জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও সংসদ সদস্য সাইফুল আলম খান মিলন দলের নেতাকর্মীদের ব্যক্তিগত জীবন, পরিবার, পেশা ও সাংগঠনিক দায়িত্বের মধ্যে সমন্বয় বজায় রাখার আহ্বান জানিয়েছেন।
তিনি বলেন, একটি দায়িত্বকে বেশি গুরুত্ব দিতে গিয়ে অন্য দায়িত্ব অবহেলা করা দায়িত্বশীলতার পরিচয় নয়। আল্লাহর দেওয়া প্রতিটি দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করাই একজন মুমিনের কর্তব্য।
শনিবার জামায়াতে ইসলামী ঢাকা জেলা আয়োজিত দুদিনব্যাপী শিক্ষাশিবিরের দ্বিতীয় দিনের সমাপনী অধিবেশনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
সাইফুল আলম খান মিলন বলেন, একজন দায়িত্বশীলের প্রথম কাজ হলো নিজের সময়, কর্মপরিকল্পনা ও কাজের অগ্রাধিকার সঠিকভাবে নির্ধারণ করা। ব্যক্তিগত ইবাদত, আত্মশুদ্ধি ও জ্ঞানচর্চার পাশাপাশি পরিবারের সদস্যদের প্রাপ্য অধিকারও যথাযথভাবে নিশ্চিত করতে হবে।
তিনি বলেন, পরিবারকে সময় না দিয়ে শুধু সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডে ব্যস্ত থাকা যেমন ঠিক নয়, তেমনি পারিবারিক ব্যস্ততাকে অজুহাত হিসেবে ব্যবহার করে সাংগঠনিক দায়িত্বে অবহেলাও গ্রহণযোগ্য নয়। সব ধরনের দায়িত্বের মধ্যে যথাযথ সমন্বয় রেখেই এগিয়ে যেতে হবে।
পেশাগত দায়িত্বকেও আমানত হিসেবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, কর্মক্ষেত্রে সততা, নিষ্ঠা, দক্ষতা ও সময়ানুবর্তিতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করতে হবে। পেশাগত দায়িত্বে অবহেলা করে সাংগঠনিক কাজ করাকে কোনোভাবেই সমর্থন করা যায় না।
সাংগঠনিক দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা, কর্মবণ্টন, সময় ব্যবস্থাপনা, তদারকি ও নিয়মিত পর্যালোচনার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি। তার মতে, কোন কাজটি আগে করা প্রয়োজন, কোন দায়িত্ব অন্যের মাধ্যমে সম্পন্ন করা সম্ভব এবং কোন কাজ নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে শেষ করতে হবে—এসব বিষয়ে আগেই সুস্পষ্ট পরিকল্পনা থাকা জরুরি।
তিনি আরও বলেন, সব কাজ নিজে করার মানসিকতা পরিহার করে দায়িত্ব অর্পণ ও সঠিক কর্মবণ্টনের মাধ্যমে সাংগঠনিক কার্যক্রম এগিয়ে নিতে হবে। অন্যদের মধ্যে দায়িত্ব ভাগ করে দেওয়ার সক্ষমতা একজন দায়িত্বশীলের গুরুত্বপূর্ণ গুণ।
পরিবারকে একজন দায়িত্বশীল ব্যক্তির অন্যতম শক্তির জায়গা হিসেবে উল্লেখ করে সাইফুল আলম খান মিলন বলেন, পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে সুন্দর আচরণ, তাদের প্রয়োজন বোঝা এবং ন্যায্য অধিকার নিশ্চিত করার মাধ্যমে সুস্থ পারিবারিক পরিবেশ গড়ে তুলতে হবে। পরিবারে শান্তি ও শৃঙ্খলা থাকলে সমাজ ও সংগঠনের কাজেও আরও মনোযোগী ও কার্যকর ভূমিকা রাখা সম্ভব।
দায়িত্ব পালনে আত্মসমালোচনা ও নিয়মিত মূল্যায়নের ওপরও গুরুত্বারোপ করেন তিনি। প্রতিদিন বা সপ্তাহভিত্তিক নিজের কাজের হিসাব নেওয়া, সফলতা ও ঘাটতি চিহ্নিত করা এবং প্রয়োজনীয় সংশোধনমূলক পদক্ষেপ নেওয়ার পরামর্শ দেন তিনি।
সাইফুল আলম খান মিলন বলেন, দায়িত্বশীলদের লক্ষ্য শুধু সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডের পরিধি বাড়ানো নয়; উত্তম চরিত্র, দায়িত্বশীলতা, আমানতদারি ও মানুষের কল্যাণে কাজের মাধ্যমে নিজেদের আদর্শ মানুষ হিসেবেও গড়ে তুলতে হবে।
তিনি বলেন, ব্যক্তি জীবনে আদর্শবান, পরিবারে দায়িত্বশীল, পেশাগত জীবনে সৎ ও দক্ষ এবং সাংগঠনিক কাজে সক্রিয়—এই গুণগুলোর মধ্যে সমন্বয় ঘটাতে পারলেই একজন দায়িত্বশীল ব্যক্তি প্রকৃত অর্থে সফল হতে পারবেন।