জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম বলেছেন, সরকার যদি গ্যাসের দাম বাড়ানোর সিদ্ধান্ত কার্যকর করে, তাহলে পেট্রোবাংলা ঘেরাও কর্মসূচি দেওয়া হবে। একই সঙ্গে তিনি দাবি করেন, দ্রব্যমূল্য ও জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধির প্রতিবাদে রাজধানীর মানুষও রাজপথে নামবে।
শুক্রবার (৩১ জুলাই) রাতে রাজধানীর জাতীয় চক্ষু বিজ্ঞান ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আহত আলিফ চৌধুরীকে দেখতে গিয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।
নাহিদ ইসলাম বলেন, হবিগঞ্জে হামলার শিকার আলিফ চৌধুরীর একটি চোখের দৃষ্টি সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে গেছে এবং অন্য চোখও ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। চিকিৎসকদের বরাত দিয়ে তিনি জানান, ক্ষতিগ্রস্ত চোখে দৃষ্টি ফিরে পাওয়ার সম্ভাবনা খুবই কম। চিকিৎসকদের বোর্ড সভার পর তাঁর শারীরিক অবস্থা সম্পর্কে বিস্তারিত জানা যাবে।
তিনি অভিযোগ করেন, আলিফের ওপর হামলার তিন দিন পার হলেও সরকারের পক্ষ থেকে কোনো খোঁজ নেওয়া হয়নি। তাঁর দাবি, হামলায় ছাত্রদলের স্থানীয় এক নেতা জড়িত ছিলেন এবং এ ঘটনায় মামলা করা হলেও এখন পর্যন্ত কোনো সাংগঠনিক বা আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।
সরকারের সমালোচনা করে নাহিদ ইসলাম বলেন, বিরোধী রাজনৈতিক কর্মসূচিতে হামলার ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নিয়ে সরকার তাদের প্রশ্রয় দিচ্ছে। হবিগঞ্জে হামলার সময় পুলিশও কার্যকর ভূমিকা পালন করেনি বলে অভিযোগ করেন তিনি।
তিনি আরও বলেন, শুধু হবিগঞ্জ নয়, কুড়িগ্রাম, সাভার, কেরানীগঞ্জসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে এনসিপি, ছাত্রশক্তি ও যুবশক্তির কর্মসূচিতে বাধা দেওয়া হচ্ছে। এর মাধ্যমে বিরোধী রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড দমন করার চেষ্টা চলছে বলে দাবি করেন তিনি।
সরকারের জ্বালানি নীতির সমালোচনা করে নাহিদ ইসলাম বলেন, বিদ্যুৎকেন্দ্র ও সিএনজিতে ব্যবহৃত গ্যাসের দাম বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর ফলে শিল্প উৎপাদন ব্যাহত হবে, দ্রব্যমূল্য আরও বাড়বে এবং সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি পাবে। তিনি অভিযোগ করেন, গত কয়েক মাসে সরকার দফায় দফায় বিদ্যুৎ, গ্যাস ও এলপিজির দাম বাড়িয়েছে এবং আবাসিক গ্যাসের দাম বাড়ানোরও প্রস্তুতি চলছে।
দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে তিনি বলেন, দেশের ৭০ শতাংশ মানুষের মতামত উপেক্ষা করে কোনো সরকার দীর্ঘদিন ক্ষমতায় থাকতে পারে না। সরকার যদি মনে করে এভাবে পাঁচ বছর পার করবে, তাহলে সেই সুযোগ দেওয়া হবে না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
নাহিদ ইসলাম আরও অভিযোগ করেন, দেশে বিনিয়োগ কমে যাচ্ছে, শিল্পকারখানা বিদ্যুৎ সংকটে রয়েছে এবং ব্যবসায়ীরা প্রশাসনিক হয়রানি ও চাঁদাবাজির শিকার হচ্ছেন। পাশাপাশি বিভিন্ন সাংবিধানিক ও রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানে দলীয় লোক নিয়োগের মাধ্যমে রাষ্ট্রযন্ত্রকে রাজনৈতিকভাবে ব্যবহার করা হচ্ছে বলেও দাবি করেন তিনি।
গ্যাসের দাম বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত কার্যকর হলে পেট্রোবাংলা ঘেরাওয়ের হুঁশিয়ারি দিয়ে তিনি বলেন, “গ্যাসের দাম বাড়ানো হলে আমরা অবশ্যই পেট্রোবাংলা ঘেরাও করব।”
প্রধানমন্ত্রী ও সরকারের সমালোচনা করে তিনি আরও বলেন, আলিফের ঘটনায় সরকারের কাছ থেকে বিচার বা সহানুভূতির প্রত্যাশা নেই। তবে দেশের জনগণ, গণঅভ্যুত্থানের শক্তি এবং বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলো আলিফের পাশে রয়েছে। তিনি জনগণকে সরকারের দমন-পীড়নের বিরুদ্ধে প্রস্তুত থাকার আহ্বান জানান।