বুধবার, ০৭ অক্টোবর ২০২৬

পরীক্ষামূলক সংস্করণ

জাতীয়

জুলাই আন্দোলনে ৭.৬২ মিমি গুলি ব্যবহার করেছে কারা, জানালেন উপদেষ্টা

জুলাই আন্দোলনে ৭.৬২ মিলিমিটার গুলি ও স্নাইপার রাইফেল ব্যবহারের অভিযোগ প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচারবিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান বলেছেন, ‘বিষয়টি নিয়ে কিছু বিভ্রান্তিকর বক্তব্য প্রচার করা হচ্ছে।’ তিনি বলেন, “বাংলাদেশ পুলিশের হাতে দীর্ঘদিন ধরে টাইপ-৫৬ রাইফেল ছিল, যা সাধারণভাবে ‘চাইনিজ রাইফেল’ নামে পরিচিত। এই রাইফেলে ৭.৬২ মিলিমিটার গুলি ব্যবহৃত হয়।” টাইপ- ৫৬ মূলত […]

জুলাই আন্দোলনে ৭.৬২ মিমি গুলি ব্যবহার করেছে কারা, জানালেন উপদেষ্টা

জুলাই আন্দোলনে ৭.৬২ মিমি গুলি ব্যবহার করেছে কারা, জানালেন উপদেষ্টা

ডেস্ক রিপোর্ট

২৯ জুলাই ২০২৬, ১০:১১

জুলাই আন্দোলনে ৭.৬২ মিলিমিটার গুলি ও স্নাইপার রাইফেল ব্যবহারের অভিযোগ প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচারবিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান বলেছেন, ‘বিষয়টি নিয়ে কিছু বিভ্রান্তিকর বক্তব্য প্রচার করা হচ্ছে।’ তিনি বলেন, “বাংলাদেশ পুলিশের হাতে দীর্ঘদিন ধরে টাইপ-৫৬ রাইফেল ছিল, যা সাধারণভাবে ‘চাইনিজ রাইফেল’ নামে পরিচিত। এই রাইফেলে ৭.৬২ মিলিমিটার গুলি ব্যবহৃত হয়।”

টাইপ- ৫৬ মূলত সামরিক মানের অস্ত্র উল্লেখ করে তিনি বলেন, এর কার্যকর মারণসীমা অনেক দীর্ঘ লক্ষ্যভ্রষ্ট গুলিও কয়েক শ মিটার দূরের মানুষকে হত্যা করতে পারে। এই ধরনের অস্ত্র সাধারণ পুলিশের হাতে দেওয়া উচিত ছিল না। পুলিশ ও বিজিবির সদস্যদের এই অস্ত্র থেকে গুলি করার ছবি ও ভিডিও রয়েছে বলে দাবি করেন তিনি ফলে ৭.৬২ মিলিমিটার গুলি শুধু অজ্ঞাত কোনো স্নাইপার ব্যবহার করেছে—এমন প্রচারণা সঠিক নয় বলে মন্তব্য করেন উপদেষ্টা। তবে কার গুলিতে কে নিহত হয়েছেন, তা নির্ধারণে সুষ্ঠু তদন্তের প্রয়োজন রয়েছে বলেও জানান তিনি।

গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে সচিবালয়ে তথ্য অধিদপ্তরের সম্মেলন কক্ষে সরকারের সাপ্তাহিক ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।

অন্য এক প্রশ্নের জবাবে ডা. জাহেদ উর রহমান বলেন, রাষ্ট্রপতি দায়িত্বে থাকা অবস্থায় তার বিরুদ্ধে ফৌজদারি কার্যক্রম শুরু বা চালিয়ে নেওয়া যায় না। তবে দায়িত্ব ছেড়ে দেওয়ার পর তার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ নিয়ে আইনগত প্রক্রিয়া গ্রহণ করা যাবে। তিনি বলেন, ‘রাষ্ট্রপতির দায়মুক্তি নিয়ে অনেকের মধ্যে বিভ্রান্তি রয়েছে। রাষ্ট্রপতির পদে থাকা অবস্থায় তিনি বিশেষ সাংবিধানিক সুরক্ষা পান। কিন্তু পদ থেকে চলে যাওয়ার পর দায়িত্ব গ্রহণের আগে বা পরে সংঘটিত কোনো অনিয়ম ও অসদাচরণের অভিযোগ আইনগতভাবে বিবেচনার সুযোগ রয়েছে।’ এই বক্তব্য কোনো নির্দিষ্ট রাষ্ট্রপতিকে উদ্দেশ্য করে নয় উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘এটি যে কোনো রাষ্ট্রপতির ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য একটি সাধারণ সাংবিধানিক ব্যাখ্যা।’

রাষ্ট্রপতিকে ঘিরে ট্রায়াল কোর্ট, হাইকোর্ট ও আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে বিভিন্ন আবেদন বা অভিযোগের প্রসঙ্গ উঠলে তিনি বলেন, ‘আদালত স্বাধীনভাবে কাজ করছে। কোনো মামলা আদালতে গেলে তার বিচারিক প্রক্রিয়া কীভাবে চলবে, সেটি আদালতই নির্ধারণ করবেন।’ তিনি বলেন, ‘সরকার কোনো কোনো মামলায় পক্ষ হয়। আবার অনেক মামলা সরকারের বিরুদ্ধেও হয়। উচ্চ আদালতে অসংখ্য রিটে সরকার পরাজিত হয়। সুতরাং সবকিছু সরকার নিয়ন্ত্রণ করছে এভাবে দেখা ঠিক হবে না।’

একটি আন্তর্জাতিক আয়োজনে বাংলাদেশকে পর্যবেক্ষক হিসেবে আমন্ত্রণ জানানো এবং সেখানে প্রধানমন্ত্রী অংশ নেবেন কি না—এমন প্রশ্নে উপদেষ্টা বলেন, ‘এই বিষয়ে সরকারের উচ্চপর্যায়ে সিদ্ধান্ত নিতে হবে।’ জ্বালানি নিরাপত্তাকে শিল্পায়নের সবচেয়ে বড় পূর্বশর্ত উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘বর্তমানে বিদ্যমান শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলোতেই প্রয়োজনীয় গ্যাস সরবরাহ করা যাচ্ছে না। এই কারণে আপাতত নতুন শিল্পে গ্যাস সংযোগ না দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিতে হয়েছে।’ তিনি আরো বলেন, ‘দীর্ঘদিন দেশীয় গ্যাস অনুসন্ধান ও উত্তোলনে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। এর পরিবর্তে আমদানিনির্ভর তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস বা এলএনজির দিকে ঝোঁক তৈরি করা হয়েছিল।’ বর্তমান সরকার স্থলভাগে গ্যাস অনুসন্ধান, ভোলার গ্যাস জাতীয় গ্রিডে আনা, এলএনজি আমদানি বৃদ্ধি এবং সমুদ্রের গ্যাস অনুসন্ধানের উদ্যোগ নিচ্ছে বলে জানান তিনি। তবে সমুদ্রের গ্যাস অনুসন্ধানের দরপত্র দ্রুত সম্পন্ন হলেও সেখান থেকে গ্যাস উত্তোলনে কয়েক বছর সময় লাগবে। ফলে দীর্ঘদিনের সংকট রাতারাতি সমাধান হবে না।

ব্রিকসের সদস্য হওয়ার জন্য বাংলাদেশের উদ্যোগ অব্যাহত আছে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে তথ্য উপদেষ্টা বলেন, ‘এই বিষয়ে এখনো সুনির্দিষ্ট কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। বাংলাদেশের জনগণের স্বার্থের পক্ষে যায়—এমন সিদ্ধান্তই সরকার নেবে।’ দেশের বাজারে থাকা ৩৪টি টুথপেস্টের নমুনা পরীক্ষা করে ২৬টিতে মাইক্রোপ্লাস্টিক পাওয়া গেছে—এমন একটি ল্যাবটেস্টের বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে তথ্য উপদেষ্টা বলেন, ‘বিষয়টি সরকারের নজরে এসেছে। তবে মাইক্রোপ্লাস্টিক এখন শুধু টুথপেস্টের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নেই। বিভিন্ন উৎস থেকে এটি খাদ্য, পানি এবং পরিবেশে ছড়িয়ে পড়ছে। ফলে একটি পণ্য বা একটি খাতের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিলেই সমস্যার সমাধান হবে না। এজন্য সংশ্লিষ্ট সব মন্ত্রণালয় ও সংস্থার সমন্বিত পদক্ষেপ প্রয়োজন।’

২০১৮ সালের নির্বাচনে দায়িত্ব পালন করা কয়েক জন জেলা প্রশাসক ও যুগ্মসচিবকে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানোর বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে উপদেষ্টা বলেন, ‘সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে বলেনি যে তাদের নির্বাচনি অপরাধের কারণে অবসরে পাঠানো হয়েছে। সরকারি চাকরির বিধান অনুযায়ী, চাকরির বয়স ২৫ বছর পূর্ণ হলে সরকার যে কোনো কর্মকর্তাকে কারণ দর্শানো ছাড়াই অবসরে পাঠাতে পারে।’

একজন মডেলের দায়ের করা অভিযোগ এবং সেই অভিযোগে কয়েক জনের নাম প্রকাশ্যে বলা প্রসঙ্গে তথ্য উপদেষ্টা বলেন, ‘অভিযোগটি তদন্ত করা হবে। তদন্ত শেষে চার্জশিট অথবা চূড়ান্ত প্রতিবেদন দেওয়া হতে পারে। প্রমাণ ছাড়া প্রকাশ্যে কারো নাম বলা উচিত নয়। কারণ এতে ঐ ব্যক্তিকে সামাজিক ও প্রকাশ্য অপমানের মুখোমুখি হতে হয়।’ জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মরণে নির্মিত জাদুঘরের উদ্বোধন নিয়ে তথ্য উপদেষ্টা বলেন, আগামী ৫ আগস্ট এটি উদ্বোধন করা হবে।

জাতীয়

মোটরসাইকেলসহ সব গাড়ির মালিক-চালকদের জন্য বড় সুখবর

মোটরসাইকেলসহ সব ধরনের মোটরযানের কাগজপত্র ও ড্রাইভিং লাইসেন্স জরিমানা ছাড়াই হালনাগাদের সময়সীমা আগামী ২৯ অক্টোবর পর্যন্ত বাড়িয়েছে সরকার। এ সময়ের মধ্যে শুধু মূল কর ও ফি পরিশোধ করে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র হালনাগাদ করা যাবে। মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ) এক জরুরি বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে। বিআরটিএ জানায়, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কোনো জরিমানা ছাড়াই […]

মোটরসাইকেলসহ সব গাড়ির মালিক-চালকদের জন্য বড় সুখবর

ছবি সংগৃহীত

নিউজ ডেস্ক

০২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৯:২৭

মোটরসাইকেলসহ সব ধরনের মোটরযানের কাগজপত্র ও ড্রাইভিং লাইসেন্স জরিমানা ছাড়াই হালনাগাদের সময়সীমা আগামী ২৯ অক্টোবর পর্যন্ত বাড়িয়েছে সরকার। এ সময়ের মধ্যে শুধু মূল কর ও ফি পরিশোধ করে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র হালনাগাদ করা যাবে।

মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ) এক জরুরি বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে।

বিআরটিএ জানায়, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কোনো জরিমানা ছাড়াই মোটরযানের ফিটনেস, ট্যাক্স-টোকেন ও রুট পারমিটসহ প্রয়োজনীয় কাগজপত্র হালনাগাদ করা যাবে। একই সুবিধা পাওয়া যাবে ড্রাইভিং লাইসেন্স নবায়নের ক্ষেত্রেও।

গ্রাহকদের জন্য এটিকে শেষ সুযোগ উল্লেখ করে আগামী ২৯ অক্টোবরের মধ্যে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ও ড্রাইভিং লাইসেন্স হালনাগাদ করে নেওয়ার অনুরোধ জানিয়েছে সংস্থাটি।

এদিকে, গাড়ি বিক্রির পর দ্রুত মালিকানা পরিবর্তনের বিষয়েও সতর্ক করেছে বিআরটিএ। সড়ক পরিবহন আইন, ২০১৮ অনুযায়ী মোটরযান বিক্রির পর মালিকানা পরিবর্তন বাধ্যতামূলক। কিন্তু অনেক ক্রেতা মালিকানা পরিবর্তন না করেই গাড়ি ব্যবহার করছেন। এতে পুরনো মালিককে বিভিন্ন আইনি ও আর্থিক জটিলতায় পড়তে হচ্ছে।

বিআরটিএ জানিয়েছে, মালিকানা পরিবর্তনের প্রক্রিয়া এখন আরও সহজ করা হয়েছে। অনলাইনে আবেদন করার পর বিক্রেতার বায়োমেট্রিক বা আঙুলের ছাপ যাচাই করে একই দিনেই মালিকানা পরিবর্তনের কার্যক্রম সম্পন্ন করা হচ্ছে। নতুন মালিকও ডিজিটাল রেজিস্ট্রেশন সার্টিফিকেটের জন্য বায়োমেট্রিক দিতে পারছেন।

নির্ধারিত নিয়ম অনুযায়ী দ্রুত মালিকানা পরিবর্তন না করলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও সতর্ক করেছে বিআরটিএ।

অন্যদিকে, সড়ক পরিবহন আইন কঠোরভাবে কার্যকরের অংশ হিসেবে ড্রাইভিং লাইসেন্সের পয়েন্ট কর্তনের কার্যক্রমও শুরু হয়েছে। প্রতিটি ড্রাইভিং লাইসেন্সে ১২টি পয়েন্ট থাকে। আইন লঙ্ঘনের ক্ষেত্রে জরিমানা বা কারাদণ্ডের পাশাপাশি চালকের লাইসেন্স থেকে দোষসূচক পয়েন্টও কেটে নেওয়া হচ্ছে।

জাতীয়

বারিধারায় পাকিস্তানি হাইকমিশনারের বাসভবনে আগুন, আইসিইউতে হাইকমিশনার

রাজধানীর বারিধারায় পাকিস্তান হাইকমিশনারের সরকারি বাসভবনে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় হাইকমিশনার ইমরান হায়দার ও তার স্ত্রী নাইমা ইমরান অসুস্থ হয়ে পড়েন। পরে তাদের চিকিৎসার জন্য গুলশানের কন্টিনেন্টাল হাসপাতালে নেওয়া হয়। বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) ভোরে ৪টা ৫৬ মিনিটে আগুনের সংবাদ পায় ফায়ার সার্ভিস। বিষয়টি নিশ্চিত করে ফায়ার সার্ভিসের সদরদপ্তরের মিডিয়া সেলের কর্মকর্তা আনোয়ারুল ইসলাম দোলন বলেন, আজ বৃহস্পতিবার […]

বারিধারায় পাকিস্তানি হাইকমিশনারের বাসভবনে আগুন, আইসিইউতে হাইকমিশনার

ছবি সংগৃহীত

নিউজ ডেস্ক

০৬ আগস্ট ২০২৬, ২২:২৬

রাজধানীর বারিধারায় পাকিস্তান হাইকমিশনারের সরকারি বাসভবনে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় হাইকমিশনার ইমরান হায়দার ও তার স্ত্রী নাইমা ইমরান অসুস্থ হয়ে পড়েন। পরে তাদের চিকিৎসার জন্য গুলশানের কন্টিনেন্টাল হাসপাতালে নেওয়া হয়।

বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) ভোরে ৪টা ৫৬ মিনিটে আগুনের সংবাদ পায় ফায়ার সার্ভিস।

বিষয়টি নিশ্চিত করে ফায়ার সার্ভিসের সদরদপ্তরের মিডিয়া সেলের কর্মকর্তা আনোয়ারুল ইসলাম দোলন বলেন, আজ বৃহস্পতিবার ভোর চারটা ৫৬ মিনিটে গুলশান ডিপ্লোমাটিক এলাকায় অগ্নিকাণ্ডের সংবাদ পেয়ে বারিধারা ফায়ার স্টেশন থেকে দুটি ইউনিট ঘটনাস্থলে যায়।

ফায়ার সার্ভিসের ইউনিট সেখানে গিয়ে দেখতে পায়, রুমে তেমন আগুন নেই তবে ধোয়া ছিল। পরে বালতি ও মগে করে পানি দিয়ে আগুন নিভিয়ে ফেলা হয়।

তিনি বলেন, ফায়ার সার্ভিস পূর্ণাঙ্গ চেক করে মেশিন দ্বারা ধোঁয়া বের করে ফেলে। প্রাথমিকভাবে আগুনের সূত্রপাত সম্পর্কে জানা যায় বাসায় টিভিতে বৈদ্যুতিক গোলযোগের কারণে আগুনের সৃষ্টি হয়।

জানা যায়, আগুন নিয়ন্ত্রণের সময় এবং পর পাকিস্তানি হাই কমিশনার ও তার স্ত্রী মোটামুটি সুস্থ ছিলেন। তবে প্রচণ্ড ধোয়া সৃষ্টি হওয়ার কারণে তারা অসুস্থ হয়ে পড়লে সকাল ৯টার দিকে তাদের গুলশানের কন্টিনেন্টাল হাসপাতালে নেওয়া হয়।

সন্ধ্যার পর কন্টিনেন্টাল হাসপাতালের অ্যাডমিশন বিভাগে যোগাযোগ করা হলে তারা বলেন, আজ সকালে পাকিস্তানি হাই কমিশনার ও তার স্ত্রী হাসপাতালটিতে ভর্তি হয়েছেন। হাইকমিশনের স্ত্রী বর্তমানে ক্যাবিনে এবং হাইকমিশনার নিজে আইসিইউতে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

জাতীয়

মন্ত্রিসভা থেকে বাদ পড়তে পারেন অনেকেই, নতুন করে আলোচনায় যেসব নাম

বিএনপি সরকারের প্রথম ছয় মাস পূর্ণ হতে যাচ্ছে আগামী ১৬ আগস্ট। এ সময়কে সামনে রেখে মন্ত্রিসভা পুনর্গঠনের বিষয়ে সরকারের ভেতরে জোর আলোচনা চলছে। সরকার ও দলীয় সূত্রের দাবি, কর্মদক্ষতা, প্রশাসনিক সক্ষমতা, জনসম্পৃক্ততা এবং ভাবমূর্তির মূল্যায়নের ভিত্তিতে মন্ত্রিসভায় বড় ধরনের পরিবর্তন আসতে পারে। এতে কয়েকজন মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রী বাদ পড়ার পাশাপাশি নতুন মুখ যুক্ত হওয়ার সম্ভাবনাও […]

মন্ত্রিসভা থেকে বাদ পড়তে পারেন অনেকেই, নতুন করে আলোচনায় যেসব নাম

ছবি সংগৃহীত

নিউজ ডেস্ক

০৪ আগস্ট ২০২৬, ১১:৫৯

বিএনপি সরকারের প্রথম ছয় মাস পূর্ণ হতে যাচ্ছে আগামী ১৬ আগস্ট। এ সময়কে সামনে রেখে মন্ত্রিসভা পুনর্গঠনের বিষয়ে সরকারের ভেতরে জোর আলোচনা চলছে। সরকার ও দলীয় সূত্রের দাবি, কর্মদক্ষতা, প্রশাসনিক সক্ষমতা, জনসম্পৃক্ততা এবং ভাবমূর্তির মূল্যায়নের ভিত্তিতে মন্ত্রিসভায় বড় ধরনের পরিবর্তন আসতে পারে। এতে কয়েকজন মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রী বাদ পড়ার পাশাপাশি নতুন মুখ যুক্ত হওয়ার সম্ভাবনাও রয়েছে।

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়-সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, গত ছয় মাসে মন্ত্রীদের কার্যক্রম নিয়ে সরকার অভ্যন্তরীণ মূল্যায়ন করছে। বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের কাজের অগ্রগতি, প্রশাসনিক দক্ষতা, জনসেবামূলক কার্যক্রম এবং সরকারের ভাবমূর্তি রক্ষায় ভূমিকা পর্যালোচনা করা হচ্ছে। বিশেষ করে যেসব মন্ত্রী বিতর্কে জড়িয়েছেন বা প্রত্যাশিত কর্মদক্ষতা দেখাতে পারেননি, তাদের বিষয়ে আলাদা করে আলোচনা চলছে।

সূত্রগুলো জানায়, বর্তমানে ২৪ জন মন্ত্রী ও ২৪ জন প্রতিমন্ত্রীর পারফরম্যান্স মূল্যায়ন করা হচ্ছে। সেই মূল্যায়নের ফলাফলের ভিত্তিতেই মন্ত্রিসভায় রদবদলের সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে। পাশাপাশি গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পুনর্বণ্টন এবং প্রয়োজনে মন্ত্রিসভার আকারও বাড়ানো হতে পারে।

সরকারের উচ্চপর্যায়ে টেকনোক্র্যাট, অতিরিক্ত উপদেষ্টা এবং অভিজ্ঞ রাজনৈতিক ব্যক্তিদের অন্তর্ভুক্তির বিষয়েও আলোচনা রয়েছে। একই সঙ্গে দলের ত্যাগী ও পরিচ্ছন্ন ভাবমূর্তির নেতাদের পাশাপাশি তরুণ সংসদ সদস্যদেরও মন্ত্রিসভায় দায়িত্ব দেওয়ার বিষয়টি বিবেচনায় রয়েছে।

রাজনৈতিক সূত্রে জানা গেছে, রাষ্ট্রপতি বা স্পিকার পদে নতুন নিয়োগ না হলে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, ড. আব্দুল মঈন খান এবং সেলিমা রহমানের নাম সম্ভাব্য মন্ত্রী হিসেবে আলোচনায় রয়েছে।

এ ছাড়া নতুন মুখ হিসেবে বিএনপির মিডিয়া সেলের আহ্বায়ক অধ্যাপক ডা. মওদুদ হোসেন আলমগীর পাভেল, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, জাতীয় সংসদের হুইপ এ বি এম আশরাফ উদ্দিন নিজান এবং রকিবুল ইসলাম বকুলের নামও বিভিন্ন মহলে আলোচিত হচ্ছে।

সরকারের শরিক ও সমমনা রাজনৈতিক দলগুলোর কয়েকজন নেতাকেও মন্ত্রিসভায় অন্তর্ভুক্ত করার আলোচনা রয়েছে। এ তালিকায় নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্না, সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার আন্দালিব রহমান পার্থ, শাহাদাত হোসেন সেলিম এবং বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হকের নাম বিভিন্ন সূত্রে উঠে এসেছে।

মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ-সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, বর্তমানে অন্তত ১২ জন মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রী একাধিক মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পালন করছেন। অতিরিক্ত দায়িত্বের কারণে কিছু মন্ত্রণালয়ের স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে বলে মনে করছে সরকার। সে কারণেই দায়িত্ব পুনর্বণ্টনের বিষয়টিও গুরুত্ব পাচ্ছে।

সরকারি সূত্রগুলোর ভাষ্য, মন্ত্রীদের মূল্যায়নে নির্বাচনী ইশতেহার বাস্তবায়নের অগ্রগতি, প্রশাসনিক জটিলতা নিরসন, জনদুর্ভোগ কমাতে নেওয়া উদ্যোগ, মাঠ প্রশাসনের ওপর নিয়ন্ত্রণ, দ্রুত সিদ্ধান্ত গ্রহণের সক্ষমতা এবং জাতীয় সংসদে সক্রিয় অংশগ্রহণের মতো বিষয়গুলো বিবেচনায় নেওয়া হচ্ছে।

মন্ত্রিসভায় থাকা বিএনপির স্থায়ী কমিটির এক সদস্য বলেন, কয়েকজন মন্ত্রী একাধিক মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব সামলাতে হিমশিম খাচ্ছেন। অন্যদিকে, কিছু প্রতিমন্ত্রী তুলনামূলক ভালো পারফরম্যান্স দেখিয়েছেন। পুনর্গঠনের ক্ষেত্রে তাদের পূর্ণ মন্ত্রীর দায়িত্ব দেওয়া হতে পারে। পাশাপাশি সংসদ সদস্য, বিএনপি এবং সমমনা রাজনৈতিক দলের কয়েকজন নেতাও টেকনোক্র্যাট কোটায় মন্ত্রিসভায় যুক্ত হতে পারেন। তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবেন প্রধানমন্ত্রী।