলন বলেন, আজ বৃহস্পতিবার ভোর চারটা ৫৬ মিনিটে গুলশান ডিপ্লোমাটিক এলাকায় অগ্নিকাণ্ডের সংবাদ পেয়ে বারিধারা ফায়ার স্টেশন থেকে দুটি ইউনিট ঘটনাস্থলে যায়।

ফায়ার সার্ভিসের ইউনিট সেখানে গিয়ে দেখতে পায়, রুমে তেমন আগুন নেই তবে ধোয়া ছিল। পরে বালতি ও মগে করে পানি দিয়ে আগুন নিভিয়ে ফেলা হয়।

তিনি বলেন, ফায়ার সার্ভিস পূর্ণাঙ্গ চেক করে মেশিন দ্বারা ধোঁয়া বের করে ফেলে। প্রাথমিকভাবে আগুনের সূত্রপাত সম্পর্কে জানা যায় বাসায় টিভিতে বৈদ্যুতিক গোলযোগের কারণে আগুনের সৃষ্টি হয়।

জানা যায়, আগুন নিয়ন্ত্রণের সময় এবং পর পাকিস্তানি হাই কমিশনার ও তার স্ত্রী মোটামুটি সুস্থ ছিলেন। তবে প্রচণ্ড ধোয়া সৃষ্টি হওয়ার কারণে তারা অসুস্থ হয়ে পড়লে সকাল ৯টার দিকে তাদের গুলশানের কন্টিনেন্টাল হাসপাতালে নেওয়া হয়।

সন্ধ্যার পর কন্টিনেন্টাল হাসপাতালের অ্যাডমিশন বিভাগে যোগাযোগ করা হলে তারা বলেন, আজ সকালে পাকিস্তানি হাই কমিশনার ও তার স্ত্রী হাসপাতালটিতে ভর্তি হয়েছেন। হাইকমিশনের স্ত্রী বর্তমানে ক্যাবিনে এবং হাইকমিশনার নিজে আইসিইউতে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

জাতীয়

মন্ত্রিসভা থেকে বাদ পড়তে পারেন অনেকেই, নতুন করে আলোচনায় যেসব নাম

বিএনপি সরকারের প্রথম ছয় মাস পূর্ণ হতে যাচ্ছে আগামী ১৬ আগস্ট। এ সময়কে সামনে রেখে মন্ত্রিসভা পুনর্গঠনের বিষয়ে সরকারের ভেতরে জোর আলোচনা চলছে। সরকার ও দলীয় সূত্রের দাবি, কর্মদক্ষতা, প্রশাসনিক সক্ষমতা, জনসম্পৃক্ততা এবং ভাবমূর্তির মূল্যায়নের ভিত্তিতে মন্ত্রিসভায় বড় ধরনের পরিবর্তন আসতে পারে। এতে কয়েকজন মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রী বাদ পড়ার পাশাপাশি নতুন মুখ যুক্ত হওয়ার সম্ভাবনাও […]

মন্ত্রিসভা থেকে বাদ পড়তে পারেন অনেকেই, নতুন করে আলোচনায় যেসব নাম

ছবি সংগৃহীত

নিউজ ডেস্ক

০৪ আগস্ট ২০২৬, ১১:৫৯

বিএনপি সরকারের প্রথম ছয় মাস পূর্ণ হতে যাচ্ছে আগামী ১৬ আগস্ট। এ সময়কে সামনে রেখে মন্ত্রিসভা পুনর্গঠনের বিষয়ে সরকারের ভেতরে জোর আলোচনা চলছে। সরকার ও দলীয় সূত্রের দাবি, কর্মদক্ষতা, প্রশাসনিক সক্ষমতা, জনসম্পৃক্ততা এবং ভাবমূর্তির মূল্যায়নের ভিত্তিতে মন্ত্রিসভায় বড় ধরনের পরিবর্তন আসতে পারে। এতে কয়েকজন মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রী বাদ পড়ার পাশাপাশি নতুন মুখ যুক্ত হওয়ার সম্ভাবনাও রয়েছে।

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়-সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, গত ছয় মাসে মন্ত্রীদের কার্যক্রম নিয়ে সরকার অভ্যন্তরীণ মূল্যায়ন করছে। বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের কাজের অগ্রগতি, প্রশাসনিক দক্ষতা, জনসেবামূলক কার্যক্রম এবং সরকারের ভাবমূর্তি রক্ষায় ভূমিকা পর্যালোচনা করা হচ্ছে। বিশেষ করে যেসব মন্ত্রী বিতর্কে জড়িয়েছেন বা প্রত্যাশিত কর্মদক্ষতা দেখাতে পারেননি, তাদের বিষয়ে আলাদা করে আলোচনা চলছে।

সূত্রগুলো জানায়, বর্তমানে ২৪ জন মন্ত্রী ও ২৪ জন প্রতিমন্ত্রীর পারফরম্যান্স মূল্যায়ন করা হচ্ছে। সেই মূল্যায়নের ফলাফলের ভিত্তিতেই মন্ত্রিসভায় রদবদলের সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে। পাশাপাশি গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পুনর্বণ্টন এবং প্রয়োজনে মন্ত্রিসভার আকারও বাড়ানো হতে পারে।

সরকারের উচ্চপর্যায়ে টেকনোক্র্যাট, অতিরিক্ত উপদেষ্টা এবং অভিজ্ঞ রাজনৈতিক ব্যক্তিদের অন্তর্ভুক্তির বিষয়েও আলোচনা রয়েছে। একই সঙ্গে দলের ত্যাগী ও পরিচ্ছন্ন ভাবমূর্তির নেতাদের পাশাপাশি তরুণ সংসদ সদস্যদেরও মন্ত্রিসভায় দায়িত্ব দেওয়ার বিষয়টি বিবেচনায় রয়েছে।

রাজনৈতিক সূত্রে জানা গেছে, রাষ্ট্রপতি বা স্পিকার পদে নতুন নিয়োগ না হলে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, ড. আব্দুল মঈন খান এবং সেলিমা রহমানের নাম সম্ভাব্য মন্ত্রী হিসেবে আলোচনায় রয়েছে।

এ ছাড়া নতুন মুখ হিসেবে বিএনপির মিডিয়া সেলের আহ্বায়ক অধ্যাপক ডা. মওদুদ হোসেন আলমগীর পাভেল, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, জাতীয় সংসদের হুইপ এ বি এম আশরাফ উদ্দিন নিজান এবং রকিবুল ইসলাম বকুলের নামও বিভিন্ন মহলে আলোচিত হচ্ছে।

সরকারের শরিক ও সমমনা রাজনৈতিক দলগুলোর কয়েকজন নেতাকেও মন্ত্রিসভায় অন্তর্ভুক্ত করার আলোচনা রয়েছে। এ তালিকায় নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্না, সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার আন্দালিব রহমান পার্থ, শাহাদাত হোসেন সেলিম এবং বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হকের নাম বিভিন্ন সূত্রে উঠে এসেছে।

মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ-সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, বর্তমানে অন্তত ১২ জন মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রী একাধিক মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পালন করছেন। অতিরিক্ত দায়িত্বের কারণে কিছু মন্ত্রণালয়ের স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে বলে মনে করছে সরকার। সে কারণেই দায়িত্ব পুনর্বণ্টনের বিষয়টিও গুরুত্ব পাচ্ছে।

সরকারি সূত্রগুলোর ভাষ্য, মন্ত্রীদের মূল্যায়নে নির্বাচনী ইশতেহার বাস্তবায়নের অগ্রগতি, প্রশাসনিক জটিলতা নিরসন, জনদুর্ভোগ কমাতে নেওয়া উদ্যোগ, মাঠ প্রশাসনের ওপর নিয়ন্ত্রণ, দ্রুত সিদ্ধান্ত গ্রহণের সক্ষমতা এবং জাতীয় সংসদে সক্রিয় অংশগ্রহণের মতো বিষয়গুলো বিবেচনায় নেওয়া হচ্ছে।

মন্ত্রিসভায় থাকা বিএনপির স্থায়ী কমিটির এক সদস্য বলেন, কয়েকজন মন্ত্রী একাধিক মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব সামলাতে হিমশিম খাচ্ছেন। অন্যদিকে, কিছু প্রতিমন্ত্রী তুলনামূলক ভালো পারফরম্যান্স দেখিয়েছেন। পুনর্গঠনের ক্ষেত্রে তাদের পূর্ণ মন্ত্রীর দায়িত্ব দেওয়া হতে পারে। পাশাপাশি সংসদ সদস্য, বিএনপি এবং সমমনা রাজনৈতিক দলের কয়েকজন নেতাও টেকনোক্র্যাট কোটায় মন্ত্রিসভায় যুক্ত হতে পারেন। তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবেন প্রধানমন্ত্রী।