প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্দেশে যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানরত সাবেক অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ও নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদ ড. মুহাম্মদ ইউনূসের জন্য বিশেষ নিরাপত্তা ও প্রটোকলের ব্যবস্থা করা হয়েছে।
সাবেক সরকারপ্রধান হিসেবে নিয়মিত প্রটোকলের পাশাপাশি অতিরিক্ত নিরাপত্তাও পাবেন তিনি। যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানকালে এ ব্যবস্থা বহাল থাকবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
গত সোমবার বিকেলে যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কের জন এফ কেনেডি (জেএফকে) আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছানোর পর ড. ইউনূসকে হেনস্তার অভিযোগ ওঠে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের যুক্তরাষ্ট্র শাখার কয়েকজন নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে। ঘটনার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে বিভিন্ন মহলে তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদের সৃষ্টি হয়।
এ ঘটনার পর পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনায় ওয়াশিংটনে বাংলাদেশ দূতাবাস যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরকে বিষয়টি অবহিত করে। পাশাপাশি নিউইয়র্ক পুলিশের সঙ্গেও যোগাযোগ করা হয়।
বুধবার রাতে নিউইয়র্কে বাংলাদেশের কনসাল জেনারেল মোহাম্মদ মোজাম্মেল হক পিটার জানান, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে ড. ইউনূসের নিরাপত্তা ও প্রটোকল নিশ্চিত করা হয়েছে।
তিনি বলেন, ড. ইউনূসের যুক্তরাষ্ট্র সফরের বিষয়ে আগে থেকে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়নি। ফলে বিমানবন্দরে তার প্রটোকলে ঘাটতি ছিল। বিষয়টি জানার পর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। বর্তমানে তার সঙ্গে কনস্যুলেটের সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রয়েছে।
ড. ইউনূসের বর্তমান অবস্থান সম্পর্কে কনসাল জেনারেল জানান, তিনি নিউইয়র্কের বাইরে অন্য একটি অঙ্গরাজ্যে অবস্থান করছেন। মঙ্গলবার নিজেই গাড়ি চালিয়ে ড. ইউনূসকে সেখানে পৌঁছে দিয়েছেন। বর্তমানে তিনি সেখানে একটি কর্মসূচিতে অংশ নিচ্ছেন।
বিমানবন্দরের ঘটনার বিষয়ে মোজাম্মেল হক পিটার বলেন, নিউইয়র্ক পুলিশের ডিপ্লোমেটিক ইউনিট এবং জেএফকে বিমানবন্দরের দায়িত্বপ্রাপ্ত পোর্ট অথরিটির কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে। লিখিতভাবেও অভিযোগ জানানো হয়েছে। এখন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পরবর্তী পদক্ষেপের অপেক্ষায় রয়েছে বাংলাদেশ কনস্যুলেট।
এদিকে জেএফকে বিমানবন্দরে ড. ইউনূসকে হেনস্তার ঘটনায় মঙ্গলবার আনুষ্ঠানিকভাবে নিন্দা ও প্রতিবাদ জানায় বাংলাদেশ সরকার।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে বলা হয়, কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বলে সন্দেহভাজন কয়েকজন ব্যক্তি নোবেল শান্তি পুরস্কার বিজয়ী ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে হয়রানির সঙ্গে জড়িত থাকতে পারেন।
ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে কয়েকজনের নামও সামনে এসেছে। তাদের মধ্যে রয়েছেন যুক্তরাষ্ট্র যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক মিজান চৌধুরী, নিউইয়র্ক মহানগর আওয়ামী লীগের সহসভাপতি সাখাওয়াত হোসেন চঞ্চল, জ্যাকসন হাইটস আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক তানভীর কায়সার এবং মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ইমদাদ চৌধুরী।
তবে অভিযোগের বিষয়ে তাদের বক্তব্য কিংবা সংশ্লিষ্ট মার্কিন কর্তৃপক্ষের তদন্তের চূড়ান্ত ফলাফল সম্পর্কে এখনো কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।