মঙ্গলবার, ১৮ আগস্ট ২০২৬

পরীক্ষামূলক সংস্করণ

জাতীয়

আমরা চাই না ভারতের সঙ্গে বন্ধুত্ব নষ্ট হোক,তিস্তা প্রকল্প বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে দেশের স্বার্থই সর্বোচ্চ প্রাধান্য পাবে: পানিসম্পদ মন্ত্রী

তিস্তা নদীর পানি ব্যবস্থাপনা নিয়ে ভারতের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখার পাশাপাশি প্রকল্প বাস্তবায়নে বাংলাদেশের জাতীয় স্বার্থকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন পানিসম্পদ মন্ত্রী মো. শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি। তিনি বলেন, আমরা চাই না ভারতের সঙ্গে বন্ধুত্ব নষ্ট হোক। আশা করি, আমাদের স্বার্থের বিষয়টি তারা বিবেচনায় নেবেন। তবে তিস্তা প্রকল্প বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে দেশের স্বার্থই সর্বোচ্চ […]

আমরা চাই না ভারতের সঙ্গে বন্ধুত্ব নষ্ট হোক,তিস্তা প্রকল্প বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে দেশের স্বার্থই সর্বোচ্চ প্রাধান্য পাবে: পানিসম্পদ মন্ত্রী

ছবি সংগৃহীত

নিউজ ডেস্ক

১৭ আগস্ট ২০২৬, ২২:৫১

তিস্তা নদীর পানি ব্যবস্থাপনা নিয়ে ভারতের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখার পাশাপাশি প্রকল্প বাস্তবায়নে বাংলাদেশের জাতীয় স্বার্থকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন পানিসম্পদ মন্ত্রী মো. শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি।

তিনি বলেন, আমরা চাই না ভারতের সঙ্গে বন্ধুত্ব নষ্ট হোক। আশা করি, আমাদের স্বার্থের বিষয়টি তারা বিবেচনায় নেবেন। তবে তিস্তা প্রকল্প বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে দেশের স্বার্থই সর্বোচ্চ প্রাধান্য পাবে।

সোমবার (১৭ আগস্ট) সকালে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বুয়েট) পানিসম্পদ মন্ত্রণালয় ও বুয়েটের পানিসম্পদ কৌশল বিভাগের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত ‘তিস্তা নদীর টেকসই ব্যবস্থাপনা’ শীর্ষক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

মন্ত্রী বলেন, তিস্তাপাড়ের মানুষের জন্য সরকার যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছে, তা বাস্তবায়নে কাজ করছে বিএনপি। তিস্তা মহাপরিকল্পনা নিয়ে এরই মধ্যে বিভিন্ন পর্যায়ে আলোচনা ও সেমিনার হয়েছে। বাংলাদেশের ভৌগোলিক কিছু সীমাবদ্ধতা থাকলেও সেগুলো মোকাবিলা করেই সরকার এগিয়ে যাচ্ছে।

তিস্তা প্রকল্পকে সরকারের জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, দ্রুত প্রকল্প বাস্তবায়ন করা না গেলে তিস্তাপাড়ের মানুষের দুর্ভোগ আরও বাড়বে। নদীর স্বাভাবিক গতিপ্রকৃতি ও পানি প্রবাহের ওপর নিয়ন্ত্রণ ক্রমেই বাংলাদেশের বাইরে চলে যাচ্ছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

তিস্তা নদীর জন্য দীর্ঘমেয়াদি ও সমন্বিত পরিকল্পনার প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরে পানিসম্পদ মন্ত্রী বলেন, নদী ব্যবস্থাপনায় পরিবেশের ভারসাম্য, কৃষি, মানুষের জীবন-জীবিকা ও স্থানীয় অর্থনীতিকে সমান গুরুত্ব দিতে হবে। নদীভাঙন রোধ, বন্যা নিয়ন্ত্রণ, সেচ সুবিধা সম্প্রসারণ, শুষ্ক মৌসুমে পানি সংরক্ষণ এবং তিস্তাপাড়ের মানুষের জীবনমান উন্নয়নে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

তিনি বলেন, তিস্তা নদীর টেকসই ব্যবস্থাপনার জন্য সমন্বিত, পরিবেশবান্ধব ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণ করা হবে। দ্রুত প্রকল্প বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হবে।

তিস্তা প্রকল্পে বিদেশি সহযোগিতার বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, প্রকল্পে আগ্রহী বিদেশি রাষ্ট্রগুলোর কারিগরি সহায়তা বাংলাদেশ গ্রহণ করবে। তবে এক্ষেত্রে সরকারের পরিকল্পনা হবে দীর্ঘমেয়াদি এবং দেশের পানি বিশেষজ্ঞদের মতামতকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হবে।

দেশের পানির ন্যায্য হিস্যা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, জনগণ ও দেশের স্বার্থকে অগ্রাধিকার দিয়েই সরকার কাজ করছে। গঙ্গা চুক্তি নিয়ে দ্বিপাক্ষিক আলোচনার মাধ্যমে যথাসময়ে নবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হবে। পানির ন্যায্য হিস্যার প্রশ্নে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না।

তিস্তাপাড়ের মানুষের দীর্ঘদিনের দুর্ভোগের কথা তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, তিস্তা উত্তরাঞ্চলের পাঁচটি জেলার মানুষের জীবন ও জীবিকার সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ত। শুষ্ক মৌসুমে পানির সংকট এবং বর্ষায় অতিরিক্ত পানির প্রবাহ এ অঞ্চলের মানুষের জন্য দীর্ঘদিনের সমস্যা। এসব সংকট মোকাবিলায় নদীভাঙন রোধ, বন্যা নিয়ন্ত্রণ, সেচ সম্প্রসারণ ও পানি সংরক্ষণে গুরুত্ব দেওয়া হবে।

সেমিনারে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু বলেন, দীর্ঘদিন ধরে তিস্তাপাড়ের মানুষের দুর্ভোগ তিনি কাছ থেকে দেখে আসছেন। তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান অঙ্গীকারবদ্ধ। দ্রুত এ অঞ্চলের মানুষের দুর্দশার একটি গ্রহণযোগ্য সমাধান হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ বলেন, তিস্তা অববাহিকার মানুষের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা তিস্তা মহাপরিকল্পনার টেকসই বাস্তবায়ন। এ লক্ষ্যে সরকার কাজ করছে। এরই মধ্যে একটি কারিগরি কমিটি গঠন করা হয়েছে এবং দেশি-বিদেশি বিশেষজ্ঞ ও সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের মতামত নেওয়া হচ্ছে। একই সঙ্গে পানির ন্যায্য হিস্যার বিষয়েও সরকার সতর্ক রয়েছে।

সেমিনারে বক্তারা বলেন, তিস্তার উজানে বিভিন্ন ড্যাম, ব্যারেজ ও বাঁধ নির্মাণের কারণে নদীর স্বাভাবিক পানিপ্রবাহ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। এর ফলে নদীতে নাব্য সংকটসহ নানা ধরনের সমস্যা তৈরি হয়েছে, যার প্রভাব পড়ছে কৃষি ও স্থানীয় অর্থনীতিতে। এসব সমস্যা সমাধানে যৌথ নদী কমিশনের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর মধ্যে সমন্বিত উদ্যোগ নেওয়ার ওপর গুরুত্ব দেন তারা।

সেমিনারে জানানো হয়, তিস্তা অববাহিকায় প্রায় সাড়ে সাত লাখ হেক্টর কৃষিজমি রয়েছে। কিন্তু পানির সংকটের কারণে বর্তমানে মাত্র প্রায় এক লাখ হেক্টর জমিতে সেচ দেওয়া সম্ভব হচ্ছে। এতে কৃষি উৎপাদন ও দেশের খাদ্যনিরাপত্তায় নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে।

অনুষ্ঠানে ‘তিস্তা চ্যালেঞ্জেস’ বিষয়ে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বুয়েটের পানি ও বন্যা ব্যবস্থাপনা ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক মাসফিকুস সালেহীন। ‘সাসটেইনেবল ম্যানেজমেন্ট অপশনস’ বিষয়ে প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বুয়েটের পানিসম্পদ কৌশল বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. আতাউর রহমান। ‘ওয়াটার কনজারভেশন অ্যান্ড ইরিগেশন ডেভেলপমেন্ট’ বিষয়ে উপস্থাপনা করেন পানি উন্নয়ন বোর্ড, রংপুরের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী ড. মো. সরফরাজ বান্দা।

পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব খন্দকার আজিম উদ্দিনের সভাপতিত্বে সেমিনারে প্যানেল আলোচনায় অংশ নেন যৌথ নদী কমিশনের উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. আইনুন নিশাত, বুয়েটের সাবেক অধ্যাপক ড. আবুল ফজল এম সালেহ এবং বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের মহাপরিচালক মো. রুহুল আমিন।

এছাড়াও অনুষ্ঠানে পানিসম্পদ মন্ত্রণালয় ও বুয়েটের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা, পানি বিশেষজ্ঞ, শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।

জাতীয়

স্থানীয় সরকার নির্বাচনে আওয়ামী লীগসহ যেকেউ অংশ নিতে পারবে : প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা

স্থানীয় সরকার নির্বাচনে আওয়ামী লীগসহ যেকেউ নির্ধারিত মানদণ্ড পূরণ সাপেক্ষে অংশ নিতে পারবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান। মঙ্গলবার (০৯ জুন) সচিবালয়ে তথ্য অধিদপ্তরের সম্মেলন কক্ষে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।

নিউজ ডেস্ক

০৯ জুন ২০২৬, ১২:৩৬

স্থানীয় সরকার নির্বাচনে আওয়ামী লীগসহ যেকেউ নির্ধারিত মানদণ্ড পূরণ সাপেক্ষে অংশ নিতে পারবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান।

মঙ্গলবার (০৯ জুন) সচিবালয়ে তথ্য অধিদপ্তরের সম্মেলন কক্ষে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।

জাতীয়

নতুন দায়িত্ব পেলেন স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী, বিডা ও এনবিআর চেয়ারম্যান

জাতীয় ঔষধনীতি বাস্তবায়ন এবং দেশের ঔষধ খাতের নীতিগত কার্যক্রম আরও শক্তিশালী করতে ২৪ সদস্যের জাতীয় ঔষধ উপদেষ্টা পরিষদ পুনর্গঠন করেছে সরকার। নতুন পরিষদে সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী এবং সদস্য সচিব থাকবেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সচিব। একই সঙ্গে স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী, বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিডা)-এর নির্বাহী চেয়ারম্যান এবং জাতীয় […]

নতুন দায়িত্ব পেলেন স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী, বিডা ও এনবিআর চেয়ারম্যান

ছবি সংগৃহীত

নিউজ ডেস্ক

০২ জুলাই ২০২৬, ১১:৪২

জাতীয় ঔষধনীতি বাস্তবায়ন এবং দেশের ঔষধ খাতের নীতিগত কার্যক্রম আরও শক্তিশালী করতে ২৪ সদস্যের জাতীয় ঔষধ উপদেষ্টা পরিষদ পুনর্গঠন করেছে সরকার। নতুন পরিষদে সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী এবং সদস্য সচিব থাকবেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সচিব।

একই সঙ্গে স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী, বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিডা)-এর নির্বাহী চেয়ারম্যান এবং জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)-এর চেয়ারম্যানকে নতুন সদস্য হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

নতুন প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে ২১ জুন ২০২৬ তারিখে জারি করা আগের ২২ সদস্যের পরিষদ বাতিল করা হয়েছে। নতুন আদেশ অনুযায়ী, পরিষদ বছরে অন্তত দুইবার সভা করবে। প্রয়োজন হলে অতিরিক্ত সভা আয়োজন এবং বিশেষজ্ঞ সদস্য কো-অপ্ট করার সুযোগও থাকবে।

পরিষদে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের সচিব, ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তরের মহাপরিচালক, বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিনিধি, ফার্মেসি কাউন্সিল, এফবিসিসিআই, বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব ফার্মাসিউটিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ (বিএপিআই) এবং বাংলাদেশ ফার্মাসিউটিক্যাল সোসাইটির প্রতিনিধিরাও সদস্য হিসেবে রয়েছেন।

জাতীয় ঔষধ উপদেষ্টা পরিষদ সরকারের কাছে জাতীয় ঔষধনীতি বাস্তবায়ন, দেশীয় ঔষধ শিল্পের উন্নয়ন, অত্যাবশ্যকীয় ঔষধের তালিকা হালনাগাদ, ঔষধ উৎপাদন, আমদানি ও রপ্তানি-সংক্রান্ত নীতিগত বিষয়ে পরামর্শ দেবে।

পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে সমন্বয় জোরদার এবং জরুরি পরিস্থিতিতে প্রয়োজনীয় সুপারিশ প্রদানেও পরিষদ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।

জাতীয়

মায়ের গলিত লাশ উদ্ধার, মুখ খুললেন বুয়েট অধ্যাপক ছেলে: আমার মা সিজোফ্রেনিয়ার রোগে আক্রান্ত

গত ৩১ মে রাজধানীর মিরপুরে নিজ বাসা থেকে উদ্ধার হওয়া ৭৫ বছর বয়সী নূর জাহান বেগমের মরদেহ। তার মৃত্যুকে কেন্দ্র করে দেশজুড়ে আলোচনার মধ্যে মুখ খুললেন নিহতের ছোট ছেলে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) অধ্যাপক একেএম আশিকুর রহমান। তিনি পরিবারের বিরুদ্ধে ছড়ানো বিভিন্ন তথ্যকে মিথ্যা বলে দাবি করেছেন। বুধবার (৩ জুন) গণমাধ্যমে দেওয়া বক্তব্যে তিনি এই […]

নিউজ ডেস্ক

০৪ জুন ২০২৬, ১১:১৯

গত ৩১ মে রাজধানীর মিরপুরে নিজ বাসা থেকে উদ্ধার হওয়া ৭৫ বছর বয়সী নূর জাহান বেগমের মরদেহ। তার মৃত্যুকে কেন্দ্র করে দেশজুড়ে আলোচনার মধ্যে মুখ খুললেন নিহতের ছোট ছেলে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) অধ্যাপক একেএম আশিকুর রহমান। তিনি পরিবারের বিরুদ্ধে ছড়ানো বিভিন্ন তথ্যকে মিথ্যা বলে দাবি করেছেন।

বুধবার (৩ জুন) গণমাধ্যমে দেওয়া বক্তব্যে তিনি এই দাবি করেন।

৭৫ বছর বয়সী নূর জাহান বেগমের মরদেহ গত ৩১ মে রাতে উদ্ধার করে পুলিশ। তিনি মেয়ে ফাতিমা নাসরীন সুলতানার সঙ্গে বসবাস করতেন। মরদেহ উদ্ধারের পর বাসার অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ এবং বৃদ্ধার শারীরিক অবস্থার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে, যা ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়। বৃদ্ধার এক ছেলে মোংলা স্থলবন্দরের যুগ্ম সচিব। আরেক ছেলে বুয়েটের শিক্ষক। তারা মায়ের কাছে থাকতেন না।

নিহতের ছেলে বুয়েটের অধ্যাপক একেএম আশিকুর রহমান বলেন, মায়ের মৃত্যুতে পরিবার এমনিতেই মানসিক আঘাতের মধ্যে রয়েছে। এর মধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভিন্ন বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রচার তাদের আরও বিপর্যস্ত করে তুলেছে। মায়ের অবহেলার অভিযোগ অস্বীকার করে তিনি বলেন, ২০০৯ সাল থেকে দীর্ঘ সময় মা তার সঙ্গেই ছিলেন। করোনাকালেও তিনি মায়ের চিকিৎসার ব্যবস্থা করেন। ২০২৪ সাল থেকে মা তার মেয়ের সঙ্গে থাকছিলেন।

তিনি জানান, তাদের বাবা মো. আবুল কাশেম ২০০৮ সালে মারা যান। ২০১৭ সালে ফাতিমা নাসরীনের স্বামীর মৃত্যুর পর তিনি একাই মায়ের দেখাশোনা করছিলেন। ফাতিমা নাসরীনের কোনো সন্তান নেই। তার মায়ের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে সন্দেহপ্রবণতা ছিল, যা সিজোফ্রেনিয়ার উপসর্গের সঙ্গে কিছুটা মিল রয়েছে।

একইভাবে স্বামী হারানোর পর তার বোনও মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছিলেন বলে তিনি মনে করেন। তবে তাদের কাউকেই কখনো আনুষ্ঠানিকভাবে মানসিক স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞের কাছে নেওয়া হয়নি।

বাসার অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ সম্পর্কে আশিকুর রহমান বলেন, তার বোন বাইরের গৃহকর্মী রাখতে চাইতেন না। তিনি নিজে কয়েকবার সহায়তার চেষ্টা করলেও তা স্থায়ী হয়নি। এছাড়া মাও অন্যের হস্তক্ষেপ পছন্দ করতেন না। ঘটনার দিন, ৩১ মে বিকেলে ফাতিমা নাসরীন ফোন করে জানান, মায়ের কোনো সাড়া পাওয়া যাচ্ছে না। এরপর নার্স ডাকা, পুলিশকে অবহিত করা এবং পরবর্তী আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করা হয় বলে জানান তিনি।

অন্যদিকে নূর জাহান বেগমের মরদেহ উদ্ধার প্রক্রিয়ার সময় উপস্থিত থাকা পল্লবী থানার উপপরিদর্শক (এসআই) শামছুর রহমান জানান, জরুরি সেবা ৯৯৯-এর মাধ্যমে খবর পেয়ে গিয়ে তিনি বাসাটিকে বসবাসের অনুপযোগী অবস্থায় দেখতে পান। তার দাবি, মরদেহের ডান চোখ ও পিঠে পোকা ছিল। তবে আশিকুর রহমান এ দাবি অস্বীকার করেছেন।

এদিকে পচনধরা মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় মায়ের প্রতি অবহেলার দায়ে ছেলে যুগ্ম সচিব এ কে এম আনিসুর রহমানের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিয়েছে সরকার। মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষের সদস্য (প্রকৌশল ও উন্নয়ন) পদ থেকে তাকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। বুধবার (৩ জুন) জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে। প্রজ্ঞাপনে জানানো হয়েছে, আনিসুর রহমানকে পদ থেকে সরিয়ে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে সংযুক্ত করা হয়েছে।

এ বিষয়ে পল্লবী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হাসান বশির জানান, বৃদ্ধা তার মেয়ের বাড়িতে থাকতেন। একটি কক্ষে মা ও আরেকটি কক্ষে মেয়ে। রোববার বৃদ্ধার মেয়ে তাকে ডাকতে যান। সাড়া না পেয়ে তিনি একজন নার্সকে ডেকে আনেন।

তিনি ভেবেছিলেন, মা হয়তো অসুস্থ। পরে ওই নার্স রুমে ঢুকে দেখতে পান, বৃদ্ধা মারা গেছেন এবং শরীরে পচন ধরে মাংস খুলে বিছানায় পড়ে আছে। নার্স তাৎক্ষণিক বাইরে এসে লোকজনকে জানান। স্থানীয়রা ৯৯৯-এ কল দেয়। পরে পুলিশ গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠায়।

তিনি আরও জানান, বৃদ্ধার মেয়েকে দেখে কিছুটা অস্বাভাবিক মনে হয়েছে। মা ঘরে মরে পচে আছে, অথচ নাকে কোনো গন্ধ পাননি তিনি। বিষয়টি পুলিশকে ভাবিয়ে তুলছে। ময়নাতদন্তের পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন পাওয়ার পর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।