মুন্সীগঞ্জ প্রতিনিধি
রবি মৌসুমে আলু, বোরো ধানসহ বিভিন্ন ফসলের আবাদকে কেন্দ্র করে মুন্সীগঞ্জে সারের চাহিদা বাড়ছে। এরই মধ্যে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের অক্টোবর ২০২৬ থেকে জুন ২০২৭ সময়ের জন্য জেলায় ৭৪ হাজার ১৪২ মেট্রিক টন সার বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এ সময়ে জেলার মোট সারের চাহিদা নির্ধারণ করা হয়েছে ৭৯ হাজার ৮৮ মেট্রিক টন।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর জানিয়েছে, বরাদ্দের বিপরীতে পর্যাপ্ত সার মজুত রয়েছে। ফলে চলতি রবি মৌসুমে জেলায় সারের সংকট হওয়ার সম্ভাবনা নেই।
কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, বরাদ্দ পাওয়া সারের মধ্যে ইউরিয়া ২৩ হাজার ১২৭ মেট্রিক টন, টিএসপি ৯ হাজার ১২৫ মেট্রিক টন, ডিএপি ২৯ হাজার ৮২১ মেট্রিক টন এবং এমওপি ১২ হাজার ৬৯ মেট্রিক টন।
অক্টোবর মাসের জন্য নির্ধারিত বরাদ্দের মধ্যে রয়েছে ইউরিয়া ৮৮৯ মেট্রিক টন, টিএসপি ৪৭৮ মেট্রিক টন, ডিএপি ১ হাজার ৪৯০ মেট্রিক টন এবং এমওপি ৯৩৬ মেট্রিক টন।
মুন্সীগঞ্জের কৃষিতে আলুর গুরুত্বের কারণে রবি মৌসুমে সারের চাহিদা বিশেষভাবে বেড়ে যায়। জেলা কৃষি বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম আলু উৎপাদনকারী জেলা মুন্সীগঞ্জে চলতি মৌসুমে ৩৪ হাজার ৬৬০ হেক্টর জমিতে আলু আবাদের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। আলুর পাশাপাশি বোরো ধান ও অন্যান্য রবি ফসলের আবাদেও এ সময়ে সারের প্রয়োজন হয়।
শুধু কৃষিজমির চাষাবাদ নয়, জেলায় বাণিজ্যিকভাবে গড়ে ওঠা ডেইরি ফার্ম ও মৎস্য চাষ প্রকল্পের কারণেও সারের অতিরিক্ত চাহিদা রয়েছে। কৃষি বিভাগ জানিয়েছে, এসব কারণে জেলায় অতিরিক্ত ৪ হাজার ৯৪৬ মেট্রিক টন সারের চাহিদা রয়েছে।
এদিকে সার বিতরণে অনিয়ম ও কৃত্রিম সংকট ঠেকাতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে সতর্কতা জারি রয়েছে। সম্প্রতি জেলা সার ও বীজ ডিলারদের সঙ্গে বৈঠকে জেলা প্রশাসক সৈয়দা নুরমহল আশরাফী সরকার নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে বেশি দামে সার বিক্রি এবং কৃত্রিম সংকট সৃষ্টির বিরুদ্ধে কঠোর বার্তা দেন। আইন অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি লাইসেন্স বাতিলের কথাও জানান তিনি।
সারের বিপণন ব্যবস্থা তদারকির জন্য মাঠপর্যায়ে কমিটি রয়েছে বলে জানিয়েছে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর। পাশাপাশি আলু চাষে অতিরিক্ত সার ব্যবহার কমাতে কৃষকদের সচেতন করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। মৃত্তিকা পরীক্ষা, কৃষক প্রশিক্ষণ, কৃষক সমাবেশ ও প্রচারণার মাধ্যমে এ বিষয়ে কৃষকদের উদ্বুদ্ধ করা হচ্ছে।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক ড. মো. হাবিবুর রহমান বলেন, ‘আগামী রবি মৌসুমের জন্য জেলায় ৭৪ হাজার ১৪২ মেট্রিক টন সার বরাদ্দ পাওয়া গেছে। পর্যাপ্ত সার মজুত রয়েছে, তাই কোনো সংকট হবে না।’
তিনি বলেন, আলু মৌসুমে মুন্সীগঞ্জের কৃষকেরা যে অতিরিক্ত সার ব্যবহার করেন, তা কমিয়ে আনার জন্য বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। এসব উদ্যোগের ফলে আগামীতে সারের ব্যবহার অর্ধেক কমে আসবে বলে আশা করা হচ্ছে।
কৃষি বিভাগের এ কর্মকর্তা জানান, চলতি মৌসুমে মুন্সীগঞ্জে সারের কোনো সংকটের সম্ভাবনা নেই।