বিএনপির প্রার্থী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ২৫৫ ভোট পেয়ে দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হয়েছেন। তার প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় ঐক্যের প্রার্থী অলি আহমদ পেয়েছেন ৮৮ ভোট।
শুক্রবার (২১ আগস্ট) সন্ধ্যায় বঙ্গভবনে নবনির্বাচিত রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ নেবেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। জাতীয় সংসদের ভারপ্রাপ্ত স্পিকার কায়সার কামাল তাকে শপথ পড়াবেন।
এর আগে গত ২৪ জুলাই স্বাস্থ্যগত কারণ দেখিয়ে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন পদত্যাগ করেন। সংবিধানের বিধান অনুযায়ী, একই দিন জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব গ্রহণ করেন।
বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) জাতীয় সংসদ সদস্যদের প্রকাশ্য ভোটে রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন মির্জা ফখরুল। সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী সংসদ সদস্যদের নিজ দলের সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে ভোট দেওয়ার সুযোগ নেই। সংসদে ক্ষমতাসীন বিএনপির দুই-তৃতীয়াংশের বেশি সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকায় দলটির প্রার্থীর জয় অনেকটাই নিশ্চিত ছিল। তবে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী থাকায় নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়।
বৃহস্পতিবার দুপুর ২টা থেকে জাতীয় সংসদের সংসদ কক্ষে ভোটগ্রহণ শুরু হয়ে বিকেল ৫টা পর্যন্ত চলে। মোট ৩৪৯ জন সংসদ সদস্য ভোটার থাকলেও ভোট দেন ৩৪৩ জন। ভোট দেননি ৬ জন। ভোট গণনা শেষে প্রায় ২০ মিনিট পর প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দীন ফলাফল ঘোষণা করেন।
ফলাফল ঘোষণার পর সংসদ কক্ষে পাশের আসনে থাকা নবনির্বাচিত রাষ্ট্রপতিকে গোলাপ ফুল দিয়ে অভিনন্দন জানান প্রধানমন্ত্রী ও সংসদ নেতা তারেক রহমান। এ সময় সংসদ সদস্যরা করতালি ও টেবিল চাপড়ে মির্জা ফখরুলকে অভিনন্দন জানান। জবাবে তিনি সবার উদ্দেশে হাত নেড়ে ও সালাম দেন।
এরপর বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমান নিজ আসন থেকে উঠে মির্জা ফখরুলের দিকে এগিয়ে যান। তারা পরস্পরকে কোলাকুলি করে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন। পরে বিরোধীদলীয় উপনেতা সৈয়দ আবদুল্লাহ মুহাম্মদ তাহের, বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলামসহ আরও কয়েকজন নেতার সঙ্গে কোলাকুলি করেন নবনির্বাচিত রাষ্ট্রপতি।
একপর্যায়ে সংসদ কক্ষের মাঝখানে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমানকেও কোলাকুলি করতে দেখা যায়। এ দৃশ্য সংসদে রাজনৈতিক সৌহার্দ্যের এক ভিন্ন বার্তা দেয়।
বৃহস্পতিবার রাতেই রাষ্ট্রপতি পদে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের নির্বাচিত হওয়ার বিষয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে নির্বাচন কমিশন।
এদিকে, রাষ্ট্রপতিকে শপথ পড়ানো নিয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের কাছে আইনি ব্যাখ্যা চায়। পরে বৃহস্পতিবার মন্ত্রণালয় এ বিষয়ে মতামত দিয়েছে বলে জানিয়েছেন মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব (মতামত) এ এ আউয়াল।