দুই বন্ধুর দ্বন্দ্ব মেটাতে স্থানীয় লোকজনকে নিয়ে গ্রাম্য সালিসের আয়োজন করা হয়েছিল। সালিসে দেওয়া রায়ের একটি অংশ মানতে রাজি না হওয়ায় ওই বৈঠকেই রাজিব আহমেদ (৩২) নামের এক ব্যক্তিকে মারধর এবং তাঁর কাছে থাকা ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে হাফিজুল ইসলাম ও তাঁর সহযোগীদের বিরুদ্ধে।
মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) দুপুরে চারজনকে অভিযুক্ত করে গুরুদাসপুর থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন ভুক্তভোগী রাজিব আহমেদ। তিনি উপজেলার চাপিলা ইউনিয়নের মহারাজপুর গ্রামের রমজান আলীর ছেলে।
অভিযোগে অভিযুক্ত ব্যক্তিরা হলেন—নাজিরপুর ইউনিয়নের পাঁচপুরুলিয়া গ্রামের হাফিজুল ইসলাম (২৮), জুয়েল (২৬), আজিজুল (৩০) ও জমশেদ আলী (৫০)।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, রাজিব ও হাফিজুল ছোটবেলার ঘনিষ্ঠ বন্ধু। রাজিব স্থানীয়ভাবে মাছ চাষের ব্যবসা করেন। ব্যবসা ও ব্যক্তিগত কিছু বিষয় নিয়ে তাঁদের মধ্যে দ্বন্দ্বের সৃষ্টি হয়। একপর্যায়ে তাঁদের বন্ধুত্ব ভেঙে বিরোধ তৈরি হয়। কয়েক দিন আগে কথা-কাটাকাটির একপর্যায়ে তাঁদের মধ্যে মারামারির ঘটনাও ঘটে। স্থানীয় লোকজন বিষয়টি মীমাংসার চেষ্টা করেও ব্যর্থ হন।
পরে সোমবার (২৪ আগস্ট) পুরুলিয়া স্কুল মাঠে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের নিয়ে সালিস বৈঠক বসে। সেখানে রাজিবের বিরুদ্ধে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা এবং কান ধরে ওঠবস করার রায় দেওয়া হয়। রাজিব ৫০ হাজার টাকা জরিমানা দিতে রাজি হলেও কান ধরে ওঠবস করতে আপত্তি জানান।
অভিযোগে রাজিব বলেন, এ নিয়ে কথা-কাটাকাটির একপর্যায়ে হাফিজুল ও তাঁর সহযোগীরা তাঁকে মারধর করেন। একপর্যায়ে তাঁর কাছে থাকা মাছ বিক্রির ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা নিয়ে নেওয়া হয়। পরে তাঁকে আবার মারধরের হুমকি দিয়ে তাঁরা চলে যান।
রাজিব বলেন, ‘আমি ৫০ হাজার টাকা জরিমানা দিতে রাজি ছিলাম। কিন্তু কান ধরে ওঠবস করতে রাজি না হওয়ায় আমাকে মারধর করা হয়েছে। আমার টাকা ফেরত পাওয়াসহ এ ঘটনায় প্রশাসনের কাছে সুষ্ঠু বিচার চাই।’
তবে টাকা ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন হাফিজুল ইসলাম। তিনি বলেন, ‘রাজিবের কাছ থেকে কোনো টাকা নেওয়া হয়নি। সালিসের রায়ও সে নিজেই মানেনি। রায় না মানায় শুধু কথা-কাটাকাটি হয়েছে।’
গুরুদাসপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল হান্নান বলেন, এ বিষয়ে থানায় একটি অভিযোগ পাওয়া গেছে। তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।