হবিগঞ্জে পুলিশের হাতে আটকের প্রায় ২১ ঘণ্টা পর মুক্তি পেয়েছেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের হবিগঞ্জের সদস্যসচিব মাহদি হাসান। একই সঙ্গে আটক অপর দুই নেতা মির্জা সুমন ও মো. রাজু আহমেদকেও মুচলেকা নিয়ে ছেড়ে দিয়েছে পুলিশ।
মঙ্গলবার দুপুর ২টার দিকে হবিগঞ্জ সদর মডেল থানা থেকে তাদের ছেড়ে দেওয়া হয়। এ সময় থানার ফটকের সামনে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতাকর্মী, আটক ব্যক্তিদের স্বজন ও সাংবাদিকদের ভিড় দেখা যায়।
এর আগে সোমবার বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে হবিগঞ্জ শহরের কোর্ট মসজিদ এলাকা থেকে মাহদি হাসান, মির্জা সুমন ও রাজু আহমেদকে আটক করে পুলিশ। প্রশাসনের বাধা উপেক্ষা করে বিক্ষোভ মিছিল ও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টার অভিযোগে তাদের আটক করা হয়। পরে তাদের সদর মডেল থানায় নেওয়া হয়।
হবিগঞ্জ সদর মডেল থানার পুলিশ জানায়, বিক্ষোভকে কেন্দ্র করে বিশৃঙ্খলার আশঙ্কা থাকায় প্রশাসনের পক্ষ থেকে কর্মসূচির অনুমতি দেওয়া হয়নি। এরপরও মাহদি হাসানসহ তার সহযোগীরা কোর্ট মসজিদের সামনে জড়ো হন। একপর্যায়ে পুলিশ সেখান থেকে তিনজনকে আটক করে।
থানা থেকে মুক্তি পাওয়ার পর মাহদি হাসান বলেন, শহরে অসহনীয় লোডশেডিং, বিদ্যুতের দাম বৃদ্ধি, গ্যাসের সংকট এবং দ্রব্যমূল্যের অস্বাভাবিক বৃদ্ধির প্রতিবাদে সর্বস্তরের ছাত্র-জনতার ব্যানারে তারা বিক্ষোভ মিছিল করতে চেয়েছিলেন।
মাহদি অভিযোগ করেন, বিক্ষোভ মিছিলের আগের রাতে পুলিশ তাদের বাড়িতে বাড়িতে গিয়ে তল্লাশি চালিয়েছে এবং পরিবারের সদস্যদের হুমকি দিয়েছে।
হবিগঞ্জ সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাহিদুল হক বলেন, প্রশাসনের অনুমতি ছাড়াই তারা বিক্ষোভ মিছিলের আয়োজন করেছিলেন। বিশৃঙ্খলার আশঙ্কায় তাদের আটক করা হয়েছিল। পরে মুচলেকা নিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।
তবে মুচলেকায় কী লেখা হয়েছে, সে বিষয়ে কোনো তথ্য দেননি ওসি।